ধর্মব্যবসায়ীদের তোষণ করে চলা বন্ধ হোক চিরতরে

প্রকাশিত: এপ্রিল ১৭, ২০২১

ধর্মনেতাদের বিরুদ্ধে বেশ দমন-পীড়ন চলছে। এমনকি তাদের অনেক অপকর্ম, ধর্মব্যবসা ইত্যাদির বিরুদ্ধে বেশ কথা হচ্ছে। বিবিসিসহ কিছু নির্ভরযোগ্য মিডিয়ার বিশ্লেষণ হচ্ছে- নতুন হেফাজতের অবাধ্য নেতৃত্বকে বাগে আনতেই সরকার তাদেরকে নতুন/পুরাতন মামলায় গ্রেফতার করছে। আহমদ শফী সাহেব ২০১৩ সালের শাপলাচত্ত্বর ঘটনার পর সরকারের সাথে হাটহাজারীর সম্পর্ক বেশ ভালো করে তোলেন। 

সম্প্রতি নরেন্দ্র মোদীর বাংলাদেশ সফর নিয়ে বিক্ষোভ করে হেফাজতের সমর্থকরা। ছবি: বিবিসি বাংলা

হেফাজতের বিভিন্ন দাবী দাওয়া পূরণে সরকারও এগিয়ে যায়। এভাবে দেওয়া নেওয়ার সম্পর্কের ফলে হেফাজত বনাম সরকারের যে দূরত্ব তা ঘুঁচে যায়। কিন্তু গত বছর ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে বাবুনগরী/মামুনুল গংএরা আহমদ শফী সাবকে হটিয়ে সংগঠনটির নেতৃত্বে আসে। আমি সেই সময়ই বলেছিলাম এই হেফাজত সেই হেফাজত নয়। এই হেফাজতের কর্মকাণ্ডে সরকারকে ভোগান্তিতে পড়তে হবে। আগের হেফাজতের যে নমনীয় ও অরাজনৈতিক মনোভাব ছিল সেটা এই হেফাজতের মাঝে থাকবে না। এবারে যারা ফ্রন্টলাইনে এসেছে তারা উগ্রবাদী ও আগ্রাসী মনোভাবের। এরা তালেবানী স্টাইলে দেশে তাণ্ডব চালাবে। দেখা যায় এই নেতৃত্ব কার্যকর হওয়ার পরেই পরিবেশ পাল্টে যায়। শুরুটা হয় বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নিয়ে। আর শেষ যেটা হলো স্বাধীনতা দিবসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আগমনকে কেন্দ্র করে। এ নিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় যে তাণ্ডব চলেছে, অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে, হতাহত হয়েছে তার প্রেক্ষিতে সরকার এখন লকডাউনের সুযোগে হাতে ছাই নিয়ে একটা একটা করে ছোট বড় নেতাদেরকে ধর-পাকড় করছে। হেফাজতীরা কিছুই করতে পারছে না। পারার কথাও না। সরকার হার্ডলাইনে থাকলে হেফাজতের যে শক্তি আছে তা দিয়ে কিছুই করতে পারবে না। রাষ্ট্র অনেক শক্তিশালী। বিপরীতে, ওরা নিরস্ত্র। সাময়িকভাবে উত্তেজনা তৈরি করে অল্প সময়ের জন্য ওরা হৈ হৈ রৈ রৈ করে কিছু একটা করলেও কিছু সময়ের ব্যবধানেই তারা ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।


ভয়ের বিষয়টা হচ্ছে, সরকারের চাপে যখন এরা নতি স্বীকার করবে তখন আজকে এই যে ধর্মব্যবসায়ী মোল্লাদের বিরুদ্ধে নানা কথা বলা হচ্ছে সেটা ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গিয়ে তাদেরকেই তোয়াজ করা শুরু করবে সরকার। দান-অনুদান দিয়ে ভরে ফেলবে। বিনিময়ে ওরাও যে ছাত্রলীগ/আওয়ামীলীগকে যে কাফের ফতোয়া দিয়েছিল, জানাজা পড়া নাজায়েজ বলে ফতোয়া দিয়েছিল সেগুলো উঠিয়ে নেবে। তখন ছাত্রলীগ/আওয়ামীলীগ আবার মুমিন হয়ে যাবে। 


ধর্মকে পুঁজি করে স্বার্থ উদ্ধার, অপরাজনীতি, ধর্মব্যবসা ইত্যাদির বিরুদ্ধে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে আমরা এই ভয় থেকে কখনোই মুক্ত হতে পারব না। এরাও সুযোগ সুবিধা গ্রহণ করে টিকে থাকবে। স্বার্থের প্রয়োজনে আবার ফোঁস করে উঠবে। কিছু খানাপিনা দিলে আবার চুপ হয়ে যাবে। আমি চাই এদেরকে চিরতরে তোষণ করা বন্ধ করা হোক।