আমার কল্পসুখের কথা

প্রকাশিত: জানুয়ারী ০৯, ২০২১

কিছু কিছু অনুভূতি আছে, জানিনা সবার বেলায় কিনা কিন্তু আমি প্রায়ই অনুভব করি এবং এই অনুভূতিগুলো খুবই অল্প সময়ের জন্য থাকে। অনুভবে স্বর্গীয় কোনো যেন এক আনন্দ এসে আমাতে উপচে পড়ে। আমি ভিতরে ভিতরে এতবেশি পুলকিত হই, যা লিখে বা বলে প্রকাশ করা যাবে না। এই পুলকিত হওয়ার সময়টাও খুব ক্ষণিকের। কিন্তু সেই অনুভূতিগুলো কী - সেটাই আমি পূর্ণাঙ্গভাবে জানি না এবং সেকারণে সেটার ভাবপ্রকাশও হয় না। হয়তো আমি করতে পারি না -  না মুখে বলে, না লিখে। 

আমার কল্পসুখের কথা

তারপরেও আজ লিখে প্রকাশ করার চেষ্টা করছি। যে অনুভূতিগুলোর কথা বলছি, সেগুলোর বাস্তবতা নেই বা আমার যতদূর মনে পরে এই অনুভূতিগুলো কখনোই কোন বাস্তবিক ঘটনা থেকে সৃষ্টি হয় নি। যেমন- আমরা কখনো কখনো একা একাই হাসি এবং সেটার সুনির্দিষ্ট কারণও থাকে। হয়তো অতীতের কোনো হাসির ঘটনা মনে পড়ে যায়, তখন। কিন্তু আমি যে অনুভূতিগুলোর কথা বলছি, সেগুলো কোনো বাস্তবিক ঘটনাই নয়, হয়তো কাল্পনিক। তাই এই অজ্ঞাত অনুভূতির সুখকে আমি কল্পসুখ-ই বলবো।

কল্পসুখের অনুভূতিগুলো আমি মনে রাখতে পারি না। আধো আধো যদি মনেও থাকে, সুখের মূলরস আস্বাদন হয় না। তেমন একটা অনুভূতি এখন মনে পড়ছে। 

অজস্র গম্বুজের প্রকান্ড ছাদের নিচে আমি বসে আছি। সম্ভবত এটা মসজিদ। যতদূর দেখি, শেষ নেই। সুগন্ধি ভেসে আসে। চারদিকে সোনালী আর সফেদ রংয়ের পরিবেশ শুভ্র ও পবিত্রময় পরিবেশের সৃষ্টি করেছে।আমার পরনেও সাদা-শফেদ পোষাক।  এসময় নিজেকে নির্মল ও পবিত্র মনে হয়। আমি সেখানে বসে আছি যেন চির প্রতীক্ষিত বিশেষ কারো জন্য। সম্ভবত তিনি মহান স্রষ্টা। 

পুরো ব্যাপারটা তারপরেও আমি বর্ণনা করতে পারিনি। এই অনুভূতিটা আমার ক্ষেত্রে প্রায়ই অনুভব হয়।

যখন এ পর্যন্ত লিখছি, তখন আরেকটা বিষয় শেয়ার করতে ইচ্ছে করছে। প্রায়ই আমার মৃত্যুর কথা মনে পড়লে কেমন জানি খুশি খুশি লাগে। মনে হয় আমি কোনো সুখের প্রত্যাবর্তনের দিকে পা বাড়াচ্ছি। অনেকটা হাফ ছেড়ে বেঁচে যাওয়া। জানি না, পরকাল আমার জন্য সুখকর নাকি কষ্টময়। তারপরেও মনে হয় অন্তত পার্থিব জীবনের চাইতে, সেখানেই আমার মূল অস্তিত্ব, সেখানে আমি ঐশ্বরিক সুখগুলো যথার্থভাবে উপভোগ করতে পারবো। যেমন- প্রকৃতি, সুর, পাখিদের কলতান, সবুজের সজীবতা ইত্যাদির রন্ধ্রে রন্ধ্রে নিজেকে হারিয়ে ফেলা। তবে আমি সবসময় চাই, আমার মৃত্যুটা যেন মানবজাতির কল্যাণেই উৎসর্গ হয়। 

আমি ভয় পাই বীভৎসতা, হিংস্রতা ও হীনতা। এর বাইরে ভয় নেই বললেই চলে। হয়তো সবার ক্ষেত্রেও তাই হবে।