অমুসলিমদের প্রতি মুসলিমদের আচরণ কেমন হওয়া উচিত?

প্রকাশিত: অক্টোবর ১৮, ২০২০

অমুসলিমদের প্রতি মুসলিমদের আচরণ কেমন হওয়া উচিত
রাজনৈতিক ও ব্যক্তি স্বার্থের কারণে বিভিন্নভাবে সাধারণ ধর্মপ্রাণ মুসলিমদের মনে অন্যান্য ধর্মের মানুষদের প্রতি বিষেদাগারের বিষবাষ্প ঢুকিয়ে দেয়া হয়। এটা ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকে চরম অন্যায় ও হারাম। 


আল্লাহ এই ব্যাপারে যে হুকুম দিয়েছেন তাহলো - 

যারা দ্বীনের ব্যাপারে তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেনি এবং তোমাদেরকে তোমাদের ঘর-বাড়ি থেকে বহিষ্কার করেনি, তাদের সঙ্গে সদাচরণ করতে ও তাদের প্রতি ইনসাফ করতে আল্লাহ তোমাদেরকে নিষেধ করেন না। নিশ্চয়ই আল্লাহ ইনসাফকারীদেরকে ভালোবাসেন। আল্লাহ  তো তোমাদের তাদের সাথে বন্ধুত্ব করতে নিষেধ করেছেন, যারা দ্বীনের ব্যাপারে তোমাদের সাথে যুদ্ধ করেছে, তোমাদেরকে তোমাদের ঘর-বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে এবং তোমাদেরকে বের করার কাজে একে অন্যের সহযোগিতা করেছে। যারা তাদের সাথে বন্ধুত্ব করবে তারা জালিম। [সূরা মুমতাহিনা : ৮-৯]

এখানে রাসূল সা. এর একটি গুরুত্বপূর্ণ হাদিস উল্লেখ না করলেই নয়। 

হযরত সাহল ইবনে হুনাইফ ও হযরত কায়েস ইবনে সাদ রা. একদিন বসা ছিলেন। তারা তখন কাদিসিয়ায় থাকেন। পাশ দিয়ে একটি লাশ নেয়া হচ্ছিল। তা দেখে তারা দুজনই দাঁড়ালেন। উপস্থিত লোকেরা তাদেরকে জানাল, ‘এ এক অমুসলিমের লাশ।’ তাঁরা তখন শোনালেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পাশ দিয়েও একবার এক লাশ নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। তিনি যখন তা দেখে দাঁড়ালেন, উপস্থিত সাহাবায়ে কেরাম তখন বললেন, এ তো ইহুদির লাশ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে জিজ্ঞেস করলেন, أليست نفسا অর্থাৎ ‘সে মানুষ  ছিল তো?’ [সহীহ বুখারী, হাদীস : ১৩১২]

এরকম আরো অনেক হাদিস আছে যেখানে রাসূল সা. অমুসলিমদের বাসায় দাওয়াত খেয়েছেন, তাদের বিপদ-আপদে খোঁজখবর রাখতেন। প্রতিবেশি অমুসলিম হলেও খাবার পৌঁছানোর ব্যবস্থা করতেন ইত্যাদি। 

কিন্তু আমরা বর্তমান যারা মুসলিম, তারা অন্যান্য ধর্মের মানুষদের সাথে কেমন আচরণ করছি? আমাদের ধর্মগুরুরাই বা কী শিক্ষা দিচ্ছেন?