ইসলামের সৌন্দর্য্য

প্রকাশিত: জানুয়ারী ১২, ২০২১

কুরাইশরা যাকে একদিন তাঁর জন্মভূমি থেকেই তাড়িয়ে দিয়েছিল, যুদ্ধের পিঠে যুদ্ধ করলো সেই কুরাইশরাই আজ নিঃশব্দে তার আগমন লক্ষ্য করছে বিস্মিত হয়ে।

ব্যাতিক্রম শুধু ইকরামা বিন আবু জাহেল। যার একসময়ের পেয়ারা দোস্ত্ খালেদ, আমর একসাথে বদর, উহুদ,খন্দকে ইসলামের বিরুদ্ধে লড়েছে সেই পেয়ারা দোস্ত আজ ইসলামের পক্ষ হয়ে লড়ছে! কিন্তু ইকরামা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ মুহম্মদ (সা) কে দেখা নেয়ার, পিতৃহত্যার প্রতিশোধ নেয়ার।

ইসলামের সৌন্দর্য্য

তাই কুরাইশদের সম্মিলিত সিদ্ধান্তকে উপেক্ষা করে সংঘাতে জড়িয়ে পড়লো। কিন্তু কোন কুল-কিনারা না পেয়ে তৎক্ষনাৎ পিছু হটলেন।

রাসূলাল্লাহ সাধারণ ক্ষমা ঘোষনা করলেও বিশেষ কয়েকজনকে মৃত্যুদন্ড দেয়া হলো। ইকরামা তাদের মধ্যে একজন। এখবর শুনে তৎক্ষনাৎ ইয়েমেনের দিকে পালিয়ে গেলেন। 

ইকরামা বধু উম্মু হাকীম  রাসূলাল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করলে রাসূলাল্লাহ ক্ষমা করে দিলেন।

উম্মু হাকীম অনেক কষ্টে যখন খুঁজে নিয়ে এলেন তখন রাসূলাল্লাহ আসহাবদের বললেন, আবু জাহেল পুত্র ইকরামা আসছে তোমরা তার সামনে তার পিতাকে গালি দিও না।

রাসূলাল্লাহর এই অবিশ্বাস্য ক্ষমায় ইকরামা ইসলামের সুশিতল ছায়াতলে আশ্রয় নিলেন এবং বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ এযাবৎ ইসলামের বিরুদ্ধে যতো অর্থ খরচ করেছি ইসলামের পক্ষে তার দ্বিগুন অর্থ ব্যয় করবো।

আজ আমরা ১৬০ কোটি রাসূলের রেখে যাওয়া কিতাবাল্লাহ ও সুন্নাহ দুটোকেই প্রত্যাখ্যান করে কার্যত (De fecto) কাফের মোশরেকে পরিণত হয়েছি। যে সুন্নাহকে আজ হাদীস বলে উল্লেখ করা হয় এবং আজকে আমরা যে হাদীস নিয়ে পরষ্পর বিরোধী সংঘাতে লিপ্ত তা শুধু আমাদেরকেই শত্রু বানাইনি, সেই সংঘাত ইসলামের প্রকৃত সৌন্দর্যকেই আড়াল করেছে।।

আজ হেযবুত তওহীদ যে কিতাব ও সুন্নাহর কথা বলছে, যে ইসলামের কথা বলছে সেটা শুধু তাদের মুখে নয় অন্তরেও। যারা আমাদের বিরুদ্ধাচারণ করছেন, ন্যূনতম ভদ্রতাটুকুও বজায় রাখতে অক্ষম; তারা হয় ইসলামের প্রকৃত ইতিহাস জানেন না অথবা স্বার্থের কাছে, অহংকারের কাছে বন্দি। তারা নিজেদের ইতিহাস জানে না। তাদের নির্ভেজাল মিথ্যাচারে আফসোস লাগলেও নিরাশ হই না। কারন আমাদের ইতিহাস আমাদের জানা আছে।

জগদীশ চন্দ্র বসু যথার্থই বলেছিলেন,"যে জাতি তার ইতিহাস জানে না। সে জাতি তার ইতিহাস নির্মাণ করতে পারেনা।"