কিশোরী ও এক ভিক্ষুকের গল্প

প্রকাশিত: এপ্রিল ১৪, ২০২১
কিশোরী ও এক ভিক্ষুকের গল্প
গেইটে শব্দ হচ্ছে।  ভিক্ষুক হয়তো। চালের মগটা গেইটের ফাঁক গলে কিছুক্ষণ ধরে টাখলেও নেয়ার কোনো সম্ভাবনা না পেয়ে গেইট খুলে কারণ বুঝতে পারলাম। হাত দুটো শরীরের সাথে লাগানো, প্যারালাইজড্। ফলে কোনোকিছু ধরার মতো সামর্থ্য নাই। ব্যাগটা কাঁধে ঝুলানো। "মা, ভাত আছে?" জিজ্ঞেস করলেন লোকটি। আছে তবে ঠান্ডা ভাত। সোহানা আপুকে বলে ভেতরে বসতে দিলাম। আপু মাছের তরকারি দিলেন তাই দিয়ে খেতে দিলাম। কিন্তু আটকে গেলাম আরেক কাজে। যে লোক ভিক্ষা নিতে পারে না সে ভাত খাবে কিভাবে? এই বিষয়তো আগে মাথায় আসেনি। "আপনি কিভাবে খান?" জিজ্ঞেস করলাম। আমার মেয়ে, বউ খাইয়ে দেয়। চামিচ নিয়ে এসেও আটকে গেলাম। "যদি কিছু মনে না করেন নিজের ছেলের মতো খাইয়ে দেন।" নিঃসংকোচে বললেন লোকটি। তৎক্ষনাৎ মনে হলো আল্লাহ কখন, কাকে, কিভাবে পরীক্ষা করে বলা যায় না। তাই বাড়তি কিছু না ভেবে খাইয়ে দিলাম। "আরো ভাত আছে?" বললেন লোকটি।

পাতিলের সবগুলো ভাত খাওয়ালাম। চেহারায় স্বর্গীয়  তৃপ্তির দ্যুতি ভেসে উঠলো। খোঁচা খোঁচা দাড়িতে আটকে থাকা ভাত পরিস্কার করে দিলাম। মন খুলে দোয়া করলেন মাঝবয়সী লোকটি।  ভাবতে লাগলাম আল্লাহ কার রিজিক কখন কার হাতে রাখে কল্পনাও করা যায় না । যে লোকটা নিজে কিছু করতে পারে না সে অজানা, অচেনা এক জায়গায় পেট পুরে খেলেন।  তাই ভাবি "আল্লাহর খেল বুঝা বড় দায়।"

(ঘটনাটি ইন্টারমিডিয়েটে পড়া এক কলেজ ছাত্রীর। শুনে মনটা অন্যরকম প্রশান্তিতে ভরে গেল। আত্মাহীন এই বস্তুবাদী সভ্যতার যুগে এসেও মানবতা পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি।)