অ্যাটিচুড (Attitude) নিয়ে কিছু কথা

প্রকাশিত: এপ্রিল ০৭, ২০২১

অ্যাটিচুড (Attitude) বা মনোভাবঃ

চলুন প্রথমে জেনে নেয়া যাক Attitude বলতে আমরা আসলে কী বুঝি।আমাদের ভেতরের, আত্মার অবস্থাকে, চিন্তাধারাকে আমরা যে প্রক্রিয়ায় প্রকাশ করি বা লুকিয়ে রাখি তাই Attitude বা মনোভাব। 

Attitude এর অর্থ হলো মনোভাব, আচরণ, দৃষ্টিভঙ্গি  ইত্যাদি ।

Attitude এর ইতিবাচক ও নেতিবাচক দুটো দিক রয়েছে।

একটা গ্লাসে যদি অর্ধেক জল থাকে তাহলে এই অবস্থার বর্ণনা দুই ভাবে করা যায়।

প্রথমত, অর্ধেক জল আছে।

দ্বিতীয়ত, অর্ধেক গ্লাস খালি বা অর্ধেক জল নাই।

অ্যাটিচুড
বর্ণনা যেভাবেই দেন সমস্যা নাই কিন্তু এতে আপনার চিন্তাধারার সুক্ষ্ম একটা দিক ফুটে উঠে মনের অজান্তেই। যেটা আপনিও বুঝতে পারছেন না। আজ সমাজের প্রতিটা ক্ষেত্রেই নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি বিরাজমান। বিশেষ করে লিঙ্গবৈষম্যের বেলায়।

যারা শুধু  বালক/বালিকা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী তাদের পরষ্পরের প্রতি পরষ্পরের মনোভাব তাদের থেকে আলাদা যারা বালক +বালিকা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী। এর একটা যৌক্তিক কারণ আছে।

"যা খাইনি না জানি কত স্বাদ, 

যা দেখিনি না জানি কত সুন্দর।"

বাবা আদমকে পৃথিবীতে বানিয়ে তারপর জান্নাতে থাকতে দেয়া হলো কিন্তু জান্নাতের অঢেল সুখ-শান্তি তাকে পূর্ণতা দিতে পারেনি। জান্নাতে সৃজিত মা হাওয়া সেই অপূর্ণতা পূর্ণ করলো।সূচনালগ্নের এই বিষয়টা কিন্তু খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যেখানে নারী আছে সেখানে প্রানোচ্ছলতা আছে,স্বাচ্ছন্দতা আছে,কর্মে উল্লাস আছে। যেখানে নারী নাই সেখানটা মরা,নিস্প্রভ, উচ্ছাসহীন মনমরা।

যখনই কোন একদলকে আরেক দল থেকে সম্পূর্ণ আলাদা করে দেয়া হয় তখন প্রাকৃতিকগতভাবেই  নিজেদের সামঞ্জস্যতা,ভারসাম্য  হারিয়ে ফেলে।ফলে তারা এমন অন্যায়ে ধাবিত হয় যা পশুকেও হার মানায়।এজন্যই রাসূলাল্লাহর সামনে পুরুষদের পাশাপাশি নারী আসহাবরাও দ্বীনের কথা শুনেছেন।মসজিদে,জুমার সালাতে, খুৎবায়,পাঞ্জেগানা নামাজে,বাজার ব্যবস্থাপনায়,যুদ্ধের ময়দানে, অসুস্থের সেবায় কোন ক্ষেত্রে নারী নাই? বরং দ্বীনের যথাযথ নিয়ম মেনে প্রতিটা জায়গায় নারীর বীরত্বপূর্ণ বিচরণ ছিল।কিন্তু আজ নারীদেরকে কেন নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখা হচ্ছে?কারণ আমরা আমাদের মনোভাবে ইতিবাচক দিকটা বাদ দিয়ে  নেতিবাচক দিকটাই গ্রহন করেছি। নারী শান্তির আধার,নারী প্রশান্তির পেয়ালা, সন্তানের কাছে সবচেয়ে প্রিয় তার  মায়ের কোল।

বোনের জন্য  ভাই  খুনসুটির  বিশস্ত সঙ্গী। কিন্তু আজ আমরা অন্য নারীকে মা, বোন ভাবতে পারি না।এর পেছনে যে কারণকে সবার আগে দায়ী করবো তা হলো ধর্মের মূল কনসেপ্টকে নিজেদের মতো করে ব্যাখ্যা করে  নারীকে স্রষ্টার প্রকৃতিগত অবস্থান থেকে আলাদা করে ফেলা। শুধু তাই নয় নারীকে সকল অন্যায়ের মূল হিসেবে সর্বোচ্চ ওয়াজে আওয়াজে  প্রচার করা।তারপর বলবো লাগামহীন পাশ্চাত্য সভ্যতার প্রচার-প্রসার।যে বাগানের মালি নেই সেই বাগান অচিরেই ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। তেমনি যে সভ্যতায় নারীকে শুধু ভোগ্যপণ্য হিসেবে উপস্থাপন করে সেই সভ্যতার শিক্ষায় শিক্ষিতদের থেকে নারীদের সম্মান আশা করা বোকামি। 

এখন তাহলে  নারী সম্পর্কে এই নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিকে কিভাবে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিতে বদলানো যায় এটাই মূল আলোচ্য। নারী ছাড়া সৃষ্টির বিকাশ হয় না, নারী মূল, নারী মা, যা থেকে সূচনা তাই নারী।নিজের সৃষ্টির শুরুটা জানা। নারী ছাড়া আমি কতোটা অসহায়, সৃষ্টিজগত কতোটা অসহায় এই সম্পর্কে প্রত্যেকের জানা। এমনকি একজন নারীরও। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় আলোচনায় সর্বত্র নারীর প্রাপ্য মর্যাদা,যথাযথ পর্দার বিধান নিশ্চিত করা, নারী-পুরুষের সহাবস্থান নিশ্চিত করা, বিবাহ রীতি সহজকরা,  নেতিবাচকদের পর্দার মানে বুঝানো, দৃষ্টিতে লাগাম পরানো। আর এই  প্রত্যেকটা জিনিসই ধর্মের প্রকৃত আকিদা ছাড়া করা সম্ভব নয়। আছে কারো কাছে ধর্মের সেই মহামূল্যবান জিনিস আকিদা?

এখানে নিজের বাস্তব কিছু কথা বলে লেখা শেষ করবো। 

আমি ছোট থেকেই  বালক প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী । ২-১ বছর ছাড়া,যখন নারী সম্পর্কে কোন জ্ঞানই হয়নি।আমি দেখেছি আমার সহপাঠীদের নারী সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গি ছিল মারাত্মক ধরণের।আমার অবস্থান প্রতিষ্ঠানের সময়টা তাদের মতোই ছিল কিন্তু বাড়িতে আসলেই পাল্টে যেতো কারণ বাড়িতে সমবয়সী ফুপু,খালা,চাচাতো-জ্যাঠাতো বোনের একটা দল ছিল। যেখানে থাকলে নারীদের নিয়ে সহপাঠীদের মতো ভাবার অবকাশ মিলতো না।কিন্তু বাইরের কোন নারীকে পারিবারিক শিক্ষার কারণে যথেষ্ট সম্মান দিলেও আত্মিকভাবে সচ্ছতা এসেছে অনেক পরে।জীবনের ১৯তম বছরে আমি লিঙ্গজনিত দৃষ্টির নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পুরো পাল্টাতে পেরেছি। যার শুকরিয়া আদায় করে শেষ করার মতো ধৃষ্টতা দেখাবো না। রাব্বুল আলামিনের দরবারে শুধু এইটুকু বলবো হেদায়াতের যে জ্ঞান উনি এই পাপিষ্ঠকে দিয়েছেন তা যেন আমৃত্যু ধরে রাখতে পারি।