উম্মতে মোহাম্মদী কি নিছক একটি উপাসক সম্প্রদায়?

প্রকাশিত: মে ২৩, ২০২১
উম্মতে মোহাম্মদী কি নিছক একটি উপাসক সম্প্রদায়?

ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ দীন বা জীবনব্যবস্থা (সুরা মায়েদা- ৩) যা মানুষের বাকি আয়ুষ্কালে পৃথিবীর সকল জনপদে শান্তি আনতে সক্ষম। এই জীবনব্যবস্থা যদি প্রতিষ্ঠা না করা হয় তাহলে এটা আল্লাহর পাঠানোর কোনো মানে থাকে না।  তাই তিনি তাঁর শেষ নবীর উপর দায়িত্ব দিয়েছিলেন একে পৃথিবীতে বিরাজিত সকল জীবনব্যবস্থার উপর বিজয়ী করার জন্য (সুরা তওবা- ৩৩, সুরা ফাতাহ- ২৮, সুরা সফ- ৯)।

কিন্তু এত বড় কাজ তো একজন মানুষের জীবনে করে যাওয়া সম্ভব না। তাই তিনি আল্লাহর দেওয়া এই দায়িত্ব তাঁর অবর্তমানে পালন করার জন্য একটি উম্মাহ বা জাতি গঠন করলেন। এই জাতিটিকে বলা হয় উম্মতে মোহাম্মদী। 

জাতির একটি লক্ষ্য অবশ্যই থাকতে হয়। এই জাতির লক্ষ্য হচ্ছে সর্বাত্মক সংগ্রাম করে সমগ্র পৃথিবীতে আল্লাহর দেওয়া দীন প্রতিষ্ঠা করে ন্যায়, শান্তি, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা করা। 

জন্মসূত্রে কেউ উম্মতে মোহাম্মদী হতে পারে না। এই মহান দায়িত্ব পালনের জন্য যারা নিজেদের জীবন ও সম্পদকে কোরবান করতে অঙ্গীকারাবদ্ধ তারাই এ জাতির সদস্য। তাই নামের আগে মোহাম্মদ লিখলেই উম্মতে মোহাম্মদী হওয়া সম্ভব নয়, ঠিক যেভাবে মুক্তিযুদ্ধ না করে কেউ মুক্তিযোদ্ধা হতে পারে না। 

মুজিবকোট পরেই যেমন কেউ মুক্তিবাহিনী হতে পারে না তেমনি ব্যক্তিগতভাবে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করেও কেউ উম্মতে মোহাম্মদী হতে পারে না। এজন্য জাতির নেতা রসুলাল্লাহ (সা) যে লক্ষ্যে জাতি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন সেই লক্ষ্যকে ধারণ করতে হয়, সেই লক্ষ্য অর্জনের জন্য সংগ্রাম করতে হয়। 

বর্তমানে উম্মতে মোহাম্মদী দাবিদার এই জনগোষ্ঠীকে আর জাতি বলার কোনো সুযোগ নেই। তারা নিছক আর দশটা উপাসক সম্পদ্রায়ের একটি। কিন্তু জাতিটিকে যখন সৃষ্টি করা হয়েছিল তখন কিন্তু এমন ছিল না। এখন এই জনগোষ্ঠীর সদস্যরা তাদেরকে কেন একটি জাতি হিসাবে, উম্মাহ হিসাবে সৃষ্টি করা হয়েছিল সেটা মনে করতে পারে না। সেই লক্ষ্যকে যদি স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয় তারা প্রাণপণে সেটা অস্বীকার করে, কারণ তাতে তাদের ব্যক্তিগত উপাসনা করে বিনা পরিশ্রমে, জীবন-সম্পদ না বিলিয়ে, বিনা ঝুঁকিতে জান্নাতে যাওয়ার সুযোগটি হারাতে হবে। 

তবু স্মরণ করিয়ে দেওয়া কর্তব্য কারণ তাদের এই আত্মপ্রবঞ্চনার ফল তাদেরকে যে কেবল জাহান্নামে নিয়ে যাবে সেটাই নয়, এর ফলে গোটা মানবজাতি নানারকম ভুল জীবনব্যবস্থার চর্চা করতে করতে কেয়ামত পর্যন্ত অশান্তির আগুনে জ্বলতে থাকবে। মানবতা ভূলুণ্ঠিত থাকবে, যুদ্ধ-রক্তপাত নিরবচ্ছিন্নভাবে চলতে থাকবে। আর যে জন্য আল্লাহ একটি নিখুঁত জীবনব্যবস্থা প্রেরণ করলেন সেই উদ্দেশ্যই ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে।