জেহাদ আত্মরক্ষামূলক নাকি আক্রমনাত্মক

প্রকাশিত: জানুয়ারী ১১, ২০২১

সেদিন ঐতিহাসিক ডিবেটে জনৈক বক্তা একজনের কথার প্রেক্ষিতে  বললেন ইসলামে জেহাদ আছে তবে সেটা Defensive বা আত্মরক্ষামূলক এবং ইসলাম তরবারির জোরে প্রতিষ্ঠা হয়নি তবে ইসলাম প্রতিষ্ঠায় তরবারি ব্যবহৃত হয়েছে।শেষের কথাটুকু মানতে পারলেও প্রথম কথায় আমার মনে কিছু সংশয়, আগ্রহ জাগলো যে আসলেই কি ইসলামের জেহাদ আত্মরক্ষামূলক(Defensive) না আক্রমনাত্মক (offensive)? 

জেহাদ আত্মরক্ষামূলক নাকি আক্রমনাত্মক

তাই আমার জানার মধ্যে যেটুকু জানি সেটাই উল্লেখ করছি। যদি কেউ আমার এই জানার মাঝে ভুল থাকে শুধরে দিবেন আশা করি।

এই যে বিষয়টা এব্যাপারে গভীরে যাওয়ার পূর্বে খলিফা(মানুষ)  সৃষ্টির শুরুর কিছু কথা   বলার প্রয়োজন বোধ করছি।

قَالَ مَا مَنَعَكَ أَلَّا تَسْجُدَ إِذْ أَمَرْتُكَ ۖ قَالَ أَنَا خَيْرٌ مِّنْهُ خَلَقْتَنِي مِن نَّارٍ وَخَلَقْتَهُ مِن طِينٍ

(আল আরাফ - ১২)

আল্লাহ বললেনঃ আমি যখন নির্দেশ দিয়েছি, তখন তোকে কিসে সেজদা করতে বারণ করল? সে বললঃ আমি তার চাইতে শ্রেষ্ট। আপনি আমাকে আগুন দ্বারা সৃষ্টি করেছেন এবং তাকে সৃষ্টি করেছেন মাটির দ্বারা।

قَالَ فَاهْبِطْ مِنْهَا فَمَا يَكُونُ لَكَ أَن تَتَكَبَّرَ فِيهَا فَاخْرُجْ إِنَّكَ مِنَ الصَّاغِرِينَ

(আল আরাফ - ১৩

বললেন তুই এখান থেকে যা। এখানে অহংকার করার কোন অধিকার তোর নাই। অতএব তুই বের হয়ে যা। তুই হীনতমদের অন্তর্ভুক্ত।

قَالَ أَنظِرْنِي إِلَىٰ يَوْمِ يُبْعَثُونَ

(আল আরাফ - ১৪)

সে বললঃ আমাকে কেয়ামত দিবস পর্যন্ত অবকাশ দিন।

قَالَ إِنَّكَ مِنَ الْمُنظَرِينَ

(আল আরাফ - ১৫)

আল্লাহ বললেনঃ তোকে সময় দেয়া হল।

قَالَ فَبِمَا أَغْوَيْتَنِي لَأَقْعُدَنَّ لَهُمْ صِرَاطَكَ الْمُسْتَقِيمَ

(আল আরাফ - ১৬)

সে (ইবলিশ)  বললঃ আপনি আমাকে যেমন উদভ্রান্ত করেছেন, আমিও অবশ্য তাদের জন্যে আপনার সরল পথে বসে থাকবো।

ثُمَّ لَآتِيَنَّهُم مِّن بَيْنِ أَيْدِيهِمْ وَمِنْ خَلْفِهِمْ وَعَنْ أَيْمَانِهِمْ وَعَن شَمَائِلِهِمْ ۖ وَلَا تَجِدُ أَكْثَرَهُمْ شَاكِرِينَ

(আল আরাফ - ১৭)

এরপর তাদের কাছে আসব তাদের সামনের দিক থেকে, পেছন দিক থেকে, ডান দিক থেকে এবং বাম দিক থেকে। আপনি তাদের অধিকাংশকে কৃতজ্ঞ পাবেন না।

এটা কি বিষয় সম্পর্কে আলোচনা সেটা সবারই জানা। মালায়েকদের সাথে আল্লাহর কথোপকথন এর পরের কাহিনীও জানা।

১৬ নম্বর আয়াত থেকে পাই, ইবলিশ  আল্লাহর সরল (হেদায়াহ) পথে বসে থাকবে এবং চতুর্দিক থেকে সে আক্রমণ চালাবে।

আল্লাহর যে সরল পথ অর্থাৎ হেদায়াহ বা Right direction বা সঠিক পথ।

অর্থাৎ ইবলিশ আল্লাহকে চ্যালেঞ্জ করলেন এবং কেয়ামত পর্যন্ত এটা চলতে থাকবে।

ন্যায়- অন্যায়, সত্য- মিথ্যার দ্বন্দ্ব। আর এই দ্বন্দ্বে ইবলিশের চ্যালেঞ্জে আল্লাহকে জয়ী করতে যুগে যুগে হেদায়াহ পাঠিয়েছেন আল্লাহ তায়ালা।

পৃথিবীর প্রথম মানব আমাদের আদি পিতা থেকে শেষ নবী খাতামান নাবিয়্যিন পর্যন্ত আল্লাহ সরল পথ তাঁর নবী রাসূলগনের দ্বারা পাঠিয়েছেন প্রতিটা জাতির কাছে। যেগুলো ঐ সময়ের জন্য উপযোগী ছিল। কোনটা নির্দিষ্ট কিছু মানুষের জন্য আবার কোনটা ছিল নির্দিষ্ট অঞ্চলের জন্য। 

এটা পাঠানোর ধারাবাহিকতায় সর্বশেষ  সংস্করণ হিসেবে আল্লাহ পাঠালেন আমাদের শেষ রাসূলকে (সা)।

পূর্ববর্তী নবী রাসূলগনের সাথে শেষ রাসূলকে দেয়া দ্বীনের মধ্যে পার্থক্য হলো পূর্বের গুলো ছিল কিছু মানুষের জন্য, নির্দিষ্ট এলাকার জন্য,একই সময় একাধিক নবী রাসূল ছিলেন। কিন্তু ইসলামের শেষ সংস্করণ অর্থাৎ রাসূলাল্লাহ কে যেটা দিয়ে পাঠালেন সেটা (কুরান)  সারা পৃথিবীর জন্য এবং  মানবজাতির জন্য। 

এই শেষ সংস্করণ অর্থাৎ ইসলাম কী এবং কেন সে বিষয়ে আমরা জানি যে, 

আল্লাহ পাক কুরআন মজীদে এরশাদ করেছেনঃ

إِنَّ الدِّينَ عِنْدَ اللَّهِ الْإِسْلامُ

‘নিশ্চয় আল্লাহর কাছে একমাত্র মনোনীম জীবনব্যবস্থা হলো ইসলাম।’ (আল ইমরান, ৩ : ১৯)

وَمَنْ يَبْتَغِ غَيْرَ الْإِسْلامِ دِينًا فَلَنْ يُقْبَلَ مِنْهُ

‘কেউ যদি ইসলাম ছাড়া অন্য কোন জীবনব্যবস্থা চায় তা কখনো গ্রহণযোগ্য হবে না।’ (আল ইমরান, ৩ : ৮৫)

هُوَ الَّذِي أَرْسَلَ رَسُولَهُ بِالْهُدَىٰ وَدِينِ الْحَقِّ لِيُظْهِرَهُ عَلَى الدِّينِ كُلِّهِ وَلَوْ كَرِهَ الْمُشْرِكُونَ

(আত তাওবাহ্ - ৩৩)

তিনিই প্রেরণ করেছেন আপন রসূলকে হেদায়েত ও সত্য জীবনব্যবস্থা সহকারে, যেন এ জীবনব্যবস্থাকে অপরাপর জীবনব্যবস্থার উপর জয়যুক্ত করেন, যদিও মুশরিকরা তা অপ্রীতিকর মনে করে।

এছাড়াও সূরা সফ-০৯,সূরা ফাতাহ-২৮।

অপরাপর জীবনব্যবস্থার উপর জয়যুক্ত করার প্রক্রিয়াও আল্লাহ দিয়ে দিলেন।

রসুল ( সা . ) বলেন , আল্লাহ আমাকে পাঁচটি কাজের নির্দেশ দিয়েছেন , আমি সেগুলাে তােমাদেরকে দিয়ে যাচ্ছি , যথা : 

১. সর্বদা ঐক্যবদ্ধ থাকো, 

 ২. নেতার আদেশ শােনাে, 

 ৩. নেতার আদেশ পালন করাে , 

 ৪.হিজরত করাে , 

 ৫. আল্লাহর রাস্তায় সংগ্রাম করাে ।

 যে ব্যক্তি এই ঐক্যবন্ধনী থেকে একবিঘতও দূরে সরে গেল , সে যেন তার গর্দান থেকে ইসলামের রশি খুলে ফেলল , যদি না সে আবার ফিরে আসে ( তওবা করে ) । আর যে ব্যক্তি অজ্ঞানতার যুগের দিকে আহ্বান করল , সে নিজেকে মুসলিম বলে দাবি করলেও , নামাজ পড়লেও , রােজা রাখলেও জাহান্নামের জ্বালানি পাথর হবে । 

(হারিস আল আশআরী ( রা . ) থেকে আহমাদ , তিরমিযী , মেশকাত , সহিহ আল জামি , সহিহ আত তারগীব )

অর্থাৎ দুটোই আল্লাহর দেয়া। জীবনব্যবস্থাও এবং সেটা প্রতিষ্ঠার কর্মসূচিও।

এখন যদি আমরা রাসূলাল্লাহর (সা) নবুওয়ত পূর্ব জীবন ও পরবর্তী জীবন দেখি তাহলে পাই যে, সমাজের হানাহানি বন্ধ করতে মাত্র ২৫ বছর বয়সে হিলফুল ফুজুল নামে সংঘ প্রতিষ্ঠা করেন।

যার বাংলা হলো কল্যাণের শপথ।

হিলফুল ফুজুল’র লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য-

১. মজলুম ও অসহায়দের সাহায্য করা।

২. সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা।

৩. বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে মৈত্রী ও প্রীতির সম্পর্ক স্থাপন করা।

৪. পথিক ও মুসাফিরের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

৫. কোনো জালেমকে মক্কায় প্রবেশ করতে না দেয়া এবং দুষ্কৃতকারীদের অন্যায় আগ্রাসন প্রতিরোধ করা।

নিঃসন্দেহে সমাজের জন্য কল্যাণকর।

কিন্তু হিলফুল ফুজুল কি পেরেছিল সমাজের বিশৃঙ্খলা দূর করতে?

গারে হেরা বা হেরা গুহায় রাসূলাল্লাহ (সা) দীর্ঘ ১৫ বৎসর ধ্যান করেন।ধ্যানের কারণ সম্পর্কে মুটামুটি আমরা সকলেই জানি যে, কোন সমস্যা সমাধানের জন্য নিবিষ্টচিত্তে ভাবা, চিন্তা করা। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে হেরা গুহায় কী ভাবতেন?

অবশ্যই সমাজের অন্যায় অশান্তি দূর করার উপায়।

এখন যদি নবুওত পরবর্তী জীবন দেখি তাহলে দেখি এই জীবনেরও দুটি দিক।

১। মাক্কী জীবন।

২। মাদানী জীবন।

এই দুটো দিক খেয়াল করলে আমাদের আলোচনা যে বিষয় নিয়ে শুরু করেছিলাম তার উত্তর পাবো ইনশাআল্লাহ। 

মাক্কী ১৩ বছর  রাসূলাল্লাহর একটাই আহ্বান ছিল লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ (সা)। আল্লাহ ছাড়া কোন হুকুমদাতা নাই,হযরত মোহাম্মদ (সা) আল্লাহর বান্দা ও রাসূল।

এই আহ্বান ছিল সবার প্রতিই।

অথচ তারাও হজ করতো,কোরবানি করতো,খৎনা,আল্লাহতে বিশ্বাস, আল্লাহর নামে নাম,মিল্লাতে ইব্রাহিম দাবী করতো।

কিন্তু সমাজ পরিচালনা করতো নিজেদের মতো। ঠিক যেমনটা আমরা করি।

এই ১৩ বছর শতসহস্র নির্যাতন সত্বেও কাউকে আক্রমণ করেন নি বা সাহাবীদেরও হুকুম দেন নি।সহ্য করে গেছেন।

কিন্তু মাদানী ১০ বছরে ছোট বড় ৭৮ টা যুদ্ধ পরিচালনা করেছেন যেগুলোর কোনটাতে সংঘর্ষ হয়েছে কোনটিতে হয় নি।

২৭ টি তে নেতৃত্ব দিয়েছেন,নিজে উপস্থিত থেকে সক্রিয় ভাবে যুদ্ধ করেছেন ৯ টি তে,সাংঘাতিক ভাবে জখম হয়েছেন এবং বিভিন্ন দিকে সামরিক অভিযান প্রেরণ করেছেন ৩৫ টি যেগুলোর সমরনীতি এবং ব্যবস্থাপনা তাকেই করতে হয়েছে।কারণ তিনি তখন মদীনা নামক রাষ্ট্রের রাষ্ট্র প্রধান এবং সেখানে পৌত্তলিক, ইহুদি, খৃষ্টান, মুসলিম সহ সকলের নেতা।

সুতরাং একজন রাষ্ট্রপ্রধান আর একজন নাগরিকের দায়িত্ব, কাজ একরকম নয়।

এখন এই যুদ্ধগুলোকে যদি Defensive বা আত্মরক্ষামূলক বলা হয় তাহলে কিছু যুদ্ধের ইতিহাস দেখা দরকার। 

তার আগে আল্লাহর কিছু হুকুম দেখি,

هُوَ الَّذِي أَرْسَلَ رَسُولَهُ بِالْهُدَىٰ وَدِينِ الْحَقِّ لِيُظْهِرَهُ عَلَى الدِّينِ كُلِّهِ وَلَوْ كَرِهَ الْمُشْرِكُونَ

(আত তাওবাহ্ - ৩৩)

তিনিই প্রেরণ করেছেন আপন রসূলকে হেদায়েত ও সত্য জীবনব্যবস্থা সহকারে, যেন এ জীবনব্যবস্থাকে অপরাপর জীবনব্যবস্থার উপর জয়যুক্ত করেন, যদিও মুশরিকরা তা অপ্রীতিকর মনে করে।

এছাড়াও সূরা সফ-০৯, সূরা ফাতাহ-২৮।

এখানে আল্লাহর হুকুম হলো মুশরিকরা অপছন্দ করলেও প্রতিষ্ঠা করতে হবে। জেহাদ যদি Defensive ই তাহলে তো নিজে আগবাড়িয়ে কারো কাছে ইসলামের দাওয়াত নিয়ে যাওয়া যায় কিন্তু সেই দাওয়াতের মর্মকথা সবাইকে মানানো কস্মিনকালেও সম্ভব নয়। আর যদি নাই মনে তাহলে ইবলিশ জয়ী হয়। 

তাছাড়া আমরাও তো বলি, "সোজা আঙ্গুলে ঘি উঠে না।"

দীর্ঘদিন প্রতিষ্ঠিত,প্রচলিত ধ্যানধারণা বাদ দিয়ে, নিজেদের আধিপত্য বাদ দিয়ে নতুন কোন হুকুম মেনে নেয়ার ইতিহাস খুবই কম।

আরেকটা আয়াত যদি দেখি,

وَقَاتِلُوهُمْ حَتَّىٰ لَا تَكُونَ فِتْنَةٌ وَيَكُونَ الدِّينُ كُلُّهُ لِلَّهِ ۚ فَإِنِ انتَهَوْا فَإِنَّ اللَّهَ بِمَا يَعْمَلُونَ بَصِيرٌ

(আল আনফাল - ৩৯)

আর তাদের সাথে যুদ্ধ করতে থাক যতক্ষণ না ভ্রান্তি শেষ হয়ে যায়; এবং আল্লাহর সমস্ত হুকুম প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়। তারপর যদি তারা বিরত হয়ে যায়, তবে আল্লাহ তাদের কার্যকলাপ লক্ষ্য করেন।

কিছু হাদিস,

আমি আদিষ্ট হােয়েছি ( আল্লাহ কর্তৃক ) সশস্ত্র এক সংগ্রাম চালিয়ে যেতে যে পর্যন্ত না পৃথিবীর মানুষ আল্লাহকে একমাত্র প্রভু ও আমাকে রে তার প্রেরিত বােলে স্বীকার কোরে নেয় , সালাত প্রতিষ্ঠা করে ও যাকাত দেয় ।

হাদীস-আব্দুল্লাহ ইবনে 

ওমর (রা) থেকে বোখারী, মেশকাত।

মদিনায় আসার পর মুহাম্মাদ (সা:) তিনটি প্রধান সামরিক পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। তারমধ্যে ৩য় পদক্ষেপটি ছিল মদিনার পাশ দিয়ে সিরিয়াগামী মক্কার বাণিজ্য কাফেলায় অভিযান চালানো হয়।

এরপর সিরিয়ার পথে যাতায়াত করা কুরাইশদের বাণিজ্য কাফেলাগুলির উপর বেশ কয়েকটি অভিযান পরিচালনা করা হয়।

সূত্র-(The Life of Muḥammad: A Translation of ibn Isḥāq’s Sīrat Rasul Allāh with introduction & notes by Alfred Guillaume, Oxford University Press, 1955, page 281-6

 Mirza Bashir Ahmad. "The Life and Character of the Seal of Prophets", Volume II Islam International Publications, 2013, p.89-92

 আর-রাহীকুল মাখতুম, বদরের যুদ্ধ অধ্যায়)

বদরের যুদ্ধের আগেই মহানবী ( দঃ ) মােট সাতটি সশস্ত্র অভিযান শত্রুর বিরুদ্ধে প্রেরণ কোরেছিলেন । একেবারে প্রথম অভিযানটি উবাইদা বিন হারেসের ( রাঃ ) অধীনে ৬০ থেকে ৮০ জন অশ্বারােহী , উদ্ভারােহীর দলকে ওয়াদ্দান নামক স্থানে পাঠানাে হয় । সেখানে সা’দ বিন আবু ওয়াক্কাস ( রাঃ ) কোরেশদের লক্ষ্য কোরে প্রথম তীর ছােড়েন । 

সূত্র-সিরাত রাসূলাল্লাহ ইবনে ইসহাক,অনুবাদ  -A  Guillaum পৃষ্ঠা-২৮১।

এখন যদি দেখা যায় মদীনায় হিজরতের পর মােমেনদের সাথে মােশরেকদের প্রথম সাক্ষাতেই সা’দ ( রাঃ ) আক্রমণের অপেক্ষা না কোরেই প্রথম তাদের লক্ষ্য কোরে তীর নিক্ষেপ করেন তবে অবশ্যই বােলতে হবে যে আক্রান্ত না হােলে আক্রমণ কোরব না এ নীতি নিশ্চয়ই মুসলিমদের ছিলাে না । তাছাড়া নীতি আত্মরক্ষামূলক হােলে মহানবী ( দঃ ) অশ্বারােহীদের প্রথম আক্রমণ । নিষেধ কোরে দিতেন এবং সা'দ ( রাঃ ) আল্লাহর রসূলের ( দঃ ) নির্দেশ অমান্য কোরে বিনা প্ররােচনায় কখনও প্রথম তীর ছুড়তেন না।

এই প্রথম দল প্রেরণের সঙ্গে সঙ্গেই বিশ্বনবী ( দঃ ) আরও একটি সশস্ত্র অশ্বারােহী দল পাঠান । এ দলে অশ্বারােহী , উষ্ট্রারােহীর সংখ্যা ছিলাে ত্রিশ জন এবং এর নেতৃত্ব দেন । মহাবীর হামযা বিন আবদুল মুত্তালিব ( রাঃ ) । এই দলের সাথে আবু জাহেলের নেতৃত্বে তিনশ ’ অশ্বারােহীর একটি দলের সাক্ষাৎ হয় সমুদ্র তীরবর্তী এক স্থানে । ইবনে ইসহাক লিখছেন মাজীদ বিন আমর নামে অন্য গােত্রের একটি শান্তিপ্রিয় লােক মাঝে পড়ে মধ্যস্থতা না কোরলে সংঘাত বেঁধে যেতাে ।

সূত্র-সিরাত ইবনে ইসহাক,অনুবাদ  -A Guillaum পৃষ্ঠা-২৮৩।

তাবুকের অভিজান পরিচালনাকে আত্মরক্ষামূলক ভাবে দেখানো হয় যে রোমানরা মদীনা আক্রমনের প্রস্তুতি নেয়ার প্রক্ষিতে রাসূলাল্লাহ যুদ্ধ প্রস্তুতি গ্রহন করেন।সময়টা ছিল গ্রীষ্মকাল,ফসল কাটার সময় এবং জেহাদ ফান্ড শুরু হয় তাবুকের অভিযান প্রস্তুতি থেকেই।

কে রোমের আক্রমনের  খবর মদীনায় দিল তার কোন প্রমাণ ইতিহাসে নাই।এরকম একটা উড়ো খবরে রাসূলাল্লাহ বছরের একটা গুরুত্বপূর্ণ সময়ে, প্রচন্ড গরমে পুরো জাতি নিয়ে অভিযানে বের হবেন এটা একজন সামরিক, রাষ্ট্রপ্রধানের থেকে আশা করা যায় না।

রাসূলাল্লাহর ক্ষেত্রে তো নয়ই।

উইকিপিডিয়াতে  এর তথ্যসূত্রে দেখানো হয়েছে Banglanewstwenty four.com. অথচ সেখানে সার্চ করে কিছু পাওয়া যায় নি।এটা আমার ফোনের সমস্যা নাকি আসলেই কিছু নাই বলতে পারলাম না। যেখানে অন্যান্য তথ্যসূত্র পাওয়া গেল সেখানে এ বিষয়ে কিছুই পাওয়া গেল না বিষয়টা অন্যরকম মনে হচ্ছে। 

তাছাড়া ইসলামে কেতাল অর্থাৎ সশস্ত্র সংগ্রামের পূর্বে ৩টি শর্ত আছে,

১। ইসলাম মেনে নিলে পরস্পর পরস্পরের ভাই।

২। না মেনে তাদের পূর্ব ধর্মে থাকতে চাইলে থাকতে পারে কিন্তু রাষ্ট্র পরিচালিত হবে ইসলামী শাসন ব্যবস্থায়।এখানে ব্যক্তিগত পর্যায়ে প্রত্যেকের ধর্মীয় স্বাধীনতা, জানমালের নিরাপত্তা দেয়া হবে।যুদ্ধক্ষম লোক যদি ঐ রাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য মুসলিমদের সাথে অস্ত্র ধারণ না করে তবে তার জন্য একটা নির্দিষ্ট পরিমান জিযিয়া দিবে।আর যারা মুসলিমদের সাথে থেকে যুদ্ধ করবে তাদের জন্য এবং শিশু,বৃদ্ধ-বৃদ্ধা ও অক্ষমদের জন্য জিযিয়া দিতে হবে না।

৩। উপরেের কোনটা না মানলে সংগ্রাম করে আল্লাহর দেয়া জীবনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করে শান্তি ন্যায় সুবিচার প্রতিষ্ঠা করবো। 

এটার সূত্রটা এখন দিতে পারলাম না।কারো কাছে থাকলে জানাবেন দয়া করে। 

তবে এখানে বিস্তারিত দেখতে পারেন।

 https://hadithbd.com/books/link/?id=5664

মিশর অভিযান বা মিশর বিজয়কে বাংলাদেশ প্রতিদিনে শাকিলা জাহান লিখিত ওমরের  (রা)  মিশর বিজয়ের কারণ হিসেবে  দেখানো হয়েছে

১। এর কৃষি সম্পদের প্রাচুর্য এবং সিরিয়া ও ফিলিস্তিন বিজয়ের পর রোম সম্রাটের ক্রমাগত দুশমনি মিসর বিজয়ের দিকে খলিফার দৃষ্টি আকৃষ্ট করে। মিসরে তখনো বাইজানটাইনীয়দের কর্তৃত্ব বহাল ছিল। রোমানদের সিরিয়া ও ফিলিস্তিনের এতটা কাছে অবস্থান করতে দেওয়া মুসলমানদের পক্ষে নিরাপদ ছিল না।

২। হিজায ছিল ইসলামের প্রাণকেন্দ্র।

মিসর হিজাযের অত্যন্ত নিকটবর্তী হওয়ায় যে কোনো মুহূর্তে মুসলিম শক্তির পক্ষে বিপদের আশঙ্কা ছিল। সুতরাং আত্মরক্ষার প্রয়োজনেই মুসলমানগণ মিসর দখল করতে উদ্বুদ্ধ হয়েছিল।

সূত্র -https://www.bd-pratidin.com/editorial/2018/01/18/298479

জাতির আকিদা কোন পর্যায়ে গেলে স্পষ্ট একটা বিষয়কে শুধুমাত্র ইসলাম বিরোধী শক্তির কাছে ইসলামকে শান্তির ধর্ম বলে তুলে ধরতে এমন যুক্তি দাঁড় করানো যায়!

অথচ তারা আল্লাহর দ্বীনকে বিজয়ী করতে আরব থেকে ছড়িয়ে পড়েছিল।তাদের এই কোরবানী কে যদি এভাবে পাল্টিয়ে কৃষি সচ্ছলতা, আক্রমনের ভয় কে যুক্তি হিসেবে প্রচার করা হয় তাহলে আল্লাহর কাছে তারা কী জবাব দিবেন তা জানা নাই।

এরপেরেও যারা বলবেন যে ইসলামে জেহাদ আছে তবে সেটা আত্মরক্ষামূলক তাহলে তাদের হীনমন্যতার জন্য আমার কিছু বলার নাই।তবে আমার লেখায় কারো কোন আপত্তি থাকলে শুধরে দিতে পারেন।