এ বিপ্লব সে বিপ্লব নয়

প্রকাশিত: মার্চ ১৩, ২০২১

এ বিপ্লব সে বিপ্লব নয়
এ জাতির দিকে তাকালে মনে হয় তারা খুব সুখেই আছে। কোনো কষ্ট নেই, অশান্তি নেই, অবিচার নেই; চারদিকে সুখ আর সুখ। যদি কালভদ্রে কেউ বুঝেও ফেলে মানুষগুলো ভালো নেই তবে তার জেগে উঠা ঐ রাজনৈতিক দলকেন্দ্রিক পর্যন্তই। এর বাইরে আমাদের সচেতন নাগরিকরা কল্পনা করতে পারেন না।

একদিকে অধিকাংশ মানুষ তাদের অধিকার সম্পর্কে অসচেতন, ওয়াকেফাল অন্যদিকে কলুষিত সিস্টেমের সাথে খাপ খাইয়ে নেয়া। একদিকে বুদ্ধি ও চিন্তার আড়ষ্টতা অন্যদিকে 'বয়েলিং ফ্রগ সিন্ড্রোমে' আক্রান্ত পুরো জাতি।

এরকম একটা জাতিকে যদি 'সিস্টেম পাল্টানোর' বিপ্লবী বাণী শুনান এরা হা হয়ে থাকে অথবা আকাশ থেকে পড়ে। প্রকাশ্যে-অপ্রকাশ্যে বলে, বেশ ভালোইতো আছি। এর মাঝে বিপ্লবটা প্রয়োজন কেনো?

কঠিন এক প্রশ্ন, যার উত্তর দেয়া বিপ্লবীদের পক্ষে অসাধ্যই বটে।

মানুষ পরিবর্তনের চিন্তা তখনই করে, যখন তার মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণ হয় না। কিন্তু মানুষগুলোর দিকে তাকিয়ে দেখুন, তারা ঠিকই তাদের মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণ করতে সমর্থ। কে কিভাবে করছে সেটা বিবেচ্য না, করছে কিনা সেটাই মুখ্য। তাহলে বলুন ঐ প্রশ্নটা কি অযৌক্তিক ছিলো - বেশ ভালোইতো আছি। এর মাঝে বিপ্লবটা প্রয়োজন কেনো?

রুশ বিপ্লবের আগে অধিকার অসচেতন মানুষগুলোর বস্তিতে বস্তিতে গিয়ে তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করতে হয়েছিলো, চীনা বিপ্লবেও একই পদ্ধতি।

সেই একই পদ্ধতিতে আমাদের দেশেও সমাজতান্ত্রিক-কম্যুনিষ্ট আদর্শের আন্দোলনগুলো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে কিন্তু কোনো বিপ্লবই হচ্ছে না, বরং মানুষ মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।

কারণ যাদেরকে অধিকার সম্পর্কে সচেতন করবেন, তাদের তো তেমন অভাব নেই। তারা কিসের বিরুদ্ধে বিপ্লব করবে, কেন করবে, কার প্রতি তাদের এত ক্ষোভ, এত বিদ্রোহ?

হ্যা, চারদিকে আজ যেটার অভাব সেটা হলো ন্যায়, সত্য, সুন্দর, শান্তি। এখানে নীতির বিরুদ্ধে দুর্নীতি বিজয়ী, সত্যের বিরুদ্ধে মিথ্যা, ন্যায়ের বিরুদ্ধে অন্যায়, সুবিচারের বিরুদ্ধে অবিচার, সভ্যতার বিরুদ্ধে অসভ্যতা, শান্তির বিরুদ্ধে অশান্তি জয়ী। মিথ্যার এত প্রতাপ-প্রভাব কোনোটাই মানব ইতিহাসের কোনোকালে ছিলো না। যেটা ছিলো সেটা নির্দিষ্ট ভূখন্ড, জাতির মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিলো। কিন্তু এটা এখন দানবে (Monster) পরিণত হয়েছে, হেযবুত তওহীদ যেটাকে দাজ্জাল বলছে।

এই দানবের প্রভাব-প্রতিপত্তি, ক্ষমতা দেখে মানুষগুলো দানবসৃষ্ট সিস্টেমকে গ্রহণ করে নিয়েছে। যারা গ্রহণ করে নিয়েছে তাদের প্রত্যেকের সোসাইটি আছে, কমিটি আছে, দল আছে, সাপোর্ট আছে। তারা নিঃসংকোচে দুর্নীতি করে, ঘুষ খায়, ক্ষমতার অপব্যবহার করে, সিন্ডিকেট তৈরি করে নিজেদের মত সব সেক্টরগুলো নিয়ন্ত্রণ করে। আর এর বাইরে যে আমজনতা আছে, যাদের ওসব নেই, তারা সর্বত্রই ভুক্তভোগী। কিন্তু এরাও চারিত্রিকভাবে দাজ্জালের অনুসারী। সুযোগ পেলে এরাও ঐ সোসাইটিতে মিশে যাবে।

এককথায় সবাই জেনে, না জেনে সেই দানবের তৈরি কলুষিত সিস্টেমকে অনুসরণ করছে এবং বাধ্য হচ্ছে। পুরো বিষয়টা চিন্তা করলে মগজ ফুটার উপক্রম হওয়াটাই স্বাভাবিক।

এত বড় একটা বিষয়, এত বড় একটা সিস্টেমের বিরুদ্ধে গিয়ে বিপ্লব করা, বিদ্রোহ করা, সংগ্রাম করা আর নির্দিষ্ট ভূখন্ডের বিপ্লব এক না।

এই বিপ্লব আল্লাহর সাহায্য ছাড়া অসম্ভব।