কেন আল্লাহ নির্যাতিতদের রক্ষা করছেন না?

প্রকাশিত: জুলাই ১৯, ২০২১

পৃথিবীর শাসক এখন দাজ্জাল। তাই দাজ্জাল যেটা বলবে সেটাই ঘটবে। দাজ্জাল যেটা চাইবে সেটাই আপনি মেনে নিতে বাধ্য থাকবেন। এটাই মূল কথা। আপনি দাজ্জালকে ভালো বললেন নাকি মন্দ বললেন, প্রশংসা করলেন নাকি নিন্দা করলেন- তা দিয়ে দাজ্জালের কোনো কাজ নেই। দাজ্জাল গণতন্ত্র দিয়ে বিশ্ব চালাচ্ছে না। সে পৃথিবীর কর্তৃত্ব ছিনিয়ে নিয়েছে সামরিক শক্তিবলে, অর্থনৈতিক শক্তিবলে। কাজেই যতক্ষণ তার হাতে সেনাবাহিনী থাকবে, পরমাণু বোমা থাকবে, সম্পদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকবে- ততক্ষণ আপনার তর্জন-গর্জনই সার। দুই পয়সা মূল্য নাই আপনার নীতিকথার। 

কেন আল্লাহ নির্যাতিতদের রক্ষা করছেন না?

প্রশ্ন হলো- দাজ্জাল যখন সামরিক শক্তি দিয়ে পৃথিবী দখল করছিল, পৃথিবীর সমস্ত জলভাগ ও ভূভাগ আচ্ছন্ন করছিল, তখন পৃথিবীর তথাকথিত ভালো মানুষেরা কী করছিল? এই ভালো মানুষ বলতে আমি বোঝাচ্ছি সেই মানুষদেরকে যারা আজকে সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কথা বলছে, শোষণের বিরুদ্ধে কথা বলছে, অত্যাচারী শাসকদের বিরুদ্ধে কথা বলছে। এক কথায় দাজ্জালের অপশাসনের বিরুদ্ধে কথা বলছে। খেয়াল করলে দেখবেন- এদের সংখ্যা কোটি কোটি। কিন্তু দাজ্জালের বিরুদ্ধে কোনো ভূমিকাই রাখতে পারছে না। অনেকে বলবেন- প্রতিবাদ তো হচ্ছে। না, হচ্ছে না। আপনাকে কেউ অন্যায়ভাবে পিটাইলে আপনি উহ আহ শব্দ করবেন, সেটাকে প্রতিবাদ করা বলে না। সেটা স্বাভাবিক আর্তনাদ। এই ভালো মানুষগুলো এখন আর্তনাদ করছে।

তাই দেখে অবিশ্বাসী পাড়ায় প্রশ্ন উঠেছে- “আল্লাহ কোথায়?” ভালো মানুষগুলো কষ্ট পাচ্ছে, নির্যাতিত হচ্ছে, খেতে পাচ্ছে না, উদ্বাস্তু হচ্ছে, ধর্ষিত হচ্ছে, গণহত্যার শিকার হচ্ছে- তবু আল্লাহ এদেরকে বাঁচাতে আসছেন না কেন? আল্লাহ কেন খারাপদেরকে দুর্বল করে দিচ্ছেন না, আর ভালোদেরকে রক্ষা করছেন না?

ভাই, আপনাদের চিন্তার দৌড় কি ভালোদেরকে রক্ষা করা পর্যন্তই? আল্লাহ কেবল অতটুকুতেই সন্তুষ্ট নন। আল্লাহ তো চান ভালোদেরকে তিনি পৃথিবীতে কর্তৃত্বশীল করবেন। ভালোরাই পৃথিবী চালাবে। কিন্তু সেই ভালো মানুষ কোথায়? কোথায় সেই মুক্তি সেনার দল? কাকে তিনি সাহায্য করবেন? কার হাতে পৃথিবীর শাসনকর্তৃত্ব তুলে দিবেন? ভালোরা সিংহাসন ছেড়ে পালিয়েছে বলেই তো দাজ্জাল উড়ে এসে জুড়ে বসেছে। 

পৃথিবীটা আল্লাহ খারাপদেরকে দেন নাই। দাজ্জালকে দেন নাই। পৃথিবী দিয়েছেন ভালোদেরকেই। কোর’আনে তিনি মো’মেনদেরকে পৃথিবীর কর্তৃত্ব দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন। (সুরা নুর: ৫৫) মো’মেন মানেই হিরো। মো’মেন মানেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকা, মো’মেন মানেই অবিচারের বিরুদ্ধে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করা। মো’মেন মানেই শিষ্টের পালন ও দুষ্টের দমন করা। সেজন্য প্রচুর সামরিক শক্তি লাগবে, অর্থনৈতিক শক্তি লাগবে- এই তো কথা? আল্লাহ সেটারও সূত্র বলে দিয়েছেন। মো’মেন হওয়ার শর্তের মধ্যেই তিনি ঢুকিয়ে দিয়েছেন দু’টো জিনিস। জীবন ও সম্পদ দিতে হবে (হুজরাত ১৫)। দিতে হবে মানে দিতেই হবে। না দেওয়া পর্যন্ত কেউ মো’মেনই হতে পারবে না। 

বিষয়টা চিন্তা করে দেখুন- কোটি কোটি মানুষ যখন ন্যায়, সুবিচার ও শান্তির জন্য জীবন উৎসর্গ করতে রাজি থাকবে তখন সেই মানুষগুলো আর মানুষ থাকবে না, ভয়ানক শক্তিশালী অস্ত্রে পরিণত হবে। উপরন্তু যখন তারা নিজেদের সর্বস্ব সম্পদ উৎসর্গ করতে রাজি থাকবে তখন সেই জাতির সম্পদ উপচে পড়বে। প্রাচুর্যে ভেসে যাবে পুরো জাতি। সেই জাতিকে আল্লাহ দিবেন খেলাফত (কর্তৃত্ব, প্রতিনিধিত্ব)। সেই জাতি পৃথিবী ঘুরে ঘুরে চেঙ্গিস খানদের উৎপাত বন্ধ করবে, দাজ্জালীয় অপশাসনকে চব্বিশ ঘণ্টার বিনা নোটিশে পৃথিবী ছাড়া করবে। পৃথিবীকে মানুষের বসবাসের উপযোগী করবে।

কিন্তু দুঃখজনক বিষয় হলো- সেই মো’মেন আজকে নাই। আজকে আছে ভীরু কাপুরুষ সাত্ত্বিকের দল। এরা মিথ্যা বলে না- কিন্তু মিথ্যা দিয়ে সমাজ ভর্তি হয়ে যাচ্ছে দেখেও চোখ বন্ধ করে ঘুমিয়ে থাকে। এরা কারো কোনো ক্ষতি করে না, কিন্তু পৃথিবীতে দুর্বলের উপর সবলের অত্যাচার দেখেও চুপ করে থাকে। এরা প্রাণী হিসেবে জীবিত, আর মানুষ হিসেবে মৃত। এই মরা মানুষ দিয়ে দাজ্জালের যেমন কোনো মাথাব্যথা নাই, আল্লাহরও নাই। 

অবিশ্বাসী ভাইয়েরা! আগে আল্লাহ সম্পর্কে ধারণা ঠিক করেন। আল্লাহ দুর্বল, ভীরু, কাপুরুষ, দাসদের অভিভাবকত্ব করেন না। তিনি মহান, তিনি সেরা, তিনি শ্রেষ্ঠ- কাজেই তিনি যে জাতির অভিভাবকত্ব করবেন সেই জাতিকেও হতে হবে গুণে ও মানে সেরা। ওই জাতি যেদিকে তাকাবে- দাজ্জাল মোমের মত গলে যাবে ইনশা’আল্লাহ।