ইবনে খালদুনের মুকাদ্দিমাহ গ্রন্থ থেকে - ‘সুর ও সঙ্গীত'

প্রকাশিত: জানুয়ারী ১৮, ২০২১

ইবনে খালদুনের মুকাদ্দিমাহ গ্রন্থ থেকে
মানবাত্মা সূর ও বাদ্য শুনে নিঃসন্দেহে আনন্দ ও পুলক অনুভব করে। এর ফলে আত্মশক্তি এমন একটা সজীবত লাভ করে, যদ্দরুণ কঠিন কাজও সহজ বলে মনে হয় এবং উদ্দিষ্টের জন্য মৃত্যুবরণ করতেও দ্বিধা করে না। 

এ বিষয়টি বাকহীন প্রাণিজগতেও বিদ্যমান। পাঠক, আপনি অবশ্যই জানেন, উট ‘হুদী' শুনে উত্তেজিত হয় এবং অশ্ব শিস ও চিৎকারে উদ্দীপ্ত হয়ে ওঠে। এ স্বরগ্রাম যদি সুসমন্বিত হয়, তা হলে প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রে আরাে সক্রিয় হয়ে থাকে যেমন সঙ্গীত । 

সঙ্গীত শ্রবণে শ্রোতার মধ্যে যে প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়, তৎসম্পর্কে পাঠক নিশ্চয় অবগত আছেন। এ কারণেই অনারবগণ রণাঙ্গনে ঢােলক বা শিঙ্গা নয়, বরং বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার করে। গায়করা সুলতানকে ঘিরে তাদের বাদ্যযন্ত্রসহ গীত গাইতে থাকে এবং বিচিত্র সুরলহরীর মাধ্যমে বীরদিগকে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়। আরব।

বেদুইনদের যুদ্ধে দেখেছি, গায়ক সৈন্যব্যুহের সম্মুখে বাদ্য বাজিয়ে কবিতা আবৃত্তি  করতে থাকে এবং তার বিষয়ের উত্তেজনায় বীর সৈন্যদের মনােবৃত্তি উদ্দীপ্ত হয়ে ওঠে। তারা রণাঙ্গনে ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং একে অপরের অনুসরণ করে বীর্যবত্তা প্রকাশ করে।

এরূপ মাগরিবের (মরোক্কো) জানাতী জনগােষ্ঠী; তাদের সৈন্যসারির সম্মুখে কবি এগিয়ে যায় এবং সুরের মাদকতায় এমন উত্তেজনার সৃষ্টি করে, যাতে সুদৃঢ় পর্বতও বিচলিত হয়ে ওঠে। এমন ব্যক্তিও তখন মৃত্যুকে আলিঙ্গন করতে ছুটে ইতিপূর্বে যে এর কল্পনাও করতে পারত না। এ সঙ্গীতকে তারা তাসুকাইত’ বলে ডাকে। এর মূল হল তদ্বারা এমন একটি পুলক শিহরণ অনুভূত হয়, যা বীর্যবত্তাকে উদ্দীপ্ত করে তােলে।