পাগলের সাঁকো নাড়ানো ও পিছিয়ে পড়া রাষ্ট্রগুলো

প্রকাশিত: অক্টোবর ২৮, ২০২০

পাগলের সাঁকো নাড়ানো ও পিছিয়ে পড়া রাষ্ট্রগুলো
দিনশেষে পিছিয়ে পড়া রাষ্ট্রগুলো কাউকেই আপন করে পায় না। সংকটে যারাও এগিয়ে আসে, তাদেরও থাকে স্বার্থ। বিশ্ব রাজনীতিতে নিরপেক্ষ নীতিতেই টিকে থাকে এই পিছিয়ে পড়া রাষ্ট্রগুলো। এরা না পারে এদের পক্ষ নিতে, না পারে ওদের পক্ষ।

এই বিষয়টা এসব রাষ্ট্রনেতাদের কাছে সুস্পষ্ট কিন্তু জনগণের কাছে পুরোটা নয়। জনগণের হৈ-হুল্লোর পাগলের সাঁকো নাড়ানোর মতই। আর পাগলসমেত এই সাকোটাকে নিয়ন্ত্রণ করতে রাষ্ট্রনেতাদের কি হিমশিম খেতে হয়, সেটা বুঝলে পাগল হয়তো সাঁকো নাড়াতো না। 

বর্তমান এই বিশ্বায়নে চীনের এগিয়ে যাওয়াটা আজ সারাবিশ্বের কাছে বড় আশ্চর্য্যজনক। কিন্তু চীনও একসময় পিছিয়ে পড়া রাষ্ট্র ছিলো। বিশ্বযুদ্ধের প্রভাব তাদেরকেও ছিন্নমূল করে ফেলেছিলো। চীনের সমাজতন্ত্র নিয়ে সেসময় ইউরোপের দেশগুলোতে হাসাহাসি করা হতো। আমেরিকার স্কুলগুলোতে চীনা ছেলেমেয়েদের প্রচন্ড বৈষম্যের শিকার হতে হতো। উপহাস, অবহেলা সবকিছুকে ছাপিয়ে চীনের রাষ্ট্রনেতা ও জনগণ সম্মিলিতভাবে একটা সিদ্ধান্ত নিতে পেরেছিলো । সেটা হলো স্বাতন্ত্রিকভাবে তাদের রাষ্ট্রকে সবদিক থেকে পরাশক্তিধর রাষ্ট্রে পরিণত করা। শেষ পর্যন্ত তারা পেরেছে কিনা, তা আমরা নিজের চোখেই দেখছি। এখন চীন পৃথিবীর পরাশক্তিধর রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে একটি।

চীনের প্রসঙ্গ এজন্যই টানলাম, একটা রাষ্ট্র ও জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারলে একটা পিছিয়ে পড়া রাষ্ট্রও একসময় স্বয়ংসম্পূর্ণ ও পরাশক্তিধর রাষ্ট্রে পরিণত হতে পারে।

তখন আর সেই রাষ্ট্রকে নিরপেক্ষতা বজায় রেখে চলতে হবে না। ন্যায়কে ন্যায়, অন্যায়কে অন্যায়; সাদাকে সাদা আর কালোকে কালো বলতে আর বাঁধা থাকবে না। আর পাগলদের সাঁকো নাড়ানোতেও তেমন কোনো সমস্যা হবে না। কারণ সাঁকোটা তখন অসম্ভব মজবুত।