নির্বাচিত লেখা

দক্ষিণ এশিয়ায় ধর্মান্ধতার উত্থান: বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আমাদের করণীয়

জাতীয় প্রেসক্লাবের সন্নিকটে বাগিচা চাইনিজ রেস্টুরেন্টে হেযবুত তওহীদ ঢাকা মহানগর গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদেরকে নিয়ে একটি গোলটেবিল বৈ......

প্রকৃত ধর্মনিরপেক্ষ যারা

প্রকাশিত: অক্টোবর ২৭, ২০২১
প্রকৃত ধর্মনিরপেক্ষ যারা


সব ধর্ম ও সব সম্প্রদায়ের সমান অধিকার ও মর্যাদা রক্ষা করা যদি ধর্মনিরপেক্ষতার সংজ্ঞা হয়, তাহলে বলতেই হয়, বিশ্বে এখন কোনো রাষ্ট্রই ধর্মনিরপেক্ষ নয়। কেননা প্রত্যেকটা রাষ্ট্রেই শাসক মহল নির্দিষ্ট কোনো ধর্মমত বা সম্প্রদায়কে আনুকুল্য দিচ্ছে আর নির্দিষ্ট কোনো সম্প্রদায় বঞ্ছনার শিকার হচ্ছে এবং আমার মতে এটা হওয়াই স্বাভাবিক। কেন স্বাভাবিক? ব্যাখ্যা দিচ্ছি। 

আপনি বিশ্বাস করেন আর না করেন, সত্য হলো- সাধারণ একজন মানুষের পক্ষে সব ধর্মের ও সব সম্প্রদায়ের মানুষকে সমান নজরে দেখা অসম্ভব বিষয়। এর চেয়ে কঠিন কাজ খুব কমই আছে। শুধু আবদার করলেই তো হবে না, মানুষের মনস্তাত্ত্বিক ও মানবিক সীমাবদ্ধতাকেও আমলে নিতে হবে। আসলে এই কঠিন কাজটা করতে পারেন- প্রথমত আল্লাহ, যিনি সব মানুষের স্রষ্টা; দ্বিতীয়ত- আল্লাহর সেই মো’মেন বান্দারা, যারা ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা হৃদয়ে ধারণ করে। এই দুই জায়গা থেকে সব ধর্মের মানুষ সমান মর্যাদা লাভ করতে পারে। তৃতীয় আর কোনো জায়গা থেকে সম্ভব নয়। 

প্রশ্ন উঠতে পারে, কোনো সাধারণ মানুষ যদি পুরোপুরি ধর্মনিরপেক্ষ হতে না পারে তাহলে মো’মেনরা কেমনে পারবে? মো’মেনরাও তো একটি নির্দিষ্ট ধর্মমতের অনুসরণ করে। তাহলে আরেকটি ধর্মমতের মানুষকে সমান চোখে দেখা কি সম্ভব? উত্তর হলো- হ্যাঁ, সম্ভব। 

সম্ভব, তার কারণ মো’মেনদের ধর্মমতটাই তেমন। অর্থাৎ সব মানুষকে সমান চোখে দেখতে হবে, সব সম্প্রদায়কে সমান সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে- এটাই মো’মেনদের ধর্ম। তারা যদি পক্ষপাতিত্ব করে, তাহলে আল্লাহর সঙ্গে তাদের অঙ্গীকার ভেঙে যাবে, মো’মেন দাবি করা মিথ্যা হয়ে যাবে। কাজেই তারা যত ধার্মিক, তত বেশি অসাম্প্রদায়িক। যত বড় ঈমানদার, তত বেশি পক্ষপাতহীন। যদি একজন মানুষও নির্দিষ্ট কোনো ধর্মমত পালন করতে চায়, মো’মেনদের কাছে তার অধিকার পুরোপুরি রক্ষিত হবে। হতে বাধ্য। নইলে তারা মো’মেনই নয়।

অন্যদিকে এখন যারা ধর্মনিরপেক্ষতার বুলি আউড়াচ্ছে, মানে অভিনয় করছে, তাদের অবস্থা আমাদের কমবেশি জানা আছে। তাদের কাছে বিভিন্ন ধর্ম ও বিভিন্ন সম্প্রদায় হলো অর্থনৈতিক দৃষ্টকোণ থেকে ব্যবসার পুঁজি, আর রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে ভোটব্যাংক। কথিত ধর্মনিরপেক্ষরা দুইভাগে বিভক্ত হয়ে দুই দিকে খেলে। একপক্ষ মারার খেলা খেলে, আরেকপক্ষ বাঁচানোর খেলা খেলে। কিন্তু মারতে বা বাঁচাতে চাইলে তো আগে ঘৃণা ও বিদ্বেষ ছড়াতে হবে। তারপর লাগাতে হবে মারামারি। তাই মারামারি লাগানোর বেলায় উভয়পক্ষকেই উৎসুক দেখা যায়। তারপর যখন মারামারি শুরু হয়, তখন একপক্ষ সংখ্যালঘুদের সাইজ করার মাধ্যমে সংখ্যাগুরুর মন জয় করে, আরেকপক্ষ সংখ্যালঘুদের বাঁচানোর অভিনয় করে “প্রগতিবাদী” বনে যায়। আমি কোনো নির্দিষ্ট দেশের কথা বলছি না, সারাবিশ্বের যে কোনোদেশে ঘটনাগুলো এভাবেই ঘটছে।