যে বক্তব্যের আঘাত বিদীর্ণ করেছে অন্ধকার প্রকোষ্ঠ, বেরিয়ে আসছে নূর

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২৭, ২০২০

অতিমূল্যবান একটা বস্তু পেয়ে সেটাকে অতি দামি বলে তার মর্যাদা দিতে একদল মানুষ সেটাকে নিয়ে একটা গর্তে আবদ্ধ হয়ে গেল। অথচ বস্তুটা এমনই আশ্চর্য গুণসম্পন্ন যে এর থেকে ছড়ানো দ্যুতি দিয়ে পুরো অন্ধকার দুনিয়াকে আলোকিত করা যায়। ঐ গর্তবাসীরা একে সারা পৃথিবী আলোকিত না করে একে গর্তে ঢুকিয়ে এর অবমাননা, অপব্যবহার করা শুরু করে দিল। এভাবে অনেক কাল যাওয়ার পর এক ব্যক্তি মনে করলো তারা কি বোকামীটাই না করছে। যে আলো দিয়ে দুনিয়া আলোকিত করা যায় তারা সেই আলো দিয়ে কেবল গর্তকে আলোকিত করছে। তখন সেই ব্যক্তি গর্তবাসীদেরকে ডেকে এখান থেকে বের হওয়ার জন্য বলল। কিন্তু তারা কথা শুনলো না। তারা বললো, আমরা এখানেই এই বস্তুটা নিয়ে ভালো আছি। 

যে বক্তব্যের আঘাত বিদীর্ণ করেছে অন্ধকার প্রকোষ্ঠ, বেরিয়ে আসছে নূর

বস্তুটার প্রধান প্রধান রক্ষকরা এর গুনাগুণ বর্ণনা করে অনেক কিতাব লিখলেন, সুন্দর সুন্দর ভাষা ও বিশেষণ বর্ণনা করে সুরেলা কণ্ঠে বক্তৃতা দিতে লাগলেন। শ্রোতা দর্শকরা সেসব শৈল্পিক বর্ণনা শুনে খুশি হয়ে তাদেরকে উপহার উপঢৌকন দেওয়া শুরু করল। এক সময় বস্তুটার গুনাগুণ ও এর মাহাত্ম্য আবিষ্কার করার জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালু হলো। সেখান থেকে আরো পারদর্শী গবেষক ও বক্তাদের জন্ম হলো। প্রতিষ্ঠান থেকে তাদেরকে নানা ধরনের উপাধি প্রদান করা হলো। বক্তাদের মধ্যে কে কত সুন্দর করে কোকিলা কণ্ঠে বক্তব্য দিতে পারে তা নিয়ে প্রতিযোগিতার সৃষ্টি হলো। বক্তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী এক সময় পারিতোষিক রেট নির্ধারিত হলো। বক্তাদেরকে অগ্রিম বুক করার জন্য অগ্রিম টাকা প্রদানের ব্যবস্থা চালু হলো। সেসব নিবন্ধিত করে রাখার জন্য বক্তারা ডায়েরি সংরক্ষণ করা শুরু করলেন। 

এসব নামী দামি বক্তাদের বক্তব্যের কিছুটা আওয়াজ গর্তের বাইরেও শোনা যাওয়ায় গর্তের বাইরের লোকেরাও বক্তাদেরকে দাওয়াত দিয়ে বাইরে নিয়ে গেলেন। বক্তারা সেখানে গিয়েও এর গুনাগুণ বর্ণনা করলেন। কিন্তু তারা ভুলেও বললেন না যে এই বস্তু থেকে ছড়ানো দ্যূতি দিয়ে পৃথিবীর প্রতিটি গৃহকোণকে আলোকিত করা যায়। এত বড় মহত্ব, এত বড় উদারতা তাদের মাঝে তৈরি হলো না। কারণ, তারা মনে করছে এটা আমাদের কাছে রেখে আমরা ভালো আছি। আমাদের অর্থবিত্ত, সম্মান প্রতিপত্তি তৈরি হচ্ছে। এটাকে বাইরের দুনিয়ার কাছে কিছুতেই হাতছাড়া করা যাবে না। 

এ অবস্থায় ওদেরকে ওখান থেকে বের হতে ডাকা ব্যক্তি চিন্তা করে দেখলেন, এ মহামূল্যবান বস্তুটি যেখানে সারা পৃথিবীকে আলোকিত করতে পারে সেখানে এটাকে একটা গর্তে রেখে দেওয়াটা অন্যায়। আল্লাহর নেয়ামতের এ এক পড় অপচয়। একে দিয়ে দুনিয়া আলোকিত করাই যুক্তিযুক্ত। যে করেই হোক এটাকে বাইরে নিয়ে আসতেই হবে। তার উপর্যুপরি আহ্বানে যখন তারা সাড়া দিল না তখন তিনি তাদেরকে গর্ত থেকে বের করতে ঐ গর্তের মুখে মরিচ পুড়ে দিলেন। 

মরিচ পোড়া গন্ধে গর্তবাসীদের ভেতরে টেকা দায় হয়ে পড়ল। সবচেয়ে বেশি নাখোশ হলেন সেই বস্তুটির প্রধান রক্ষকেরা। তারা চিন্তা করলো তাদের সাধের ব্যবসায় ভাটা পড়েছে। যে ব্যক্তি এ কাজ করলেন তাকে তারা আস্ত চিবিয়ে খাওয়ার হুমকি দিল, তাকে জ্যান্ত পুতেঁ ফেলার ঘোষণা দিল। তিনি যে গর্তবাসীদের মহাশত্রু সেটা প্রমাণ করে দিতেও তাদের বিশেষ কষ্ট হলো না। 

প্রিয় পাঠক, কল্পিত গল্পের বস্তুটাকে ধরে নিন পুরো মানবজাতির জন্য আল্লাহর পাঠানো পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান আল কোরআন আর এর রক্ষকগণের স্থানে বসান এই ইসলামের নাম করে দুনিয়া কামাই করা ধর্মব্যবসায়ীদের। গর্তের মুখে আগুন দেওয়া ব্যক্তিটি এক্ষেত্রে হেযবুত তওহীদ কিনা তা যাচাই করতে নিচের ভিডিও বক্তব্যটি মনোযোগসহকারে দেখার অনুরোধ রইল। বক্তব্যটির লেংথ ১ ঘন্টা ২৮ মিনিট। সুতরাং এটুকু সময় নিয়ে বক্তব্যটা দেখতে হবে। আশা করি বোরিং ফিল হবে না।