রাসূল সা. এর সম্মান কার ওপর নির্ভর করে?

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ০২, ২০২০

রাসূল সা. এর সম্মান-অসম্মান করা নির্ভর করবে মুসলিমদের কৃতকর্মের ওপর। মুসলিমরা যদি আরেক অমুসলিম ভাইকে সম্মান করে, উপকার করে, বিপদে আপদে সহযোগিতা করে, ভরসা দেয় তবে ইসলাম ও রাসূল সা. এর সম্মান কমবে না বাড়বে?

রাসূল সা. এর সম্মান কার ওপর নির্ভর করে

আর সেই মুসলিমরা যদি আরেক অমুসলিম ভাইকে গালাগালি করে, তাদের দেবদেবীদের নিয়ে নোংরা নোংরা মন্তব্য করে, সাহায্যতো দূরের কথা সুযোগ পেলেই ক্ষতির চেষ্টা করে; এতে করে ঐ অমুসলিম ভাইয়ের কাছে ইসলাম ও রাসূল সা. এর অবস্থানটা কেমন হবে? নিশ্চয় সম্মানের না।

এখন কোন অমুসলিম যদি রাসূল সা. বা ইসলামকে নিয়ে কটাক্ষ করে, ব্যঙ্গাত্মক কার্টুন তৈরি করে বা বিভিন্নভাবে হেয় প্রতিপন্ন করে বা করার চেষ্টা করে এতে করে কি রাসূল সা. এর সম্মান নষ্ট হয়ে গেল? ইসলাম বেইজ্জত হয়ে গেল? এতই সোজা? এতই ঠুনকো আমাদের ধর্মবিশ্বাস?

কোন অমুসলিম যদি এরকম করে, তবে সম্মানটা গেল তার ধর্মের, সে যে শিক্ষাবোধ্য-মূল্যবোধ, ধর্মবিশ্বাস লালন করে, তার সম্মান আমাদের কাছে নষ্ট হলো।

রাসূল সা.কেও অনেক অমুসলিম বিভিন্নভাবে কষ্ট দিয়েছেন, অসম্মান করেছেন। এর প্রত্যুত্তরে রাসূল সা. তাদের জন্য বদদোয়া করেননি, অভিশাপ দেননি, যুদ্ধও করেন নি (ইসলামের সকল যুদ্ধই দীন প্রতিষ্ঠার জন্য, কোন ব্যক্তিগত/জাতিগত প্রতিশোধের জন্য নয়)। তিনি বরং বাড়িয়ে দিয়েছিলেন সহমর্মিতার হাত। এমন অমায়িক ব্যবহারে আকৃষ্ট হয়েই তখন অনেকে ইসলাম গ্রহণ করেছে। এতে করে তিনি আল্লাহ ও তাঁর দেয়া ইসলামের সম্মানটা নিয়ে গিয়েছিলেন অনন্য এক সুউচ্চ স্থানে।

সেই শিক্ষাটা কোথায় আমাদের মধ্যে? আমরা না আবার আশেকে রাসূল! রাসূল সা.কে ভালোবাসেন এটা খুবই ভালো কথা। কিন্তু তার মানে এই না, তিনি যা করতে মানা করেছেন, তিনি যা করেন নি, সেটাই আপনি করবেন, উনার বিধিনিষেধ মানবেন না।

এই আবেগের কানাপয়সাও দাম নাই আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সা. এর কাছে। আবেগে আপনি নিরাপরাধ মানুষকে মেরে ফেলবেন, দেশের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করবেন, কূটনৈতিক সম্পর্কে ফাটল ধরাবেন, দেশের অর্থনীতিতে কুপ্রভাব ফেলবেন আর পরকালে আল্লাহর কাছে মুক্তি চাইবেন, ক্ষমা চাইবেন, রাসূল সা. এর সামনে উম্মতে মোহাম্মদী হিসেবে পরিচয় দিবেন - তা হয় কী করে!

আপনার মত এত আবেগতাড়িত কোনো সাহাবীই ছিলো না। আপনি কি তাঁদের চাইতে বড় আশেকে রাসূল হয়ে গেছেন নাকি?

জ্বি, প্রশ্নগুলো নিজের বিবেককেই করতে হবে। আজ নিজের বিবেক দ্বারা শাসিত হোন, নতুবা এই বিবেক সেই দিন আপনার বিরুদ্ধেই অপ্রতিরোধ্য সাক্ষী-প্রমাণ হিসেবে দাঁড়িয়ে যাবে।