সংবাদপত্রের সং - বাদ!

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২১
সংবাদপত্রের


ব্যক্তি বা জাতির গুরুত্বপূর্ণ নিউজ কাভার বা প্রেস কনফারেন্সের জন্য সংবাদপত্র ও সাংবাদিকদের হারিকেন দিয়েও খুঁজে পাওয়া যায় না। কিন্তু চটকদার, রসালো নিউজ প্রচারের জন্য সংবাদপত্র ও সাংবাদিকরা আদাজল খেয়ে লাগে। মিনিটে মিনিটে আপডেট। বিনোদন ও খেলাধুলার খবরগুলো রঙ্গিন পৃষ্ঠায় বিশেষ কলেবরে ছাপানো হলেও, পত্রিকার সস্তা, সাদাকালো পৃষ্ঠার কোন এক কোণের ২/৩ ইঞ্চির কলামে ঠাঁয় পায় বঞ্চিত, অসহায়, নির্যাতিতের খবর। কখনোবা সেখানেও ঠাঁয় হয় না, সে জায়গা দখল করে পরিশোধিত বিজ্ঞাপন। 

সংবাদ পরিবেশন করা হয় পাঠকের আগ্রহকে কেন্দ্র করে। আর আজকালের অধিকাংশ পাঠক বটে, পর-সমাজ-রাষ্ট্র নিয়ে ভাবনার জো কোথায়! শোবিজ, পরচর্চা, খেলাধুলা, ধর্ষন ইত্যাদির খবর যাদের মনের খোরাক যোগায়, তারা ওসব নিয়ে মাথা ঘামানো কেনো! 

এমন পাঠক নির্ভরশীলতায় সংবাদপত্রগুলো হারিয়েছে তার স্বকীয়তা, কর্তব্য। মানুষের মননে, চিন্তায পরিবর্তনের পরিবর্তে তারা নিজেরাই পরিবর্তিত হয় মিনিটে মিনিটে। যার কলামগুলো পূর্ণ থাকার কথা বঞ্চিত, অসহায়, নির্যাতিতের খবরে, অধিকার আদায়ের সংগ্রামে তার কলাম বিক্রি হয়েছে 'কর্পোরেট' প্রতিযোগিতার আয়োজনে। তন্মধ্যে হয়তো গুটি কয়েকজন আছেন যারা ওদের পাশে দাঁড়িয়েছেন, কিন্তু তার কার্যকরিতা কতটুকুন যথেষ্ট এই প্রচন্ড স্রোতের বিপরীতে একা দাঁড়িয়ে?

বড় বড় কোম্পানিগুলো এই মিডিয়ার পেছনে বিনিয়োগ করছেন বেশি বেশি, দু-চারটা পত্রিকা বা মিডিয়ার মালিকও। উদ্দেশ্য যে বাণিজ্যিক প্রচারণার সুযোগ, মিডিয়া ব্যবসায় বিনিয়োগ, মিডিয়ায় নিজেদের শক্ত অবস্থান নিশ্চিতকরণ; তা বুঝার জন্য দুরদর্শিতার প্রয়োজন নেই।

সংবাদপত্রের বর্তমান অবস্থা সারাবিশ্বে প্রায় একই। নিরপেক্ষতাকে উপেক্ষা করেও সংবাদমাধ্যমগুলো কখনোই সত্যিকার্থে 'জনগণের' বলা চলে না।