ওয়াজের মাজেজা

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২১

পাণ্ডুপুত্র ভীম মৎস্যরাজ বিরাটের শ্যালক কীচককে বধ করার সময় বৃহন্নলা অর্জুন নৃত্যশালায় ঢোলবাদ্য সহযোগে নৃত্য করেছিলেন। অশ্বশালা রক্ষক নকুলের উৎসাহে তুমুল চিৎকার জুড়ে দিয়েছিল গরু ও ঘোড়ার দল। এই শব্দসাগরে হারিয়ে গিয়েছিল কীচকের মৃত্যুচিৎকার।

অনেক ঐতিহাসিক মনে করেন বাংলাদেশের রংপুর অঞ্চলেই বিরাট রাজার মৎস্যরাজ্য ছিল। গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় বিরাট রাজার ঢিবি নামে একটি প্রাচীন স্থাপনা আজও টিকে আছে। বিরাট রাজার তীর্থে সেখানে হাজার হাজার মানুষের সমাগম হয়। 

মহাভারতের কীচকবধের মতো ঘটনা সম্প্রতি আমাদের দেশে আবারও ঘটল। গাজিপুরের একটি মসজিদের খতিব সাহেব ঠিক করলেন তার স্ত্রীকে তিনি পুড়িয়ে বধ করবেন [নিউজ]। বেরসিক স্ত্রী স্বভাবতই চিৎকার জুড়ে দিতে পারেন। তাই তিনি চিন্তা করলেন এমন কিছু করতে হবে যেন স্ত্রীর মৃত্যুকালীন চিৎকার কেউ শুনতে না পায়। 

ওয়াজের মাজেজা

নৃত্যগীত বাদ্যযন্ত্র তো হারাম। আর একজন আলেমে দীন, মসজিদের খতিব সাহেবের ঘর থেকে উচ্চস্বরে গানের আওয়াজ শোনা গেলে চাকরি থাকবে না। তাই তিনি সাউন্ডবক্সে ছেড়ে দিলেন ওয়াজের রেকর্ড। তারপর ঘুমন্ত স্ত্রী শরীরে কেরসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিলেন। মৃত্যুকালে স্ত্রী ওয়াজ শুনতে শুনতে মরুক। তাতে মৃত্যুটাও বেশ ধর্মীয় পরিবেশে হতে পারবে। 

শরীফ মাহমুদ ফারুকী হুজুর মহাভারত পড়েছেন কিনা জানি না, হিন্দুদের বই না পড়ারই কথা। কিন্তু বুদ্ধিটা বের করেছেন সেইরকম। কীচকবধের পর যেমন অজ্ঞাতবাসে থাকা পঞ্চপাণ্ডবের পরিচয় বিরাট রাজার কাছে পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল, ঠিক তেমনি স্ত্রীবধের চেষ্টার পর খতিব সাহেবের পরিচয়ও জাতির সামনে প্রকাশ পেল।

মহাভারতের কথা অমৃত লহরী।
কাশীদাস কহে, সাধু শুনে কর্ণ ভরি।।