প্রচলিত ভাঁওতাবাজির রাজনৈতিক ইসলাম

প্রকাশিত: জানুয়ারী ১০, ২০২১
কোনটা হক্ব রাজনৈতিক ইসলাম নাকি অরাজনৈতিক ইসলাম?

অনেকে বলে থাকেন, ধর্ম অতি পবিত্র জিনিস। এটাকে রাজনীতিতে টেনে আনা মানে ধর্মকে অপমান করা। আবার কেউ কেউ বলেন, আত্মার পবিত্রতা অর্জন করে স্রস্টার সান্নিধ্য তথা ধর্ম পালনই প্রকৃত ধর্ম। আবার অনেকে আছেন যারা বলেন,ইসলাম একটা জীবনব্যবস্থা।ইসলামে রাজনীতি আছে। ইসলামী রাজনীতি ফরজ।
প্রচলিত ভাঁওতাবাজির রাজনৈতিক ইসলাম

জনগণের বৃহৎ একটা অংশ কিন্তু আগেও নাই পিছেও নাই। তাদের ধ্যানধারণা "চাচা আপন জীবন বাঁচা।" কথা হলো রাজনৈতিক ইসলাম নিয়ে।বর্তমানের যে রাজনৈতিক প্রক্রিয়া এই প্রক্রিয়া কি রাসূলাল্লাহর সময় ছিল? ছিল না।তাহলে কী ছিল? যেটা ছিল সেটা রাষ্ট্র পরিচালনার নীতি। 

রাষ্ট্র পরিচলনার নীতি এক জিনিস আর আজকের রাজনৈতিক প্রক্রিয়া আরেক জিনিস। যেমন আজকে আমাদের সংবিধানের মূল ভিত্তি কি রোমান, বৃটিশ আইন নয়?

খৃষ্ট ধর্মের ব্যর্থতার পর ধর্মকে ব্যক্তিজীবনে নির্বাসন দিয়ে স্রস্টা বিবর্জিত যে নিয়ম কানুন বানানো হলো (জন্ম হলো দাজ্জালের) সেই নিয়ম কানুন থেকেই আঞ্চলিকতার উপর ভিত্তি করে নতুন একটা রূপরেখা দাঁড় করানো হয়েছে যেটা একেক সময় একেক দল নিয়ন্ত্রণ করে,সংশোধন, পরিবর্তন, পরিমার্জন করে। কখন কোন দল করবে এটার বুদ্ধিও কিন্তু বৃটিশদের দেয়া। তারা এখানে দিয়ে গেল গণতন্ত্র অথচ তাদের নিজেদের দেশেই গণতন্ত্র নাই, রাজতন্ত্র।  এই গণতন্ত্র বলতে জনগণের শাষন ব্যবস্থা। জনগণ যাকে নিযুক্ত করে সেই শাসক। আজকের অবস্থা সবারই জানা তাই লিখছি না কিভাবে।জনগণ শাসক নির্বাচন করে।

বৃটিশদের চর্বিত চর্বণ অন্যরা চাবাতে পারে কারণ তাদের কিছু নাই। কিন্তু মুসলিমরা কী করে সেই চর্বিত চর্বণে অংশ নেয়। শুধু অংশগ্রহণ নয় বরং কোরআন-হাদিস দিয়ে সেটাকে জায়েজ করার চেষ্টা।

রাসূল সা. ঐ সমাজের লোকদেরকে মক্কায় থাকার সময়ে সকল অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের চুক্তিতে (কলেমা) আবদ্ধ করলেন। এ পর্যায়ে শত নির্যাতন হয়েছে কিন্তু প্রতিআক্রমণ হয়নি। একটা সময়ে এসে যখন রাষ্ট্রীয় সাহায্য বা সুলতানান নাসিরা  (বনী ইসরাঈল-৮০) দেয়া হলো তখন মদীনায় পৌত্তলিক, ইহুদি, খৃষ্টান, মুসলিম অন্যান্য সকলকে নিয়ে তিনি একটা চুক্তি করলেন (আপোষ নয় কিন্তু)।  মানে রাসূলাল্লাহর সকল শর্ত মদীনার আপামর জনতা মেনে নিয়েছে কিন্তু তাদের কোন শর্ত রাসূল সা. মানেন নি।

এরপর ঐ রাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য যা করা দরকার আল্লাহর হুকুমে তিনি তা করেছেন।এখানে মূল ছিল কোরআন। অর্থাৎ আজ যেমন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে তখন সিদ্ধান্ত আসতো আল্লাহর পক্ষ থেকে। যেটার সর্বশেষ সংস্করণ হলো আল কুরআন। 

এখন আজকের এ পর্যায়ে এসে যখন আপামর জনতা ঈমানের দাবি, কলেমার চুক্তি, রাসূলাল্লাহর কর্মনীতি (Over all idea about Islam) সম্পর্কে ওয়াকিবহাল নন, তখন তাদেরকে আগে এ বিষয়গুলো না জানিয়ে, অস্পষ্ট কিছু কথা দিয়ে, ধর্মীয় সেন্টিমেন্ট ব্যবহার করে, দলমত নির্বিশেষে আর্থিক সাহায্য নিয়ে একটি পূর্নাঙ্গ জীবন-বিধানের অধিকারীরা কি করে ইসলামের  প্রকাশ্য শত্রুদের (মায়েদা-৫১,৮২) পরিকল্পিত ব্যবস্থায় অংশগ্রহণ করে?

শুধু তাই নয় এরকম রাজনীতি নাকি রাসূল সা. করেছেন। নাউজুবিল্লাহ।  এখন করণীয় হলো আগে নিজেরা সকল ভেদাভেদ ভুলে সত্য ন্যায়ের পক্ষে কলেমা দাবীতে ঐক্যবদ্ধ হওয়া। এই অঙ্গীকার করা, যেখানে আল্লাহ, রাসূলাল্লাহর কোন হুকুম আছে সেখানে আর কারো হুকুম না মানা 
এবং এই কাজের প্রক্রিয়া হবে রাসূলাল্লাহকে দেয়া সেই কর্মপদ্ধতি।

রসুল ( সা . ) বলেন , আল্লাহ আমাকে পাঁচটি কাজের নির্দেশ দিয়েছেন , আমি সেগুলাে তােমাদেরকে দিয়ে যাচ্ছি , যথা : 

১. সর্বদা ঐক্যবদ্ধ থাকো, 
২. নেতার আদেশ শােনাে, 
৩. নেতার আদেশ পালন করাে , 
৪.হিজরত করাে , 
৫. আল্লাহর রাস্তায় সংগ্রাম করাে ।

যে ব্যক্তি এই ঐক্যবন্ধনী থেকে একবিঘতও দূরে সরে গেল , সে যেন তার গর্দান থেকে ইসলামের রশি খুলে ফেলল , যদি না সে আবার ফিরে আসে ( তওবা করে ) । আর যে ব্যক্তি অজ্ঞানতার যুগের দিকে আহ্বান করল , সে নিজেকে মুসলিম বলে দাবি করলেও , নামাজ পড়লেও , রােজা রাখলেও জাহান্নামের জ্বালানি পাথর হবে ।  
[হারিস আল আশআরী ( রা . ) থেকে আহমাদ , তিরমিযী , মেশকাত , সহিহ আল জামি , সহিহ আত তারগীব ]

সবশেষে বলবো,
الَّذِينَ يَسْتَمِعُونَ الْقَوْلَ فَيَتَّبِعُونَ أَحْسَنَهُ ۚ أُولَـٰئِكَ الَّذِينَ هَدَاهُمُ اللَّهُ ۖ وَأُولَـٰئِكَ هُمْ أُولُو الْأَلْبَابِ
যারা মনোনিবেশ সহকারে কথা শুনে, অতঃপর যা উত্তম, তার অনুসরণ করে। তাদেরকেই আল্লাহ সৎপথ প্রদর্শন করেন এবং তারাই বুদ্ধিমান।
[সূরা যুমার-১৮]