দিনশেষে জনসংখ্যার বৃহৎ অংশই ধর্মান্ধ

প্রকাশিত: নভেম্বর ০৩, ২০২০

কতিপয় মোল্লার অপকর্মের বিরুদ্ধে কথা বললে উগ্র সনাতনীরা খুশি হয় আর বলে - তোমাদের ইসলামটাই এরকম! 

আর কতিপয় গোঁড়া হিন্দুর অপকর্মের বিরুদ্ধে বললে উগ্র মুসলিমরা খুশি হয় আর বলে - তোমাদের সনাতনটাই এরকম! 

হিন্দু মেয়েকে বিয়ে করে মুসলিম বানালে হয় 'লাভ জিহাদ', মুসলিমরা গদগদ হয়ে বলে 'আলহামদুলিল্লাহ'।

আর মুসলিম মেয়েকে বিয়ে করে হিন্দু বানালে কী বলা হয় জানি না, কিন্তু হিন্দুরা গদগদ হয়ে বলে, 'সাধু সাধু! তালাকের ভয়ে বোনটি সনাতন ধর্ম গ্রহণ করেছে'। 

কট্টর মুসলিমরা 'আল্লাহু আকবার' বলে সংখ্যালঘু হিন্দুদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে আর কট্টর হিন্দুরা বলে 'জয় শ্রী রাম'! 

দিনশেষে জনসংখ্যার বৃহৎ অংশই ধর্মান্ধ
আসল কথা হলো, এই দুই শ্রেণির মধ্যে মানসিকতার দিক থেকে কোনোই পার্থক্য নেই। এরা বাস্তবজীবনে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি মানিয়ে চলার অভিনয় করে আর সুযোগ পেলেই হয়ে যায় একেকটা হিংস্র হায়েনা। 

ফেসবুকের বদৌলতে এই দুই শ্রেণির মুখোশটা দেখার সুযোগ হয়েছে। অন্তত এই জায়গায় তারা প্রায়ই মুখোশটা ধরে রাখতে পারে না। 

এদের একটা বড় দুর্বলতা বলে দিই। এরা নিজ স্রষ্টা, পরকাল ইত্যাদির প্রতি খুব একটা আত্মবিশ্বাসী না। প্রায়ই সংশয়ে ভুগে। এরা সংখ্যায় বিশ্বাসী। এরা গোশতে, হাড়ে, পাতায়, আকাশে, বাতাসে, সমুদ্রের নীচে, কোরআন-মূর্তির অক্ষয় ইত্যাদির মধ্যে হারিয়ে যাওয়া বিশ্বাস ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করে। এরাই তারা, যারা ধার্মিক সাজার চেষ্টা করে কিন্তু কখনো ধার্মিক হতে পারে না। 

পৃথিবীতে কখনো যদি সত্যি সত্যিই ধর্ম-অধর্মের যুদ্ধ হয়, তবে এই শ্রেণিটি অবশ্যই অধর্মের কাতারে পড়বে, তারা মানুক আর না মানুক, তারা জন্মগতভাবে মুসলিম-হিন্দু-বৌদ্ধ যাইহোক না কেন।