কেমন হতো যদি ইসলামে জিহাদ না থাকতো?

প্রকাশিত: মে ১৬, ২০২১

গণতন্ত্রে জিহাদ আছে, সমাজতন্ত্রে জিহাদ আছে। এমনকি নাস্তিকতন্ত্রেও জিহাদ আছে। তাদের আদর্শকে রক্ষা করতে বা প্রতিষ্ঠা করতে, তাদের লক্ষ্য হাসিল করতে তারা সবাই অস্ত্র হাতে তুলে নেয়। যেমন গণতন্ত্রের ধ্বজাধারী আমেরিকা তাদের নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে আফগানিস্তান-ইরাক-সিরিয়ায় বোমা ফেলেছে। লক্ষ লক্ষ মানুষ মেরেছে। গণতন্ত্র রক্ষা হয়েছে। একইভাবে সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েত ইউনিয়ন সমাজতন্ত্র রক্ষা করতে গিয়ে লক্ষ লক্ষ মানুষকে হত্যা করেছে। যেসব দেশের অধিকাংশ মানুষ নাস্তিক, ওইসব দেশেও সামরিক বাহিনী আছে, অস্ত্র ও গোলা বারুদ আছে। কেন আছে? মানুষ মারার জন্যই তো। তাদের নাস্তিকতা বা মানবিকতা কিন্তু তাদেরকে নিরস্ত্র করতে পারেনি। 

কেমন হত যদি ইসলামে জিহাদ না থাকত?

দেখা যাচ্ছে সবাই মানুষের রক্ত ঝরায় বা রক্ত ঝরাতে প্রস্তুত থাকে। এমনকি নিরীহ নির্দোষ মানুষেরও রক্ত ঝরায়। কিন্তু তাদেরকে এই কটুক্তি শুনতে হয় না যে, তোমাদের গণতন্ত্র সহিংসতা শেখায়, তোমাদের সমাজতন্ত্র সহিংসতা শেখায়, তোমাদের নাস্তিকতা সহিংসতা শেখায়। অন্যদিকে ইসলামে কেন যুদ্ধের কথা বলা হলো, সামরিক সংশ্লিষ্ট আয়াত নাজেল হলো, শত্রুকে আঘাত করতে বলা হলো সেটা নিয়ে আপত্তির শেষ নাই। 

ইসলাম হলো কমপ্লিট কোড অব লাইফ, পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান। আর মানবজীবনের বিরাট অংশজুড়ে আছে যুদ্ধ-বিগ্রহ সেটা তো আমরা অস্বীকার করতে পারি না। যদি সেই যুদ্ধের কথাই ইসলামে না থাকত তাহলে তো জীবনের বিরাট একটা পার্টই বাদ পড়ে যেত। তারপর ফিলিস্তিনে যেভাবে নিরীহ মানুষগুলো মার খাচ্ছে, সেভাবেই মার খেতে খেতে শক্তিধর মানুষের হাতে নিশ্চিহ্ন হয়ে যেত দুর্বল মানুষগুলো। সেই দুর্বল মানুষগুলো আল্লাহর কাছে অভিযোগ করত- আমরা যখন মার খেয়েছি, সন্তানদের হারিয়েছি, নির্যাতিত হয়েছি তখন তুমি কোথায় ছিলা হে গাফুরুর রহিম?

ধরে নিলাম আপনি শান্তিতে থাকতে চান, জনগণকে শান্তিতে রাখতে চান, এক ফোটাও রক্ত ঝরতে দিতে চান না- বেশ তো, ভালো কথা। কিন্তু আপনার শত্রু তো আপনার মত নয়। সে চায় যুদ্ধ ও সহিংসতা। সে চায় মানুষের রক্ত শুষে খেতে। ইসলাম আপনার শত্রুকে যদি থামাতে না পারে তাহলে সেটা কিসের ইসলাম হলো? তাহলে তো ইসলাম অপরিপূর্ণ থেকে গেল। তখন আপনিই বলতেন- আল্লাহর দেওয়া দীন হলে সবকিছুর সমাধান থাকত। শত্রুকে মোকাবেলা করার উপায় কী সেটাই যে দীনে নাই সেটা আল্লাহর দেওয়া দীন হয় কীভাবে?

দুঃখজনক বিষয় হলো- যারা জিহাদের সমালোচনা করেন তারা নির্যাতিত নন। আর যারা নির্যাতিত তারা জিহাদের সঠিক মর্ম ও প্রয়োগ বোঝেন না। জিহাদের নামে তারা জন্ম দিয়ে ফেলেছে আরেক ভ্রান্ত মতাদর্শের, জঙ্গিবাদের। সেই জঙ্গিবাদ দেখে যদি আপনি ইসলামকেই সহিংসতার ধর্ম বলে প্রচার করেন তাহলে আফগান যুদ্ধ বা ইরাক যুদ্ধ দেখে কেউ তো গণতন্ত্রকেও সহিংস আদর্শ প্রচার করতে পারে। সেটা কি ঠিক হবে?