ধর্ম ও রাজনীতির চিরায়ত রসায়নের সারকথা

প্রকাশিত: মার্চ ০৫, ২০২০
খন্ড-অখন্ড ভারতবর্ষের হিন্দু-মুসলিমদের মধ্যে ধর্মীয় বিভাজন যেকোন সময় ফলপ্রসূ। ভারতবর্ষে রক্তগঙ্গা বইয়ে দেবার জন্য, কোনো সময়ই অত্যাধুনিক মিলিয়ন ডলারের পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপ করার প্রয়োজন হয়নি এবং হবেও না। বরং গরুর কসাইয়ের দোকান থেকে কাটা গরুর পা মন্দিরে রেখে আসুন কিংবা মসজিদের রেলে রাখা কোরআনে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করুন। দেখবেন, পরদিন স্বল্প খরচে ঐ এলাকায় রক্তগঙ্গা বইয়ে দিতে পেরেছেন। তিলে তিলে গড়ে উঠা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নিমিষেই উধাও। 


আর এই সুযোগটা সবসময় নিয়েছে তৃতীয়পক্ষ, যাদের কাছে ধর্মের মর্মকথার চাইতে ক্ষমতালিপ্সু সত্তার প্রভাব ও কর্তৃত্ব অধিক। অতীতে ব্রিটিশরা এই চমৎকার কৌশল অবলম্বন করে স্বদেশকে তারা উন্নত করেছে। কিন্তু বর্তমানে রাজনৈতিক নেতা, হোক সে ধর্মীয় ব্যানারে, একই কৌশল অবলম্বন করে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভোটব্যাংকে নিজেদের সর্বদা এগিয়ে রাখতে কার্পণ্যবোধ করছে না।

ব্রিটিশদের সাথে এদের পার্থক্য শুধু একজায়গায়। ব্রিটিশরা ধর্মীয় বিভাজন, দাঙ্গা বাঁধিয়েছে কেবলমাত্র নিজেদের সুবিধা আদায়ের জন্য। কিন্তু বর্তমান রাজনৈতিক ও ধর্মীয় শাসক শ্রেণিটি নিজেদের স্বার্থ আদায়েই কেবল সীমাবদ্ধ নয়, পরমেশ্বরের কাছে মহান এই ধর্মীয় কাজের বিনিময়ে মহাপুণ্যি কামনা করে।

এর ঊর্ধ্বে যারা, তারা শুধুই শান্তি-সম্প্রীতি চায়, এরাই আবার সব পাড়েই সংখ্যালঘিষ্ঠ। এদের ভোটের সংখ্যা কম, তাই এদের বক্তব্য শাসক শ্রেণিটির কর্ণপাত পর্যন্ত পৌঁছায় না। এরা গোঁড়া ধর্মীয় শ্রেণিটির লাথি-গুঁতা খায়, আবার ব্রাহ্মণ-মৌলবীরা এদেরকে সবসময় আড়চোখে তাকায়।

অনেকসময়ই পুষ্পকোমল চরিত্রের এই মানুষগুলোর কাছে ধীরে ধীরে ধর্ম হয়ে উঠে আফিমতুল্য। মত-বিশ্বাসের অবহেলায়, অগ্রাহ্যতায় আর দ্বৈতসত্তার সাংঘর্ষিকতায় মানবিক ঈশ্বর হারিয়ে যায় ধর্মগ্রন্থের শ্লোকে শ্লোকে।

যারা দাঙ্গাবাজ, তারা ওদের দেখে রি রি করে বলে উঠে - নাস্তিক তুই, নরকে যাবি!

মানবিক ঈশ্বরকে হারিয়ে ফেলা মানুষটি মনে মনে হেসে বলে - যে স্বর্গে তোমাদের মতো মানুষের বসবাস, সে স্বর্গের চাইতে নরকে যাওয়ায় আমার কাছে স্বর্গতুল্য।

হাসিটা যথার্থই। তাদের এই হাসি জ্ঞাতসারে বকধার্মিকদের মুখে চপটেঘাত আবার অজ্ঞাতসারে হয়তো পরমেশ্বরের সাথে সুপ্ত অভিমান দুই-ই ব্যক্ত করে, কে জানে!

[বি.দ্র. আমার এই লেখাটি সামুতে প্রকাশিত]