ইসলাম কি বর্তমান যুগে অচল?

প্রকাশিত: এপ্রিল ১৫, ২০২১

অতি ক্ষুদ্র করোনা ভাইরাসও সময়ের সাথে নিজেকে খাপ খাইয়ে নিচ্ছে, আধুনিক হচ্ছে, কিন্তু আমরা মুসলিমরা তিনশ বছর আগে যেখানে ছিলাম, এখনও সেখানেই আছি। একবিন্দুও আধুনিক হতে পারলাম না। তাহলে আমরা কি করোনার চেয়েও অধম হয়ে গেলাম?

ইসলাম কি বর্তমান যুগে অচল?
এটা ঠিক যে, মুসলিমদের একটা অংশ আধুনিক হবার চেষ্টা করেছে, প্রগতি অর্জনের চেষ্টা করেছে কিন্তু সেই অংশটি ইসলাম নিয়ে তা করতে পারেনি। তাদেরকে ইসলাম বাদ দিয়ে অন্য কোনো মতাদর্শের উপর নির্ভর করে প্রগতির পথে পা বাড়াতে হয়েছে। ইসলাম নিয়ে যিনিই দাঁড়াতে চেষ্টা করেছেন, সামনের দিকে পা বাড়িয়েছেন, তাকেই হাজারো ফতোয়ার জাল আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে ফেলেছে এবং মুহূর্তেই গতিহীন স্থবির করে ফেলেছে। তবে কি ইসলাম আমাদেরকে যুগোপযোগী ও আধুনিকমনস্ক হতে বাধা দিচ্ছে? পেছনের দিকে টেনে ধরে রাখছে? 

তা তো হবার কথা নয়। কারণ ইসলাম কোনো নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অবতীর্ণ হয়নি। কেয়ামত পর্যন্ত ইসলামকে টিকে থাকতে হবে। কেয়ামত পর্যন্ত যত সমস্যা আসবে সবকিছুর সমাধান করতে হবে। কেয়ামত পর্যন্ত মানুষের স্বাভাবিক উন্নতি-প্রগতি-সমৃদ্ধির ধারাকে অব্যাহত রাখতে হবে। এজন্য ইসলামের আরেক নাম দীনুল কাইয়্যেমা। যেটা চিরন্তণ। যেটা সময়ের পরিবর্তনে অচল ও বাতিল হয়ে যাবে না। 


তাহলে কেন বাতিল হচ্ছে? কেন সময়ের গতির সাথে আমরা মুসলিমরা গতি মেলাতে পারছি না? কেন আমাদের দীনকে সেকেলে ও মধ্যযুগীয় বলে কটাক্ষ করার সুযোগ পাচ্ছে অন্যরা? আমাদের এই বাস্তব সমস্যার সমাধান কার কাছে পাব? 


বাতিলের বিরুদ্ধে হুংকার দেওয়া এক জিনিস, আর বাতিলের যুক্তির সমুচিত জবাব দেওয়া ভিন্ন জিনিস। আমরা আমাদের ধর্মীয় নেতাদের যে গলাবাজি দেখি, সেটা দিয়ে হাজার বছর আগের কোনো সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হলেও বর্তমান যুক্তিশীলতার যুগে, জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চার যুগে এইসব গলাবাজি দিয়ে কিছুই অর্জিত হয় না। এই যুগটা গলাবাজির যুগ নয়। সংখ্যাধিক্য আর পেশীশক্তি প্রদর্শনের যুগ নয়। এখন যুদ্ধ হয় অনলাইনে। এখন আক্রমণ হয় সাইবার আক্রমণ। এখন লক্ষ লক্ষ ঢাল তলোয়ার, অশ্বারোহী ও হস্তিবাহিনী নিয়ে শত্রুর দূর্গ অবরোধ করে বসে থাকতে হয় না। এমনকি কোনো দেশকে সামরিকভাবে পরাজিত করার জন্য অনেক সময় সেনাবাহিনী পাঠানোরও দরকার পড়ে না, কেবল আকাশ থেকে দু’টো বোমা ফেলেই হাজার হাজার বর্গমাইল এলাকা তছনছ করে ফেলা যায়। এখন শক্তির উৎস হলো জ্ঞান, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি। আর আদর্শের ভিত্তি হলো যুক্তি। যার আদর্শ যত যৌক্তিক, যত বিজ্ঞানসম্মত, যত বাস্তবসম্মত, যত মানবিক- তার আদর্শ তত শক্তিশালী! আর যার আদর্শ যত যুক্তিবিরোধী, আক্রমণাত্বক ও অমানবিক- তার আদর্শ তত ঠুনকো!

এমতাবস্থায়, হাজার হাজার প্রশ্নের বান ধেয়ে আসছে আমাদের মুসলিম জনগোষ্ঠীর দিকে। এখন গলাবাজি দিয়ে কী হবে? আমাদের চাই যুক্তি। আমাদের চাই প্রমাণ। আমাদের চাই হাজার হাজার প্রশ্নের বাস্তবসম্মত জবাব। সত্যিই কি ইসলাম হেফাজত করতে চান? তাহলে ইসলাম যে সেকেলে নয়, অচল নয়, মধ্যযুগীয় নয়, ইসলাম যে আজকের যুগেও আধুনিক ও যুগোপযোগী দীন- সেটা প্রমাণ করুন। সমালোচনা শুনলেই রেগে আগুন হয়ে বুনো ষাঁড়ের মত তাণ্ডব না চালিয়ে, সেই সমালোচনার যৌক্তিক জবাব দিন।

আর যদি মাথায় ঘিলু বলে কিছুই না থাকে তাহলে খ্রিস্টীয় মধ্যযুগের মৌলবাদীদের মত চাপাতি আর শক্তির জোরে ধর্ম রক্ষার চেষ্টা করতে থাকুন, কিছুদিন পর দেখবেন আপনাদের কাজকর্মে অতিষ্ঠ হয়ে চিন্তাশীল ও যুক্তিশীল মানুষ আপনাদের মতাদর্শকে লালকার্ড দেখাচ্ছে, নিজেদের চলার পথ নিজেরাই আবিষ্কার করে নিচ্ছে। যেভাবে ইউরোপের মানুষ খ্রিস্টধর্মকে লালকার্ড দেখিয়ে ধর্মহীন রাষ্ট্রব্যবস্থা তৈরি করে নিয়েছিল।