হিউম্যাশিন

প্রকাশিত: জানুয়ারী ০১, ২০১৬

আমার দ্বিমত মানুষকে মানুষ বলায়,

বস্তুবাদী সভ্যতার পরকীয়ার ফলস্বরূপ -

আমরা মানুষ থেকে হয়েছি হোমো স্যাপিন্স ।

বেখেয়াল আর ইগোতে ভরপুর

সেটা বিজ্ঞান নয়, অজ্ঞেয় থেকে অহংকার !

'সার্ভিভাল ফর ফিটেস্ট' স্লোগান দিয়ে

আমায় ছুঁড়েছে কম্পোষ্ট ভাগারে ।

আমি তখনও এক বিশ্বাসকে অস্বীকার করে

তোমায় করেছি অন্ধবিশ্বাস,

কারণ আমাকে জানিয়েছো -

আমি মানুষ নই, হয়তো অন্যকিছু ।


যখন সাইকোলজিস্ট আমার মন বুঝেছে,

অথচ বিহ্যাভারিস্টের মন্ত্র

অলখে লুকানো হৃদয় অস্বীকার করে

আমায় বানিয়েছে মানবযন্ত্র !

আমাতে করুণা নেই, ভালোবাসা নেই,

নেই সহানুভূতি - আবেগ – উল্লাস,

আমাতে নেই স্বপ্ন দেখার সাধ-আহ্লাদ,

একটু শান্তিতে বাঁচার তীব্র অভিলাষ ।

সবই হরমোনের নিঃসরণ

আর গ্রন্থির সংকোচন-প্রসারণ ।

আমি যে স্রেফ কোষের পূর্ণতা,

আজ যেনো তাও নেই;

কোষ এনক্রিপ্ট হয়ে পরিণত হয়েছে

কম্পিউটিং কোডে ।

সব স্পন্দন আজ বিট-বাইটে আবদ্ধ,

একসময়ের নিঙ্গরানো স্মৃতিগুলো

এখনতো মেমোরির স্টেকে রুদ্ধ ।


তোমরা আর ওটাকে মস্তিষ্ক বলোনা,

ইন্ট্রিগাল সার্কিট বলতে পারো ।

আমি হয়েছি আত্মকেন্দ্রিক;

আজকাল অন্যের জন্য খুব ভাবতে পারিনা ।

পারবো কেমনে?ভাবনাগুলো যে আজ

কয়েক জিবি র্যামে সীমাবদ্ধ ।

আমি আর কারো কষ্টে কাঁদিনা,

কিছু করার প্রচেষ্টায় ছুটিনা দিগ্বিদিক ।

কারণ প্রসেসরের প্রোগ্রাম বড়ই কর্পোরেট,

বড়ই লজিক !


যা দেখি আজ তাই বিশ্বাস করি,

অথচ এ সভ্যতার সূত্রপাত

এক অন্ধবিশ্বাসকে কেন্দ্র করে;

যার মাসুল আজও দিয়ে চলেছি ।

অস্বীকৃত আত্মা মরতে বসেছে

আমাদের যান্ত্রিক পিষ্টাঘাতে,

এতো সভ্যতা নয়, সভ্যতার মুখোশে

মানুষকে যন্ত্র করার যান্ত্রিক প্রগতি ।