বন্ধুত্ব ও প্রেমের জগৎ

প্রকাশিত: জানুয়ারী ২০, ২০২১

গতকাল একটা স্ট্যাটাস দিয়েছিলাম, 

“বন্ধুত্ব হলো দু’জন ব্যক্তি মিলে একটা জগৎ। আর প্রেমে আলাদা কোনো জগৎ নেই, দু’জনই দু’জনের জগৎ।”

অনেকেই এই স্ট্যাটাসটার তাৎপর্য জানতে চেয়েছেন। যদিও বিষয়টা অনুভবের, বোঝার না তবু চেষ্টা করছি একটু সম্প্রসারিতভাবে উপস্থাপন করতে-

ধরুন আপনারা দু’জন বন্ধু। আপনার একটা জগৎ আগে থেকেই ছিল, আপনার বন্ধুরও একটা জগৎ আগে থেকেই ছিল কিন্তু নতুন করে আপনারা একটা জগৎ তৈরি করলেন, সেই জগতের নাম বন্ধুত্ব। এখানে তিনটা জিনিস, আপনারা দুই বন্ধু আর একটা জগৎ (বন্ধুত্ব)। যখন কোনো কারণে বন্ধুত্ব অর্থাৎ তৃতীয় জগতটা ভেঙে যাবে তখন আপনারা কিছু কষ্ট পাবেন ঠিকই কিন্তু একেবারে ভেঙে পড়বেন না, কিছু সময়ের ব্যবধানে নিজ নিজ জগৎ নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়বেন।

বন্ধুত্ব ও প্রেমের জগৎ
কিন্তু যখন আপনি কাউকে ভালোবাসবেন তখন আপনার ভালোবাসার ব্যক্তিই হবে আপনার জগৎ, এখানে তৃতীয় জগৎ সৃষ্টির কোনো বিষয় নেই। আপনার সর্বস্ব বিলিয়ে দিয়ে চেষ্টা করবেন সেই জগতটা সাজাতে। সবকিছুর বিনিময়ে তাকে খুশি করতে চাইবেন। তার চাওয়া, তার ভালোলাগা, তার পছন্দ-অপছন্দ, তার আদেশ-নিষেধ সব কিছুই যেন আপনার হয়ে যাবে। কিছু পাবার আশায় নয়, ভালোবাসেন বলেই তার জন্য সর্বস্ব বিলিয়ে দিতে চাইবেন। কোনো কারণে এই জগৎ ভেঙে গেলে আপনিও ভেঙে পড়বেন, কারণ আপনার অন্য কোনো জগৎ নেই যে, সেটা নিয়ে আপনি ব্যস্ত থাকবেন।

এখন আপনি যদি স্রষ্টাকে ভালোবাসতে পারেন তাহলে স্রষ্টাই আপনার জগৎ হবে। এই জগৎ কখনোই ভাঙবে না আর আপনিও কখনোই হতাশ হবেন না। স্রষ্টাকে ভালোবাসতে হলে জানতে হবে স্রষ্টার চাওয়া কী? স্রষ্টার পছন্দ ও অপছন্দ কী? কিসে স্রষ্টা খুশি হবেন আর কিসে নাখোশ হবেন? স্রষ্টাকে ভালোবাসতে হলে তাঁকে ভালোমতো জানতে হবে। বিনিময় তিনি দিবেন কিন্তু বিনিময়ের আশায় আপনি কাজ করবেন না, আপনি তাঁকে ভালোবাসেন বলেই ভালোবাসার এই জগতটাকে যতভাবে পারা যায় সজ্জিত করবেন।

স্রষ্টা কী চান? (যারা স্রষ্টাকে ভালোবাসতে চান তাদের জন্য এই অংশ):

স্রষ্টা নিজের জন্য কিছুই চান না। তিনি চান তাঁর প্রিয় সৃষ্টি মানুষ অন্যান্য সকল সৃষ্টিকে নিয়ে শান্তিতে বসবাস করুক। একসাথে সবাই ভালো থাকার পূর্বশর্ত হলো ন্যায় প্রতিষ্ঠা করা। কিছু মানুষ সুখে আর কিছু মানুষ দুঃখে থাকার মানেই হলো অন্যায়। সমগ্র সৃষ্টিই যেহেতু একটা পরিবার আর মহান স্রষ্টা তার অভিভাবক, তাই তিনি সকলের প্রতি ন্যায়বিচার করতে চান। কিন্তু তিনি সেটা করতে চান তাঁর প্রিয় খলিফা (সুরা বাকারা-৩০) মানুষের মাধ্যমে।

অর্থাৎ সমগ্র সৃষ্টির মাঝে ন্যায় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সকলকে সুখ প্রদান করাই হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের পথ। যাবতীয় ন্যায়ই হলো আল্লহার হুকুম। ন্যায় প্রতিষ্ঠা মানেই হলো আল্লাহকে হুকুমদাতা (ইলাহ) হিসাবে গ্রহণ করা, এটাই তওহীদ (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ- আল্লাহ ছাড়া কোনো হুকুমদাতা নেই)। সামগ্রিকভাবে আল্লাহর চাওয়া এটুকুই।

যারা আল্লাহকে ভালোবাসতে চান তাদেরকে- 

১- যাবতীয় ন্যায়ের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে (তওহীদের দাবী)

২- জীবন ও সম্পদ দিয়ে ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম করতে হবে। 

তাহলে আপনি হবেন মো’মেন, আপনি হবেন সত্যনিষ্ঠ (সুরা হুজরাত-১৫), আপনি হবেন আল্লাহ-প্রেমিক।