ধর্ষণের ঘটনায় প্রথম ও প্রধান দোষী হলো ধর্ষক

প্রকাশিত: জানুয়ারী ০৯, ২০২১

ধর্ষণের ঘটনায় প্রথম ও প্রধান দোষী হলো ধর্ষক। কিন্তু ধর্মান্ধ গোষ্ঠী তা মানতে নারাজ। তারা ধর্ষকের দোষকে আড়াল করে ধর্ষিতার দোষ, ধর্ষিতার বাপ-মায়ের দোষ, ধর্ষিতা যে পোশাক পরেছে সেই পোশাকের দোষ, ধর্ষিতা যে পরিবারে বড় হয়েছে সেই পরিবারের দোষ, ধর্ষিতা যেখানে পড়াশোনা করেছে সেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দোষ ইত্যাদি হরেক রকমের দোষ বের করে আনে। 

ধর্ষণের ঘটনায় প্রথম ও প্রধান দোষী হলো ধর্ষক

কোনো এক অজ্ঞাত কারণে ধর্ষিতা নারীর জন্য সিম্প্যাথি দেখানোর বদলে তারা ধর্ষক পুরুষের জন্য সিম্প্যাথি দেখাতে বেশি আগ্রহী থাকে। তো তাই হোক! তোমরা ধর্ষণের জন্য যদি এতকিছুকে দোষারোপ করতে পারো তাহলে বাকিটুকু আবার রেখে দিলা কার জন্য? 

প্রতি বছর শীতকালে লক্ষ লক্ষ টাকার ওয়াজব্যবসা হচ্ছে, শত শত ওয়াজের বক্তা ঘণ্টার পর ঘণ্টা ওয়াজ করছে, মানুষকে তথাকথিত সদুপদেশ দিচ্ছে- তারপরও ধর্ষণ বন্ধ হচ্ছে না কেন এই প্রশ্নও তো তোলা দরকার। 

মেয়ের বাপ-মাকে শুধু দোষ দিয়ে বসে থাকলে চলবে? মেয়ের বাপ-মা তো ধর্মের জ্ঞান রাখে না, নীতি-নৈতিকতা বোঝে না, কারণ ওরা মাদ্রাসায় পড়ে নাই। ওরা মেয়েকে শিক্ষা দিতে ব্যর্থ হবে সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু তোমরা এত ওয়াজ মাহফিল করে কী শিক্ষা দিলা? তোমাদের ওয়াজের শিক্ষাও তো ব্যর্থ হলো, তাই নয় কি? কোনো পরিবারের একজন সদস্য তোমাদের ভন্ডামী নিয়ে সমালোচনা করলে তোমরা সেই পরিবারকে একঘরে করে দাও, ফতোয়া দিয়ে অন্যের বউ তালাক করে দাও, তাহলে সমাজটা তো তোমাদেরই হাতে। তোমরাই সমাজের ইমাম বা নেতা। তাহলে সেই সমাজে ধর্ষণের ঘটনার দায় তোমাদের কাঁধে পড়বে না কেন? খালি মুরগীর রান খাওয়ার বেলায় সামনের সারিতে থাকলে তো চলবে না, অপরাধের দায় নেওয়ার বেলায়ও সামনের সারিতে থাকতে হবে। অথবা ভিকটিম ব্লেমিং বন্ধ করতে হবে।