নির্বাচিত লেখা

দক্ষিণ এশিয়ায় ধর্মান্ধতার উত্থান: বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আমাদের করণীয়

জাতীয় প্রেসক্লাবের সন্নিকটে বাগিচা চাইনিজ রেস্টুরেন্টে হেযবুত তওহীদ ঢাকা মহানগর গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদেরকে নিয়ে একটি গোলটেবিল বৈ......

শিশুদের ভিন্ন শৈশব

প্রকাশিত: নভেম্বর ০৮, ২০২১
শিশুদের ভিন্ন শৈশব
কেউ আবর্জনা টানছে, কেউ টানছে শিক্ষার ভার। শৈশবের চাকা আটকে গেছে ব্যস্ততার খাদে। এটা যে শহর!

এখানে শিশুরা বড় হচ্ছে চার দেওয়ালের মাঝে, আকাশ দেখছে কেবলই জানালার ফোকর দিয়ে, জ্যামে আটকা পড়া গাড়িতে বসে কালো গ্লাসের মধ্যে দিয়ে তেজহীন তীর্যক রোদ গায়ে পড়লেও যেন তাদের গা পুড়ে যায়। ক্রিকেট হোক আর ফুটবলই হোক এদের সব খেলাই মোবাইল, ট্যাব অথবা কম্পিউটারে। শৈশবে একজনার প্রতিদিন কতটুকু দৌড়ানো উচিত, বাইরের আলো-বাতাস কতটা উপকারী, রোদে কোন ভিটামিন থাকে সবই তার মুখস্থ, পরীক্ষায় যে সেটা লিখতে হয়।

শহুরে শিশুদের আকেরটা শ্রেণি যুক্ত শিশুশ্রমের সাথে। তাদের লক্ষ্য কেবল তিন বেলা অন্ন জোগাড়। তারা কেবল জানে খাবারের জন্য শ্রম দিতে হয়। শহুরে শিশুদের শৈশব এমনই!

অপরপক্ষে গ্রামের শিশুরা বড় হয় প্রচণ্ড দুরন্তপনা নিয়ে। গ্রামের ধনী-গরিবদের মাঝে ব্যবধান অনেকটা কম। তাই সব বাড়ির শিশুরাই একসাথে খেলা করে। রোদ-ঝড়-বৃষ্টি কোনো কিছুর তুয়াক্কা না করে মাঠ-ঘাট, বন-বাদাড় সব এক করে বেড়ায়। নদীতে গোসল, সাতার, গাছ থেকে লাফিয়ে পানিতে পড়া, কত রকম খেলা, পাখি ধরা, মাছ ধরা, সাইকেল চালানো এক কথায় এ যেন মুক্ত বিহঙ্গের ডানা মেলে আকাশ পানে উড়ে বেড়ানো।

মাঝে মাঝে দুষ্টুমি- অন্যের গাছের আম, কাঁঠাল, লিচু, ডাব ইত্যাদি চুরি করে খাওয়া, মাঠে গিয়ে শশা, টমেটো জাতীয় কাচা সবজি চুরি করে খাওয়া, আখ চুরি করে খাওয়া ইত্যাদি। মাঝে মাঝেই নানা উপলক্ষ্যে পিকনিক। সুপারি পাতার গাড়ি, বিয়ারিংয়ের চাকা দিয়ে বানানো বাশের গাড়ি ইত্যাদিতে চড়ে মধুর সময় পার, বর্ষায় কদম ফুল পাড়া, শীতে শিউলি-বকুল কুড়ানো- এগুলো গ্রামীন জীবনের সাধারণ স্মৃতি।

গ্রামে যাদের শৈশব-কৈশোর পার হয়েছে আর বর্তমানে শহরের বন্দী কয়েদী তারা নিশ্চয় এখন চোখ বন্ধ করে স্মৃতির ভেলায় করে কিছু সময়ের জন্য ফিরে গেছেন শৈশব-কৈশোরে।