এই তৌহিদী জনতার হাতে যদি ঐ বেদুঈন পড়তো

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারী ১৮, ২০২১

রাসূল সা. এর জীবদ্দশায় একবার এক বেদুঈন মসজিদে প্রস্রাব করে দিল। লোকেরা উঠে তার দিকে গেল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তার প্রস্রাব করায় বাধা দিও না। অতঃপর তিনি এক বালতি পানি আনালেন এবং তাতে ঢেলে দিলেন। [আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত, মুসলিম২/৩০, হাঃ ২৮৪, আহমাদ ১৩৩৬৭ (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫৯১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৪৮৭)]

এই তৌহিদী জনতার হাতে যদি ঐ বেদুঈন পড়তো
সেই ব্যক্তিটি যদি বর্তমান কথিত তৌহিদী জনতার সামনে পড়তো কী হতো? বলতে পারছেন না? নৃশংসভাবে পুড়িয়ে মারতো আর সমবেত উল্লাস করতো। যে কথিত ধর্মপ্রাণরা সত্যমিথ্যার যাচাই না করেই গুজবের উপর ভিত্তি করে দিনেদুপুরে একটা মানুষকে পিটিয়ে-পুড়ে মেরে ফেলতে পারে, তাদের কাছে ঐ বেদুঈন ব্যক্তির অপরাধের শাস্তি আরো ভয়ংকর!

আচ্ছা বলুনতো এই ভুলটা কেনো হচ্ছে আমাদের? মানে রাসূল সা. যেখানে শাস্তির পরিবর্তে উদারতা-সহমর্মিতার শিক্ষা দিলেন সেখানে আমরা ঠিক রাসূল সা. এর শিক্ষার বাইরে গিয়ে কি নির্মমতা-নৃশংসতার পরিচয় দিচ্ছি!

ঠিক কে বা কোন স্পিরিট আমাদের এই অপরাধপ্রবণতার দিকে ঠেলে দিলো? কোথায় সহমর্মিতার জিহাদ, কোথায় কিতালের জিহাদ - এই শিক্ষার ব্যাপারে আমরা কেনো এত দ্বিধা-দ্বন্দ্বে?

আমরা ফিতনা-ফাসাদকেই অধিকাংশ সময় কিতালের জিহাদ মনে করি। এসব করে আত্মতৃপ্তিতে ভুগি, ইসলামের জন্য কী না কী করে ফেললাম! অথচ নিজের ও ইসলামের কত বড় ক্ষতি করলাম সেটা কল্পনাও করি না।

'জিহাদ-কিতাল ও সন্ত্রাস' নিয়ে জানতে পড়ুন এই বইটি - https://bit.ly/3pr9wMp