আমি ধার্মিক, আমি মহাবিপ্লবী

প্রকাশিত: জুলাই ১৭, ২০১৫

কাল বটমূলে ঘুমাইয়া পথিক ভুলিয়াছে তাহার গন্তব্য

‘হেথায় ঘর বাঁধিয়া সুখেই রহিয়াছি’, কী অমূলক মন্তব্য !

ওরে, দুয়ারে দুয়ারে আজি অযুত কাঙ্গাল মাঙ্গিতেছে ভিখ,

জাহাজ ভাঙ্গিয়া খান খান, যাত্রী ছুটিতেছে দিগ্বিদিক ।

অথৈ পাথারে মর মর জাতি, সহোদর ভাই-বোন,

তাহার উপরে ছাপিয়াছে ঘূর্ণিঝড়-মহা সাইক্লোন !

খড়-কুটা আঙ্গুলে আঁকড়াইয়া, বাঁচিবার কি আকুতি!

অন্দরে ঢুকিয়া তসবিহ জপিতেছো, সাজিয়াছো বেশ বাবুটি !

ভীরু-কাপুরুষ, ঢুকিয়াছো মসজিদ-মন্দির-প্যাগোডায়?

দেখেনি চক্ষুদ্বয়, হয়নি কর্ণপাত? মানুষ মরিতেছে হায় !

কোথায় সেবিলে জীব, তুমি কোথায় সেবিলে ঈশ্বর?

হায়রে মূর্খদল ! চতুষ্পদী কি শ্রেষ্ঠ জীব মানুষের উপর?

কাঙ্গালের কথা কে শুনিবে? কাঙ্গাল হইয়াছে সকলে-

কেহ কাঙ্গাল অর্থসংকটে, কেহবা স্থূল আকলে ।


রে রে রে দেখে যা, দেখে যা, কান্ড ঘটিলো বিরাট !

মনুষ্যজাতির একি হাল, মনুষ্যত্ব হইয়াছে লোপাট !

মানবতাহীন নির্দয় প্রাণী মুখেতে ভালো মানুষীর মুখোশ,

মনুষ্য জয় ! মনুষ্য জয় ! প্রতিবেশী তাহার উপোস ।

মানুষে মানুষে খুনোখুনি আর হিংস্রতায় লহু সিক্ত ধরণী,

দুর্বল-মজলুমের আর্তনাদ পার পায়নি’ক বিবেকের সরণি ।

আত্ম, স্বার্থ আর যান্ত্রিকতার যাঁতাকলে পিষ্ট মানবতা-

শাসক-শোষকের হুংকারে সর্ব কাঙ্গালের এতো নীরবতা ।

মরিয়াছে কাঙ্গাল, মরিছে কাঙ্গাল সে পানে হুশ নাহি আর-

শোষিত-নিষ্পেষিত শ্রমী-দাস, লাথি-গুঁতাই প্রাপ্য তাহার ।

‘ন্যায়ের স্বর্গ আকাশে তোলা থাক’, অন্যায়ে যে পেট পুরে-

তাহার আবার অধিকার কিসের? দাবি কিসের বেসুরা সুরে?

মানুষ হইয়া বাঁচিতে শিখেনি, কাঙ্গাল শিখিয়াছে মানুষ সাজিতে

জনাধিকের টাকা লুটিতে শিখিয়াছে লটারী-জুয়া-বাজিতে ।


সত্য গঠিতে একজোট নহে উহারা, খসিলে হয় একজোট;

অল্পে তাহাদের তুষ্টি অনেক - সস্তায় বিক্রি জনতার ভোট ।

রাজ্যশাসনে অব্যাহতি মেলে খুচরো পয়সার উৎকোচে,

রাজ্যের আয় মন্ত্রী পকেটে গুজিলো একদম বিনা সংকোচে ।

‘মরুক গে সব আমজনতা, দরদইবা এতো কিসের;

বিনিয়োগ কি কম করিয়াছি? কিনিতে পয়সা নাহি বিষের ।’


‘জাগিবেনা জাগিবেনা উহারা, হইবেনা উহাদের বোধোদয়-

নির্বোধ জাতিরে জাগাইবে কী দিয়া, অগত্যা বুলির অপচয় ।’

জাগিবে জাগিবে, জাগিবেনা কেনো, বিপ্লবে করিবো মহাজাগরণ;

সত্যরে করিতে জয়, করিবো প্রাণক্ষয়, শৌর্যে ছেদিবো সন্ধিক্ষণ ।

বিপ্লব আসিয়াছে যুবার বাহুতে, নারীর প্রেরণায় - ইতিহাস সাক্ষী;

কালের প্রয়োজনে ফের জাগিয়া উঠিবে অজেয়, দুর্বার বজ্রশক্তি ।

যোগাসন ভেদিয়া যোগী-ভান্তেরা সেদিন রচনা রচিবে মহাবূহ্যের,

সেদিন সালাহ ভেদিয়া্ এক কাফেলা গড়িবে, ঘোষিবে সত্যযুদ্ধের ।

জপমালা-তসবীর গিঁটে বাঁধিবে গিঁট ঐক্য-সাম্য-ভ্রাতৃত্বের;

সহোদর অসাম্প্রদায়িক মোরা মানবজাতি, সূত্র এক মাতৃত্বের ।

ধর্ম স্থাপনায়, ফের শান্তি প্রতিষ্ঠায় আমি জাগাইবো সত্যরবি-

আমাতে রহিয়াছে ধর্মবিশ্বাস, আমি ধার্মিক, আমি মহাবিপ্লবী ।