পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় তৈরির হিড়িক জাতির জন্য কী ভূমিকা রাখছে

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২৮, ২০২০

গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও শিক্ষার মানকে গুরুত্ব না দিয়ে যেভাবে জেলায় জেলায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে উঠছে, সেটা ভালো কিছুর ইঙ্গিত তো দিচ্ছেই না, বরং শিক্ষার সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠকে আমরা বৃদ্ধাঙ্গুল দেখাচ্ছি। উন্নত দেশগুলোতে বিশ্ববিদ্যালয় হাতে গোনা কয়েকটা। আর আমাদের ছোট্ট এই দেশে জেলা সংখ্যারে অর্ধেকের বেশি বিশ্ববিদ্যালয়। আর দুটো বছর গেলে জেলার সমান সংখ্যক বিশ্ববিদ্যালয় হবে এবং এই লক্ষ্যটাই রাষ্ট্রপক্ষ একরকম নির্ধারণ করেছেন। এর পেছনে জনগণের দাবি ও রাজনৈতিক কৌশলের সমন্বয় থাকলেও, অন্তত বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে এরকম সিদ্ধান্তে আসা মানে আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। একদিকে সেটা ভাবারই জো কোথায় - যেদেশে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক ও ছাত্ররা গবেষণা, শিক্ষার মানোন্নয়েনর চেয়ে রাজনৈতিক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণকে প্রাধান্য দিচ্ছে। 

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় তৈরির হিড়িক জাতির জন্য কী ভূমিকা রাখছে

দেশের অধিকাংশ শিক্ষাবিদরাও সেই রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের জোয়ারে গাঁ ভাসিয়ে দিয়েছেন। যদিও দু-তিনজন প্রতিবাদ করছে সেটা বৃহৎসংখ্যার সাপেক্ষে সংকীর্ণ শব্দস্বর বৈ কিছুই নয়। 

জনগণ ও রাষ্ট্র মিলেমিশে শিক্ষাব্যবস্থার বারোটা বাজানোর যে আয়োজন করছে, তার ফল ইতোমধ্যেই আমরা দেখছি। এখানে গবেষণার সুযোগ নেই, দেশকে সমৃদ্ধশালী করার পরিবর্তে সবাই চাকুরির পেছনে ছুটতে বাধ্য হচ্ছে। বছর বছর বিশ্ববিদ্যালয়গুলো মস্তিষ্কশূণ্য বেকার তৈরির কারখানাতে পরিণত হচ্ছে। 

এদেশে শিক্ষাব্যবস্থার প্রকৃত সংস্কৃতি এখনো তৈরি হয় নি। তাই জনগণ এটাও জানে না, জেলায় জেলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের চাইতে শিল্প, ব্যবসা  ও কৃষি প্রকল্পের উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজন এখন বেশি। আর যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আছে সেগুলোর প্রয়োজন গবেষণা ও শিক্ষার মানন্নোয়ন এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করা। 

আমাদের দেশে একসময় প্রাথমিক, উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ প্রতিষ্ঠানের অনেক ঘাটতি ছিলো। সেই অভাব এখন প্রায় নেই বললেই চলে। এদিক থেকে আমরা প্রতিবেশী দেশগুলোর চাইতেও অনেক এগিয়ে। এজন্য আমাদের রাষ্ট্রপক্ষকে অবশ্যই বাহবা দিতেই হবে।

কিন্তু সেই প্রতিষ্ঠান তৈরির প্রতিযোগিতা দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে আনার প্রয়োজন নেই, সেটা এখন জনগণকে যতটা বুঝতে হবে, তারচেয়ে বেশি বুঝতে হবে রাষ্ট্রপক্ষকে।