সামাজিক বন্ধন দৃঢ় হোক

প্রকাশিত: জানুয়ারী ২৫, ২০২১

ডিম থেকে মাত্র বের হওয়া হাঁসের বাচ্চাকে পানিতে ছেড়ে দিলে এটি সাতরে ডাঙায় চলে আসে। মাত্র পৃথিবীর আলো দেখেছে যে মুরগী ছানাটি সেও ঠুকরে শস্যদানা খেতে পারে। মাত্র ভূমিষ্ট হওয়া গরু, ছাগল, ঘোড়ার বাচ্চা নিজে থেকেই দুধ পান শুরু করে দেয়, কিছু সময়ের মধ্যে দৌড়া-দৌড়ি শুরু করে। অথচ মানুষ কী অসহায় হয়ে পৃথিবীতে আগমন করে! কান্না ছাড়া সে কিছুই করতে পারে না। স্বাবলম্বী হতে লেগে যায় জীবনের প্রায় অর্ধেক সময় (আসলে সে কখনোই স্বাবলম্বী হয় না, অন্যের সহযোগিতা ছাড়া সে একটা দিনও চলতে পারে না)। এর কারণ কী, আল্লাহ মানুষকে এত অসহায় করে সৃষ্টি করলেন কেন?

সামাজিক বন্ধন দৃঢ় হোক
আল্লাহ চান সমাজে বসবাসরত প্রতিটা মানুষ অন্য মানুষের কাছে ঋণের জালে আবদ্ধ হোক, তার হৃদয়ে যেন এই চেতনা জাগ্রত হয় যে- সে বহু মানুষের ভালোবাসা, সহযোগিতা, করুণা, দয়ার কারণে আজকের অবস্থানে পৌঁছেছে সুতরাং সমাজের অন্যান্য মানুষের প্রতিও তার দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে।

সমাজ টিকে থাকে সামাজিক বন্ধনের উপর। এই বন্ধনগুলো দৃঢ় হয় পারস্পরিক সহযোগিতা ও দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে। একসাথে বসবাস করতে গিয়ে একে অন্যকে যখন সহযোগিতা করে তখন তারা কৃতজ্ঞতা ও কর্তব্যের জালে আবদ্ধ হয়ে পড়ে। যেমন সন্তান বাবা-মায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও কর্তব্যের জালে আবদ্ধ। কর্তব্য পালন না করতে পারলে সে অনুশোচনার গ্লানিতে দগ্ধ হয়। এটা মানুষের চিরাচরিত সনাতন ধর্ম, মনুষ্য ধর্ম। এটা হারালে মানুষ আর মানুষ থাকে না।

আপনি আজ হয়ত বিরাট বড় ক্ষমতাশালী ব্যক্তি কিন্তু এক সময় আপনিও ছিলেন ছোট্ট শিশু। কান্না বাদে কিছুই করতে পারতেন না। এই অবস্থানে আসতে বহু জনের কাছে ঋণের জালে আবদ্ধ হয়েছেন।