শব্দদূষণ নিয়ে কারো কোনো মাথাব্যথা নেই

প্রকাশিত: মার্চ ০৭, ২০২১

বিশেষ বিশেষ দিন কিংবা রাতে যত্রতত্র উচ্চস্বরে গান-বক্তৃতা বাজালে হয় 'দেশপ্রেম চেতনা', ধর্মীয় বক্তৃতা-ঢাকঢোল বাজালে হয় 'ধর্মীয় চেতনা', ডিসকো গান বাজালে হয় 'সেলিব্রেশন' আর শহর-বন্দর জুড়ে রিক্সা-ভ্যানে মাইকিং করলে হয় 'প্রচারণা'। 

শব্দদূষণ

শব্দ নিয়ে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর ভ্রুক্ষেপ নেই বললেই চলে - না সিটি কর্পোরেশনে, না শহরগুলোতে। 'অভিযোগ না আসায়' উনারা কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেন না। 'শব্দদূষণ' বলে যে শব্দগুচ্ছটি রয়েছে, সেটি পাঠ্যবইয়েই সীমাবদ্ধ। এটাও যে একটা ভয়াবহ দূষণ, হয়তো এদেশের আপামর জনতা খুব একটা গুরুত্বের চোখে দেখেন না। একেতো 'চেতনা'-র দৌরাত্ম্য, অন্যদিকে গুরুত্বহীনতা কিংবা অজ্ঞতা। 

বিবিসি বাংলা সূত্রে, বছর কয়েক আগে পরিবেশ অধিদফতরের করা এক জরিপে উঠে এসেছে যে মাত্রাতিরিক্ত শব্দের কারণে ইতোমধ্যেই দেশের প্রায় ১২ শতাংশ মানুষের শ্রবণশক্তি হ্রাস পেয়েছে।

ডয়চে ভেলের এক সাক্ষাৎকারে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতালের নাক, কান ও গলা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মনিলাল আইচ লিটু বলেন, 

"শব্দদূষণের কারণে অনেক রোগীই আসছেন । আমি মনে করি, এক তৃতীয়াংশ মানুষ শব্দদূষণের কারণে আক্রান্ত। একটা গবেষণায় দেখা গেছে, বর্তমানে শব্দদূষণের যে মাত্রা, সেটা যদি অব্যহত থাকে, তাহলে ২০২৩ সাল নাগাদ এক তৃতীয়াংশ মানুষ এর দ্বারা আক্রান্ত হবেন। তাঁরা বধিরতায় আক্রান্ত তো হবেনই, এছাড়া তাঁদের ক্ষুধামন্দা, রক্তচাপ বেড়ে যাওয়া, কাজে মনোযোগী হতে না পারা, কানের মধ্যে ভোঁ ভোঁ করাসহ হৃদরোগের সমস্যাও হতে পারে।"