বাংলাদেশের সেক্যুলার সমাজ

প্রকাশিত: জুলাই ২৬, ২০২১

সেক্যুলাররা ধর্মকে ভয় পায়। তাই ধর্ম থেকে যতটা সম্ভব দূরত্ব বজায় রাখতে ভালোবাসে। ব্যক্তিজীবনের প্রয়োজনে কিছুটা ধর্মকর্ম তাদেরও করা লাগে, কিন্তু তা করেই আস্তে কেটে পড়ে। কখনও ধর্মকে তাদের কাছে ঘেঁষতে দেখলে তাড়াহুড়া করে ঘরের দরজা-জানালা লাগিয়ে লুকিয়ে পড়ে। প্রশ্ন হলো- তাদের এই লুকোচুরির ফল কী দাঁড়িয়েছে? 

ধর্মের সাথে তাদের এই বিমাতাসুলভ আচরণে রাষ্ট্রের কোনো লাভ হয় নাই, তবে কপাল খুলেছে ধর্মব্যবসায়ীদের। ওরা একচেটিয়া ধর্মের কারবারি করার সুযোগ পেয়েছে। একদিকে অজ্ঞ মূর্খ জনগণ- যাদের মগজ থেকেও নাই, যারা হুজুরের আদেশ মানাকেই ধর্ম হিসেবে বিশ্বাস করছে; আরেকদিকে ধর্মের পুরোহিত- যারা ধর্মকে জটিল ও দুর্বোধ্য হিসেবে জনগণের কাছে উপস্থাপন করে নিজেরাই ধর্মের মূর্তপ্রতীক হয়ে উঠেছে। 

বাংলাদেশের সেক্যুলার সমাজ


মাঝখানে কেউ নাই প্রশ্ন তোলার। কেউ নাই হুজুরের অপযুক্তি খণ্ডণ করার। কেউ নাই সাম্প্রদায়িক ও উগ্রপন্থী হুজুরের অথরিটিকে চ্যালেঞ্জ করার। যারা এই কাজটা করতে পারত, অর্থাৎ সেটা করার মত চিন্তাশক্তি ও বোধশক্তি যাদের ছিল, তারা ধর্ম নিয়ে কথা বলাকেই সেকেলে কাজ মনে করছে। তারা বরং গণতন্ত্র-সমাজতন্ত্র নিয়ে আলোচনা করে জাতে উঠতে চাচ্ছে।

ফল হয়েছে অত্যন্ত করুণ। বনে বাঘ না থাকায়, শিয়ালের রাজত্ব শুরু হয়েছে। সমাজে ধর্ম ব্যবসায়ী পুরোহিতদের দাপট অত্যন্ত বেড়ে গেছে এবং সেই দাপটের সামনে সেক্যুলাররা এখন কোনঠাসা হয়ে পড়েছে। ধর্মবিশ্বাসী কোটি কোটি মানুষ সরকারের কথা এখন বিশ্বাস করে না, হুজুরের কথা বিশ্বাস করে। বিজ্ঞানীদের কথায় আস্থা রাখে না, বিজ্ঞানী বক্তাদের ওয়াজে আস্থা রাখে। 

সেক্যুলাররা এতদিন চেয়েছে রাষ্ট্রে যাতে ধর্ম ঢুকতে না পারে। তাদের চেষ্টা সফল হয়েছে হয়ত, কিন্তু ধর্ম তো হারিয়ে যায়নি। সেটা এখন ধর্মব্যবসায়ী মোল্লা-পুরুতের আলখেল্লার পকেটে ঢুকে গেছে। মোল্লা-পুরুতের এক পকেটে ধর্ম, আরেক পকেটে অজ্ঞ মূর্খ কোটি কোটি জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস। তারা মুহূর্তেই ধর্মীয় উন্মাদনার জন্ম দিতে পারছে, জঙ্গিবাদী কর্মকাণ্ডে আধ্যাত্মিক নির্দেশনা যোগাতে পারছে, এমনকি রাজনীতির সমীকরণেও বড় ধরনের ফ্যাক্টর হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে।

তারপর একদিন দেখা যাচ্ছে কমিউনিস্ট চীন ও হিন্দুত্ববাদী ভারত তালেবানের মন পেতে মরিয়া হয়ে গেছে।