বাংলাদেশে দুর্নীতি ও উত্তোরণের উপায়

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ০২, ২০২০

সম্ভবত আমাদের দেশেই প্রতি কিলোমিটার রাস্তা পাকা করতে যে খরচ হয়, সেটি আর অন্য দেশে হয় না। 

শুধু রাস্তা তৈরি বা পাকাকরণে নয়, সরকারি বাজেটে যেকোন প্রজেক্ট বাস্তবায়ন করতে খরচ হয় মূল খরচের কয়েকশ গুণ। কেন এত বেশি খরচ হয় সেটা দেশের প্রান্তিক জনগণ পর্যন্ত খুব ভালো ভাবেই জানে। দুর্নীতি আমাদের দেশটাকে গিলে ফেলেছে সেখান থেকে পরিত্রাণ কেউ চাইলেও যেন অসম্ভব। এই পুরো দুর্নীতিচক্রে মন্ত্রী-এমপি থেকে শুরু করে অফিসের অফিসবয় পর্যন্ত জড়িত। 

বাংলাদেশে দুর্নীতি ও উত্তোরণের উপায়
ছবি: সিলেটের ডাক

যেই দুদককে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিলো দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার ও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে, সেই দুদকই আজ দুর্নীতিগ্রস্থ। এটাই প্রমাণ করে দিয়েছে দুর্নীতি কিভাবে জেঁকে বসেছে এখানে। 


এই পুরো সিস্টেমের বিরুদ্ধে গিয়ে সরকার প্রধান যদি চায়ও দুর্নীতি রোধ করতে, কখনোই পারবেন না। কারণ, গণতান্ত্রিকব্যবস্থায় সরকার প্রধান একনায়কতন্ত্রের মত ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ ও নিরুপায়। আবার মন্ত্রিসভা ও সম্পর্কিত সকল প্রতিষ্ঠানে নিযুক্ত ব্যক্তিদের সম্পূর্ণ সেজে ঢালাতে গেলে নিজের অবস্থানই যেকোন সময় পরিবর্তন হয়ে যেতে পারে। এরকম বোকামি চিন্তা কোনো সরকারই করে না, করবেও না। যে সরকারই ক্ষমতায় আসুক, সবাই বাকিদের নিয়ে সমঝোতা করে চলে। গণতান্ত্রিক রাজনীতি ও ক্ষমতায়নে এই সমঝোতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। 

আপাতদৃষ্টিতে বাস্তবিক অর্থে (Practically) দুর্নীতি রোধের কোনো সমাধানই নেই। কিন্তু প্রচলিত সিস্টেমের বিরুদ্ধে গিয়ে নতুন সিস্টেমের বিপ্লবের মাধ্যমে সম্ভব। যে সিস্টেম স্ব স্ব ধর্মবিশ্বাস ও অন্যান্য ইথিকসের মাধ্যমে মানুষের চারিত্রিক গঠনে ব্যাপক পরিবর্তন নিয়ে আসবে এবং পাশাপাশি এমন এক সিস্টেম প্রতিষ্ঠা করবে যেখানে প্রকৃত অর্থেই থাকবে শান্তি, সাম্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ। এখন প্রশ্ন হলো - সেই বৈপ্লবিক সিস্টেম কারা প্রতিষ্ঠা করবে? কিভাবে করবে? 

এই প্রশ্নের সরাসরি উত্তর নেই। বিপ্লব সবসময় সবাইকে আগামবার্তা দিয়ে আসে না। আমি ব্যক্তিগতভাবে ঐশ্বরিক সাহায্য ছাড়া অন্যকিছু কল্পনা করতে পারছি না। 

এমন যদি হয়, ধীরে ধীরে বর্তমান মানুষগুলোর চরিত্রে অলৌকিক পরিবর্তন আসছে। তখন হয়তো সম্ভব, এই দুর্নীতিগ্রস্থ ব্যবস্থা সমূলে বিনাশ করা।