দক্ষিণ এশিয়ায় ধর্মান্ধতার উত্থান: বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আমাদের করণীয়

প্রকাশিত: অক্টোবর ১২, ২০২১

জাতীয় প্রেসক্লাবের সন্নিকটে বাগিচা চাইনিজ রেস্টুরেন্টে হেযবুত তওহীদ ঢাকা মহানগর গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদেরকে নিয়ে একটি গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করেন (১২ই অক্টোবর, ২০২১ সময় সকাল ১০.৩০ থেকে )। এ বৈঠকের মূল প্রতিপাদ্য ছিল - দক্ষিণ এশিয়ায় ধর্মান্ধতার উত্থান: বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আমাদের করণীয়। 

দক্ষিণ এশিয়ায় ধর্মান্ধতার উত্থান

হেযবুত তওহীদের প্রধান নেতা (ইমাম) জনাব হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম তাঁর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে উল্লেখ করে বলেন - 

অনুষ্ঠানে নানা ব্যস্ততা ও প্রতিকূলতার মাঝেও অনেক গণ্যমান্য গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব তাদের মূল্যবান সময় ব্যয় করে উপস্থিত হয়েছেন। অনেক সংবাদিক হেযবুত তওহীদ সম্পর্কে বহু ধরনের প্রশ্ন করেছেন। এজন্য আয়োজনটি হয়ে উঠেছে স্বতঃস্ফূর্ত, প্রাণবন্ত ও অংশগ্রহণমূলক।

দক্ষিণ এশিয়ায় ধর্মান্ধতার উত্থান

বহুজনে আমাদের পথচলার ক্ষেত্রে উপকারী ও মূল্যবান পরামর্শ দিয়েছেন। তারা আমাদের আয়োজনের টুকিটাকি অসংগতিও উল্লেখ করেছেন। আসলে বিষয়টি এতই ভারী, এতই গুরুত্বপূর্ণ, এতই জটিল, স্পর্শকাতর, ব্যাপকবিস্তারী যে দু্ এক ঘণ্টায় সম্যকভাবে তা তুলে ধরা সম্ভব নয়। 


এরই মধ্যে হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে গত দুই যুগ ধরে চলমান মিথ্যাচার ও অপপ্রচারের প্রভাব থেকে অনেকেই পুরোপুরি মুক্ত হতে পারেন নাই। আন্দোলন সম্পর্কে নানা ধরনের কৌতূহল তাদের রয়েছে। মূল প্রতিপাদ্যের বাইরে এসব বিষয় নিয়েও অনেকে প্রশ্ন করেছেন। তবে আশার কথা হচ্ছে, এক সময় যে গণমাধ্যমকর্মীরা আমাদের ভুল বুঝতেন তাদের কাছে আজকে হেযবুত তওহীদের বক্তব্য গ্রহণযোগ্য মনে হচ্ছে। হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে কী কী অপপ্রচার হচ্ছে, কারা অপপ্রচার করছে, কেন করছে সেটাও তারা উপলব্ধি করতে পারছেন। 


আজকের এই অনুষ্ঠানে আমরা স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছি যে ধর্মান্ধতা, জঙ্গিবাদ ইত্যাদি নির্মূল করতে হলে ইসলামের প্রকৃত আদর্শ, প্রকৃত শিক্ষা মানবজাতির সামনে তুলে ধরার কোনো বিকল্প নেই। একটি সঠিক আদর্শই পারে মানুষকে ভুল পথ থেকে সঠিকপথে ফিরিয়ে আনতে। শুধুমাত্র শক্তি দিয়ে, জোর করে সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তন করা যায় না; হয়তো সাময়িক নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। 


শেষ নবী, বিশ্বনবী হজরত মোহাম্মদ (সা.) যে আদর্শ দিয়ে একটি বিশৃঙ্খল, দাঙ্গাপ্রবণ, গুজব ও হুজুগপ্রিয়, অজ্ঞ, মূর্খ, ধর্মান্ধ, পশ্চাৎপদ আরব জাতিকে সুশৃঙ্খল, চিন্তাশীল, যুক্তিবোধসম্পন্ন, সভ্য, বিজয়ী জাতিতে পরিণত করেছিলেন, সেই আদর্শ দিয়েই বর্তমানে মুসলমানদের মধ্যে ইসলামের নামে চলা নানা ধরনের ফেরকা মাজহাব তরিকাগত দ্বন্দ্ব, উগ্রবাদ, ধর্মান্ধতাকে দূর করা সম্ভব। তবে সে আদর্শ কারা তুলে ধরবে, কীভাবে তুলে ধরবে, কী কী প্রক্রিয়ায় তুলে ধরবে সেটা অবশ্যই সংশ্লিষ্ট সকলকে বিবেচনায় আনতে হবে। তবে এটা অনস্বীকার্য যে যারা এই আদর্শ তুলে ধরবে, তাদের নিজেদেরকে সত্যের উপর দণ্ডায়মান হতে হবে এবং জনগণের সামনে তাদের সমস্তকিছু সুস্পষ্ট থাকতে হবে।  

আজকে যারা এ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছেন তাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানাই। আশা রাখি, সকল পর্যায়ের নাগরিক ও সুশীল সমাজের সঙ্গে এ ধরনের মতবিনিময় সভা চলমান থাকবে ইনশাল্লাহ।