সৃষ্টির মাঝেই স্রষ্টাকে খুঁজে পাই

প্রকাশিত: জানুয়ারী ১৩, ২০২১

আমি যখন বৈদ্যুতিক বাতি জ্বালাই তখনই থমাস আলভা এডিসনকে দেখতে পাই, বীজগণিতের পাতায় পাতায় আল-খোওয়ারিজমিকে খুঁজে পাই, বিমানের উড্ডয়ন দেখলেই আব্বাস ইবনে ফিরনাস আর রাইট ব্রাদার্সদের কথা মনে পড়ে যায়। যখন কম্পিউটারে বসি তখনই সম্মান জানাই চ্যার্লস ব্যাবেজের প্রতি। আমার এক ঘনিষ্টজন বলল- যাদেরকে তুমি দেখনি কখনো তাদের প্রতি কেন সম্মান জানাও, কেনই বা বিশ্বাস কর এমন কেউ ছিল কখনো?

সৃষ্টির মাঝেই স্রষ্টাকে খুঁজে পাই

আমি তাকে বললাম- অন্ধকার ঘরকে একটা বাতি আলোকিত করল, তুমি সে আলোয় সব দেখলে অথচ সেই বাতির স্রষ্টাকে দেখলে না। বাতির আলো তোমার বাহ্যদৃষ্টি দান করেছে ঠিকই কিন্তু সে আলো অন্তর পর্যন্ত পৌঁছেনি। কিন্তু আমি প্রতিটা সৃষ্টির মধ্যেই স্রষ্টাকে খুঁজে পাই, তাই তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি, সম্মান জানাই।

এ তো গেল ছোট্ট ঘরকে আলোকিত করা সামান্য বাতির কথা কিন্তু যে বাতি সমগ্র বিশ্বকে উজ্জ্বল আলো, তাপ আর শক্তি যোগাচ্ছে অনবরত সেই দেদীপ্যমান সূর্যের স্রষ্টাকে কি তুমি দেখতে পাও? আমি তো তাকে সর্বত্রই দেখতে পাই, তাই সর্বক্ষণ তাঁকে স্মরণ করি, তাঁর প্রতি স্রদ্ধা জানাই, কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি আর বিনয়াবনত হয়ে নত মস্তকে সাজদা করি অন্তত দিনে পাঁচবার (জানি তা যথেষ্ট নয়)।

যারা প্রকৃতির অসংখ্য সুন্দর ও সুশৃঙ্খল সৃষ্টি দেখেও তার স্রষ্টাকে খুঁজে পায় না তারা অন্ধ, দৃষ্টিহীন আর যারা স্রষ্টাকে খুঁজে পায়, বিশ্বাস করে কিন্তু স্রষ্টার হুকুম মান্য করে না তারা অকৃতজ্ঞ। আজ আমরা স্রষ্টাকে বিশ্বাস করছি, স্রষ্টার প্রতি সম্মান জানাচ্ছি, হুকুম মান্য করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি সাজদাবনত হয়ে কিন্তু সত্যিকারার্থে হুকুম মানছি পাশ্চাত্য প্রভুদের।