ভারতবর্ষে ষড়যন্ত্রমূলক ভিন্নধারা শিক্ষাব্যবস্থার ইতিহাস

প্রকাশিত: এপ্রিল ১৮, ২০২১

তপোবন, গুরুগৃহ, বৌদ্ধবিহার,  মন্দির, আশ্রম, টোল,পাঠশালা, দেবমন্দির, মক্তব, মাদ্রাসা  শব্দগুলো কারো কাছে পরিচিত আবার কারো কাছে অপরিচিত। 

যাদের কাছে অপরিচিত তাদের বলছি, উপরের সকল শব্দই বিদ্যালয় বুঝায় যা আমরা এই সময়ে এসে স্কুল, কলেজ,বিশ্ববিদ্যালয় নামে অতিসহজে বুঝতে পারি। 

তবে এখানে সুক্ষ্ম পার্থক্য হলো পাঠ্যসূচি ও  পাঠ্যদান পদ্ধতি। সেটা আর এটা  আকাশ-পাতাল ফারাক। 

মুসলমানদের শিক্ষা বলি আর হিন্দুদের শিক্ষা বলি সবই ছিল ধর্ম কেন্দ্রিক,  নীতি-নৈতিকতায় পরিপূর্ণ । কিন্তু বৃটিশ প্রবর্তিত শিক্ষা ব্যবস্থায় ধর্ম,নীতি-নৈতিকতা ছিল না।

বৃটিশপূর্ব ভারতে মক্তব মাদ্রাসা,পাঠশালা যাই বলি না কেন সেখানে একটি নির্দিষ্ট ধারায় শিক্ষা দেয়া হতো। যেটা বৃটিশ পরবর্তী শিক্ষা ব্যবস্থায় সুকৌশলে  ভিন্ন ধারায় রুপান্তর  করা হয়। ধর্ম সম্পর্কে একটা বিদ্বেষ ভাব সুকৌশলে ঢুকিয়ে দেয়া হয়।

কলকাতা আলিয়া মাদ্রাসা
কলকাতা আলিয়া মাদ্রাসা, প্রতিষ্ঠাতা - লর্ড ওয়ারেন হেস্টিংস

১৭৫৭ সালের পর বেশকিছু দিন শিক্ষাব্যবস্থা বন্ধ থাকায় সচেতন কিছু মানুষের  উদ্যোগে শিক্ষাব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়।  যার প্রেক্ষিতে ১৭৮০ সালে লর্ড ওয়ারেন্ট হেস্টিংস কলকাতায় আলিয়া মাদ্রাসার গোড়াপত্তন করেন। 

কিছু আলেম বিধর্মীদের টাকায় ধর্ম শিক্ষার তুমুল বিতর্কের সৃষ্টি করলো ।  এক পক্ষ ফতােয়া দিলেন যে , বিধর্মীদের অর্থে সুদের টাকা ও মদ বিক্রির টাকা মিশ্রিত থাকে বিধায় এই টাকায় ইলমে দীন শিক্ষা করা বৈধ হইবে । ( পাকিস্তান আমলে এবং বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর আজও আলিমদের মধ্যে এই মতবিরােধ বর্তমান থাকায় কাওমী মাদ্রাসা বা খারেজী মাদ্রাসার আলিমগণ ধর্ম শিক্ষায় সরকারী সাহায্য গ্রহণ করিতেছেন না ) । আলিমদের অপর পক্ষ মত প্রকাশ করিলেন যে , রাজস্ব হইল রাজ্যের প্রধান আয় এবং সুদ ও মদের আয় হইল রাষ্ট্রের আয়ের ক্ষুদ্রতম অংশমাত্র , অতএব আয়ের প্রধান বৈধ অংশ হইতে ইলমে দীন শিক্ষার জন্য সাহায্য গ্রহণ করা যাইতে পারে ।

মাদ্রাসা-ই-আলিয়ার ইতিহাস, মাওলানা মমতাজ উদ্দীন আহমদ (র) আব্দুস সাত্তার  লিখিত  আলিয়া মাদ্রাসার ইতিহাস বইয়ের ভূমিকায় ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার  সাবেক অধ্যক্ষ মোহাম্মদ ইয়াকুব শরীফ লিখেন,

"আলিয়া মাদ্রাসার ইতিহাস কোন একটি প্রতিষ্ঠান বিশেষের ইতিহাস নয় , এটা মূলত তদানীন্তন সুবায়ে বাংলার আরবী শিক্ষা তথা গােটা মুসলমান জাতির শিক্ষা , মর্যাদা এবং আপন বৈশিষ্ট্য রক্ষার সংগ্রাম বিধৃত একটি করুণ আলেখ্য । আজ বক্ষ্যমাণ এই গ্রন্থের ভূমিকা লিখতে স্বভাবতই মন কতগুলাে বিশেষ কারণে আবেগ - আপ্লুত হয়ে ওঠে । আর তা হলাে অতীতে প্রতিটি ক্ষেত্রে মুসলমানদের  অনৈক্য ।  ভাবতে অবাক লাগে , ইংরেজ শাসিত দেশে মুসলমানরা আলিয়া মাদ্রাসাকে কেন্দ্র করে যে আন্দোলনের সূত্রপাত করেছিল আজও তা কেন ফলবতী হতে পারেনি,   আজ নতুন করে ভেবে দেখার সময় এসেছে । 

মুসলমানরা ছিল বীরের জাতি , ইংরেজ বেনিয়ারা ছলে - বলে - কৌশলে তাদের কাছ থেকে ক্ষমতা কেড়ে নিয়ে তাদের প্রচলিত ধর্ম , শিক্ষা ও মর্যাদা হরণ করার জন্য পদে পদে যেসব ষড়যন্ত্র আরােপ করেছিল , আলিয়া মাদ্রাসা তারই একটি ফসল । বাহ্যত এই প্রতিষ্ঠানের পত্তন করা হয়েছিল আলাদা জাতি হিসাবে মুসলমানদের স্বার্থ সংরক্ষণের নিমিত্ত , যাতে মুসলমানদের ধর্ম , কৃষ্টি ও আদর্শ রক্ষা পায় । কিন্তু বাস্তব ক্ষেত্রে এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে মুসলমানদের ধোকা দেওয়াই ছিল তাদের আসল উদ্দেশ্য । গ্রন্থটির আদ্যপান্ত পাঠ করলে স্বভাবতই মনে হবে আলিয়া মাদ্রাসা পত্তন করে ইংরেজরা কোনদিনই এই প্রতিষ্ঠানকে নিজস্ব গতিতে চলতে দেয়নি । বরং কৌশলে এই প্রতিষ্ঠানকে নিজেদের ক্রীড়নক হিসাবে ব্যবহার করে এবং ইংরেজি ভাষা ও কৃষ্টি চাপিয়ে দেয়ার জোর চেষ্টা চালায় । ফলে , এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সত্যিকারভাবে ইংরেজদের আশা যেমন পূরণ হয়নি , তেমনি পুরােপুরিভাবে মুসলমানদের আশা - আকাক্ষারও পূর্ণ প্রতিফলন ঘটেনি । সেই একই রকম দ্বন্দ্ব এবং মিশ্র প্রয়াস নিয়ে এই আলিয়া মাদ্রাসা ( এবং অসংখ্য অনুসৃত মাদ্রাসা ) আজো দাঁড়িয়ে আছে ।

দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আলিয়া মাদ্রাসার ভূমিকা ব্যাখ্যা করতে হলে পুরনাে দিনগুলাের দিকে দৃকপাত করতে হয় । মনে পড়ে ১৭৭৫ খৃস্টাব্দের ১২ ই আগস্ট সুবায়ে বাংলার ( বাংলা , বিহার এবং উড়িষ্যা ) দিওয়ানী ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির হাতে হস্তান্তরিত হয় । ক্রমে অন্যান্য অঞ্চলের শাসনও হস্তচ্যুত হতে শুরু হয়েছিল । চারদিকে ব্যাপক অরাজকতা ও নৈরাজ্যের সৃষ্টি হয়েছিল । ১৭৮৮ খৃষ্টাব্দে জনৈক গোলাম কাদির খান রােহিলা কর্তৃক দিল্লীর করে মুআল্লায় প্রবেশ করে মােগল সম্রাট শাহ - আলমের চক্ষু দুটি উৎপাটনের ঘটনা থেকেই দিল্লী শাসনের শেষ দিনগুলাের নমুনা প্রমাণিত হয় ।

সে সময় মুসলমানদের একতা ছিল না – অন্তত যারা দেশ শাসন করতে পারে তাঁদের মধ্যে । তাঁদের সামরিক শক্তি , আর্থিক শক্তি , সাহস , বল — সবই ছিল । কিন্তু তার সঙ্গে হিংসা - বিদ্বেষ ও পরশ্রীকাতরতা পুরােদমে ছিল । যার ফলে সব শক্তিই জাতির বিপক্ষে ব্যয়িত হয়েছিল ।

সম্রাট শাহজাহানের সময়ে অবাধ বাণিজ্যের সনদ লাভ করে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি । তখন কি কেউ চিন্তা করতে পেরেছিল এই বণিকের মানদণ্ড একদিন দেখা দেবে রাজদণ্ড রূপে ? তখন থেকে ব্যবসায়ের মাধ্যমে এরা এখানকার মুসলিম শাসকদের দুর্বলতা সম্পর্কে অবহিত হতে থাকে এবং নেকড়ের মতাে ওঁৎ পেতে আক্রমণ ও দেশ দখলের সুযােগ খুঁজতে থাকে । বাংলা - বিহার - উড়িষ্যার দিওয়ানী লাভের পর থেকে এরা আরও সুযােগ পেয়ে যায় । এবং এই সুযােগকে কূটনৈতিকভাবে কার্যকরী করতে সচেষ্ট হয় ।

প্রেসিডেন্সি কলেজ, প্রতিষ্ঠাতা - ডেভিড হেয়ার
প্রেসিডেন্সি কলেজ, প্রতিষ্ঠাতা - ডেভিড হেয়ার


মুসলিম জাতির হাত থেকে ভারতবর্ষ ইংরেজদের হাতে চলে যাবে , তা মীর জাফররাও কল্পনা করতে পারেনি । কিন্তু যে সময়ে বুঝতে সক্ষম হয়েছিল তখন আর  কোন উপায় ছিল না । তার পক্ষে নবাবীর চেয়ে মুসলিম শাসনের অবসান কামনা করা কি সম্ভবপর ছিল ?

কবি আকবর ইলাহাবাদী গাদ্দারীর ইতিহাস তাঁর ভাষায় সংক্ষেপে পুরােটাই তুলে ধরেছেন।


"জাফর অাজ বাঙ্গালা , সাদেক আজ দকন তঙ্গে কত্তম , তঙ্গে দ্বীন , তঙ্গে ওয়াতন।" 


ইংরেজদেরকে ভারতের দুই অঞ্চলে দুই মহাজন সাহায্য করেছিলেন । একজন নিযাম - হায়দ্রাবাদের মীর সাদিক , দ্বিতীয় হচ্ছেন মীর জাফর আলী খান । যার ফলে ধীরে ধীরে এই জাতির ধর্ম ও স্বাধীনতাও পরিসমাপ্তি ঘটে । ইংরেজরা নিজেরা যুদ্ধ করে নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে পরাজিত করতে সক্ষম হয়নি । হয়তাে সে সময় তাদের পক্ষে তা করা সম্ভবও ছিল না । মুসলিমদের মধ্যে পরস্পর লােভী নেতৃত্বের জন্যই এটা সম্ভব হয়েছিল । পলাশী যুদ্ধের এই প্রহসনে  ১৭৫৭ সালে সুবায়ে বাংলার শাসনভার ইংরেজদের হাতে রাজনৈতিকভাবে হস্তান্তরিত হয় । মনে হয় তখনও দিল্লী অঞ্চলের দিওয়ানী ইংরেজদের হাতে অর্পিত হয়নি । সুবায়ে বাংলার শাসন ক্ষমতা ইংরেজদের হাতে হস্তান্তরিত হওয়ার পর থেকে আরম্ভ হয় মুসলমানদের তাহজীব - তমদ্দুন ও শিক্ষা - সংস্কৃতির উপর কূটনৈতিক আক্রমণ । এই শিক্ষা - ব্যবস্থা পরিবর্তন ব্যতীত এটা সম্ভব নয় , তাই ইংরেজরা সন্তর্পণে শিক্ষা পরিবর্তনের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে থাকে । 

দিওয়ানী বিভাগে স্বয়ং ইংরেজরা এবং তাদের পদলেহনকারী হিন্দুরা নিয়োজিত ছিল । এদিকে মুসলমানদেরকে পদে পদে বঞ্চিত করা ছিল তাদের ইচ্ছা ।  ফলে ,মুসলিম জাতি ধীরে ধীরে দারিদ্র্যের পথে অগ্রসর হতে থাকে। 

দিওয়ানী ছাড়া প্রশাসন বিভাগে তখনও মুসলমানরা সমাসীন ছিল । এরপর থেকে মুসলমানদের কিভাবে উৎখাত করা যায় প্রশাসন বিভাগে সেই ষড়যন্ত্র চলল । কারণ , তখনও রাষ্ট্র ভাষা ফারসী পরিবর্তন করা সম্ভব হয়নি । 

রাষ্ট্রভাষা ফারসীকে পরিবর্তন করে সে স্থলে ইংরেজি প্রতিষ্ঠা করাও সহজসাধ্য ছিল না । এবং সেকালে ফারসী জানা হিন্দু মুসলমানদের সংখ্যাও কম ছিল না । 

১৭৮০ সালে কলিকাতাতে এই মাদ্রাসার বুনিয়াদ রাখা হয় । নানা পরিবর্তনের মাধ্যমে অবশেষে ওয়েলেসলী স্কোয়ারে মাদ্রাসার ইমারত প্রতিষ্ঠিত হয় । কিন্তু এখানকার উলামারা ভারতবর্ষকে ‘ দারুল হরব ' (যে রাষ্ট্রে আল্লাহর বিধান নাই) বলে বিশ্বাসী ছিলেন । সুতরাং ছাত্রগণও ঐভাবে শিক্ষিত হতে থাকে । অতঃপর মুসলিম জাতির হাত থেকে প্রশাসন বিভাগ হস্তান্তরিত করবার পালা আসে । পূর্বে মাদ্রাসার শিক্ষিত ছাত্ররাই কাযী , এসেসর ও জজ ইত্যাদি পদে নিযুক্ত হতো । পরে তাও না হওয়ার ব্যবস্থা গৃহীত হয় । 

বাহ্যত মাদ্রাসা সংস্কারের নামে নানা কমিটি ও সুপারিশ গৃহীত হতে থাকে । কিন্তু ধীরে ধীরে মুসলমানদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে দুর্বল করার ব্যাপারে সকল প্রচেষ্টা চালানাে হয় । 

জীবিকার ক্ষেত্রে মাদ্রাসার ছাত্ররা যাতে একটা পথ খুঁজে পেতে পারে এজন্য আলিয়া মাদ্রাসাতে ‘ ইমে ত্বিব ’ (ডাক্তারী) সিলেবাসভুক্ত করারও প্রস্তাব করা হয় । কিন্তু ইংরেজ সরকার তা প্রত্যাখ্যান করেন । শেষাবধি শুধু ধর্ম শিক্ষার জন্যই এই মাদ্রাসা কোন রকমে টিকে থাকে । প্রকৃতপক্ষে আলিয়া মাদ্রাসাকেন্দ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থাই ছিল মুসলমানদের আসল শিক্ষার মাধ্যম । কিন্তু কালক্রমে ইংরেজরা এর পাশাপাশি একটি বিকল্প শিক্ষা হিসেবে ইংরেজি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ গড়ে তােলে । 

মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার এক শতাব্দী পর কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হয় । এবং সামগ্রিকভাবে ইংরেজি এই দেশের রাষ্ট্রভাষা রূপে গৃহীত হয় । এভাবে মুসলমানরা ধীরে ধীরে রাজ্যহারা , ধনহারা , মান - সম্মানহারা হয়ে এমন দরিদ্র জাতিতে পরিণত হয় , যা কোনদিন তারা কল্পনা করতে পারেনি । 

এদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার ভাষা হিসাবে ফারসী , আরবী ইত্যাদি ছিল এবং ভালভাবে এর শিক্ষাসূচিতে নৈতিক শিক্ষার ব্যবস্থাও ছিল । মূলত তা ছিল ধর্মভিত্তিক , এমনকি হিন্দুদের শিক্ষা ব্যবস্থাও ছিল ধর্মভিত্তিক । তাই বিদেশী ভাষার মাধ্যমে নৈতিকতাহীন শিক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণে মুসলমান কিছুতেই রাজী হয়নি । কিন্তু তারপরও কিছু কিছু মুসলমান ইংরেজি পড়তে বাধ্য হয়েছে এবং ইংরেজি শিখে তাদের গােলাম হয়েছে । 

এ ব্যাপারে আকবর ইলাহাবাদী তাঁর ভাষায় বলেনঃ 

আহবাব কেয়া নুমাযা কর গ্যায়ে । 

বি , এ , কিয়া , নওকর হুয়ে , পেনশন মিলি আওর মর গ্যায়ে । 

বন্ধুগণ কি কীর্তিই না করলেন । বিএ পাস করার পর , ইংরেজের চাকর হলেন , চাকরির অবসানে পেনশন পেয়ে মৃত্যুবরণ করলেন ।

মানুষের আধ্যাত্মিক জীবন - বর্জিত এই শিক্ষা ব্যবস্থার পরিণতি এ ছাড়া আর কি হতে পারে ? 

এদেশে ইংরেজ সভ্যতা , শিক্ষা ও সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার প্রাক্কালেও আকবর ইলাহাবাদী বলেছিলেনঃ

বকুন তাজিন পায়ে খােদ ববুট ডাসেন অ পাতলুন

জে স্যার সৈয়দ খবরদার অ জেরাহ অ রসম মনযেলেহা

ডাসেন কোম্পানি কর্তৃক প্রস্তুত উচ্চ গােড়ালি যুক্ত বুট জুতা পরিধান কর , স্যুট কোটে সুশােভিত হও এবং মস্তক - বাস ইত্যাদি সম্পর্কে স্যার সৈয়দ আহমদের পরামর্শ গ্রহণ কর । 

এই ধর্মহীন , নৈতিকতাহীন ইংরেজি শিক্ষার মাধ্যমে বেপর্দা,চরিত্রহীনতা  ও ধ্বংস এদেশে প্রতিষ্ঠা লাভ করল । এ সত্যের নতুন ব্যাখ্যার প্রয়ােজন মােটেই নেই ।

তবে এই শিক্ষার ফলে শিল্প - কারখানা , চিকিৎসা ও কারিগরি শিক্ষা লাভের ক্ষেত্রে জনগণ যে সুযােগ পেয়েছে তা অস্বীকার করার কোন উপায় নেই ।

যে জাতি ধ্বংসের দিকে অগ্রসর হয় , তাকে কে রক্ষা করতে পারে ?  একটা জতির মধ্যে ব্যক্তি , পরিবার ও সমাজ বিদ্যমান এবং রাষ্ট্রও এগুলিকে নিয়ে গঠিত । একটি জাতির উত্থান প্রকৃতপক্ষে তার ত্যাগ ও কুরবানীর ভিত্তিতে সম্ভব হয় । লােভ লালসা , ইন্দ্ৰীয়পরায়ণতা , ঈর্ষা - হিংসার ফলে জাতি পরাধীন ও দাসত্বে পদানত হয়ে থাকে । 

ইকবালের ভাষায়ঃ

শামসীর অ সেনান আওয়াল তাউস অ রবাব আখের 

আদর্শ এবং ত্যাগের প্রেরণা ছিল না বলেই সিরাজউদ্দৌলা , টিপু , হায়দার আলী ও ওয়াহাবী আন্দোলন এদেশের স্বাধীনতাকে পুনঃ প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি । যে কালে তারা স্বাধীন ছিল এবং পরবর্তী কালে নীতি বিবর্জিত অবস্থায় তাদের কি পরিণাম হয়েছে তা সহজে সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে । আজ তাদের সম্পর্কে জানতে হলে শুধু পুস্তকের পাতা উল্টানাে ছাড়া গত্যন্তর নেই । 

মুসলমানদের গাের , মুসলমানদের কিতাব মুসলমান কবরে শায়িত এবং মুসলমানী কিতাবে সুরক্ষিত ? 

সুতরাং স্বাধীনতা লাভের পরও এই দেশে শিক্ষা ব্যবস্থা নৈতিকতাভিত্তিক সুগঠিত ও সুবিন্যস্ত হতে পারেনি । এখন আর আমাদের উপর পাশ্চাত্য পণ্ডিতদের শিক্ষা ব্যবস্থা চাপানাের প্রশ্ন যেমন উঠে না , তেমনি ধর্ম শিক্ষা সর্বস্তরে বাধ্যতামূলক করার জন্যও কোন বিদেশী সাহায্যের আবশ্যক হয় না । এ ব্যাপারে আমরাই যথেষ্ট । 

বলা বাহুল্য , 

আফসােস করার অবসর নাই , 

আফসােস বুঝবারও অনুভূতি নাই । 

পাশ্চাত্য শিক্ষা প্রবর্তনের ফলে জাতির মাঝে নৈতিক দিক শূন্য থেকে শূন্যতর হয়ে আসছে । এই মানসিকতা জাতির সম্মান, স্বাধীনতা ও অস্তিত্বের প্রতি দৈনন্দিন এক হুমকিস্বরূপ বিরাজ করছে । আলিয়া মাদ্রাসার ইতিহাস আজ জাতির পতনের ইতিহাস । অনুভূতিহীন জাতির সম্মুখে এ আলােচনা কি ভাল বােধ হবে ? তবে নিরাশ হওয়া চলবে না । মানুষ যেখানে পতিত হয় সেখান থেকে উত্থানের পদক্ষেপ নিয়ে থাকে । অনুভূতি জাগ্রত হলে উন্নতির পথ সুপ্রশস্ত হয় । 

ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ কর্তৃক প্রকাশিত ড. মুহাম্মদ জামাল উদ্দিন লিখিত "ইসলামী দাওয়াহ ও তাবলীগ জামায়াত প্রেক্ষিত বাংলাদেশ" বইয়ের ২১৩ পৃষ্ঠায় হযরত মাওলানা আব্দুল আযীয (র) জীবনী বর্ণনা করতে গিয়ে লেখক লিখেছেন,


"ছুয়াম বা ‘ আলিম পাস করার পর দুয়াম বা ফাযিল ক্লাসে পড়ার জন্য তিনি কলকাতা যান । কলকাতা আলিয়া মাদ্রাসার সিনিয়র শিক্ষকদের অনেকেই ছিলেন খৃষ্টান । ফলে তিনি ‘ আকড়া ’ মাদ্রাসায় ভর্তি হন । এখান থেকে তিনি জামাতে উলা ( ফাযিল ) পাস করেন । টাইটেল ( কামিল ) পড়ার জন্য কলকাতা আলিয়া মাদ্রাসা ছাড়া অন্য কোন উপায় ছিলনা । ফলে ১৯৩৭ সালে তিনি টাইটেল পড়ার জন্য কলকাতা আলিয়া মাদ্রাসায় ভর্তি হন ।"


লেখক আরও বলেন,


"মাওলানা আব্দুল আযীয (র) বলতেন যে , আমরা কলকাতা আলীয়া মাদ্রাসায় এক খৃষ্টান পাদরীর নিকট বােখারী শরীফ পড়তাম।


খুলনা দারুল উলুম মাদ্রাসার বয়ান , বর্ণনাকারী মাওলানা আমিনুল ইসলাম ।"

আল্লাহ বলেন,

 ۞ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَتَّخِذُوا الْيَهُودَ وَالنَّصَارَىٰ أَوْلِيَاءَ ۘ بَعْضُهُمْ أَوْلِيَاءُ بَعْضٍ ۚ وَمَن يَتَوَلَّهُم مِّنكُمْ فَإِنَّهُ مِنْهُمْ ۗ إِنَّ اللَّهَ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الظَّالِمِينَ

হে মুমিণগণ! তোমরা ইহুদী ও খ্রীষ্টানদেরকে বন্ধু হিসাবে গ্রহণ করো না। তারা একে অপরের বন্ধু। তোমাদের মধ্যে যে তাদের সাথে বন্ধুত্ব করবে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ জালেমদেরকে পথ প্রদর্শন করেন না।

(সূরা মায়েদাহ-৫১)

আজ যারা কথায় কথায় আরবীর জানার অহংকারে স্ফীত হয়ে অন্যদের পাত্তা দেন না তাদের প্রতি প্রশ্ন খৃষ্টানরা যদি মুসলামানদের ইসলাম শিক্ষা দিয়ে থাকে তাহলে সেই ইসলাম কি রাসূলাল্লাহর প্রকৃত ইসলাম ? 

বিভিন্ন সময়ে নিয়ােজিত আলিয়া মাদ্রাসার প্রিন্সিপ্যাল বৃন্দর নাম ও কার্যকাল 

১ ) এ স্পীঙ্গার এম , এ ১৮৫০ ইং 

২ ) স্যার উইলিয়াম নাসনলীজ এল , এল , ডি ১৮৭০ 

৩ ) জে স্যাটক্লিফ এম , এ ১৮৭০ 

৪ ) এইচ , এফ , ব্রকম্যান এম , এ ১৮৭৩ 

৫ ) এ , ই , গাফ এম , এ ১৮৭৮ 

৬ ) এ , এফ , আর হাের্ণেল সি , আই , ই , পি , এইচ , ডি ১৮৮১ 

৭ ) এইচ প্রথেরাে এম , এ ( অস্থায়ী ) ১৮৯০ ৮ ) এ , এফ হাের্ণেল ১৮৯১ 

৯ ) এ , জে রাে , এম , এ ( অস্থায়ী ) ১৮৯২ ১০ ) এ , এফ হাের্ণেল ১৮৯২ 

১১ ) এফ , জে রাে ( অস্থায়ী ) ১৮৯৫ 

১২ ) এ , এফ হাের্ণেল ১৯৯৭ 

১৩ ) এফ জে রে ( অস্থায়ী ) ১৮৯৮ 

১৪ ) এফ , সি হল বি , এ , টি , এস সি ( অস্থায়ী ) ১৮৯৯ 

১৫ ) স্যার অরাল স্টেইন , পি , এইচ , ডি , ( অস্থায়ী ) ১৮৯৯ 

১৬ ) এইচ , এ , ষ্টার্ক বি , এ ( অস্থায়ী ) . ১৯০০ 

১৭ ) লেঃ কর্ণেল জি , এস এ রেস্কিং ( অস্থায়ী ) ১৯০০ 

১৮ ) এইচ , এ , ষ্টার্ক , বি এ ( অস্থায়ী ) ১৯০১ ১৯ ) স্যার , এড ওয়ার্ড ভেনিসন রাস , পি , এইচ , ডি ১৯০৩ 

২০ ) এইচ ই স্টেপেল্টন , বি , এ , বি এস সি ( অস্থায়ী ) ১৯০৩ 

২১ ) স্যার এড ওয়ার্ড ডেনিসন রাস ১০০৪ ২২ ) মিঃ চীফম্যান ( অস্থায়ী ) ১৮০৭ 

২৩ ) স্যার এড ওয়ার্ড ডেনিসন রাস ১৯০৮ ২৪ ) এ , এইচ হারলি এম এ ১৯১১ 

২৫ ) মিঃ জে , এম , বুটামলি বি , এ ( অস্থায়ী ) ১৯২৩ 

২৬ ) এ , এইচ হারলি এম , এ ১৯২৫ 

২৭ ) শামসুল ওলামা কামালুদ্দিন এম , এ , আই , ই , এস ১৯২৭ 

২৮ ) খান বাহাদুর মােঃ হেদায়েত হােসেন , পি , এইচ , ডি ১৯২৮ 

২৯ ) খান বাহাদুর মােঃ মুসা এম , এ ১৯৩৪ ৩০ ) খান বাহাদুর মােঃ ইউসুফ এম , এ ( অস্থায়ী ) ১৯৩৭ 

৩১ ) খান বাহাদুর মােঃ মুসা এম , এ ১৯৩৮ ৩২ ) খান বাহাদুর মােঃ ইউসুফ এম , এ ১৯৪১ ৩৩ ) খান বাহাদুর মােঃ জিয়াউল হক এম , এ ১৯৪৩ 

৩৪ ) মওলবী শেষ শরফুদ্দিন এম , এ , এর , এল , বি ১৯৫৪

৩৫ ) মওলবী মকবুল আহমদ এম , এ ১৯৫৫ ৩৬ ) মওলানা হাফেজ আবদুল হাফিজ এম , এ ১৯৫৭ সাল।

প্রথম ২৬ জন প্রিন্সিপালই খৃষ্টান। 

এখানে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট হলো মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ১৭৮০ সালে এবং প্রথম প্রিন্সিপালের কার্যকাল শুরু হয়েছে ১৮৫০ সালে। এযাবৎ কারা প্রিন্সিপাল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন? 

এর উত্তর হচ্ছে জনাব ইয়াকুব শরীফ কিন্তু ভূমিকায় লিখেছেন তখনকার উলামারা ভারতবর্ষকে দারুল হরব্ মনে করতেন এবং শিক্ষার্থীরাও ঐভাবে গড়ে উঠে ।  এটা পরিবর্তনের জন্য  প্রশাসন বিভাগ হস্তান্তর করা হয় । 

তাদের উদ্দেশ্য যদি শুধুই মুসলামানদের অধিকার রক্ষা হতো তাহলে মাদ্রাসার প্রশাসন বিভাগ হস্তান্তর করে উলামাগনকে বাদ দিয়ে একজন খৃষ্টানকে মুসলমানদের প্রিন্সিপাল নিযুক্ত করতেন না । মূল উদ্দেশ্যই  ছিল এমন একটা ইসলাম শিক্ষা দেয়া যেটা দেখতে বাইরে থেকে  হুবহু  ইসলামের মতো কিন্তু আত্মায়, চরিত্রে ইসলামের ঠিক বিপরীত । 

এখানে তারা শতভাগ সফল । 

১৮৫০-১৯২৭ পর্যন্ত খৃষ্টানরা প্রিন্সিপাল থেকে  তাদেরই ছাত্র  শামসুল ওলামা কামালুদ্দিনের হাতে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন । কারণ তারা যে উদ্দেশ্যে দায়িত্ব হস্তগত করেছিলেন ৭৭ বছর হাতে-কলমে শিখিয়ে তারা নিশ্চিত যে তারা যে ইসলামটা শেখাতে চেয়েছিলেন সেটা তারা যথাযথভাবেই শেখাতে পেরেছেন । 

সেটা কোন ইসলাম তা এই সময়ে এসে ব্যাখ্যা করার প্রয়োজনবোধ করছি না । 

সিলেবাস অর্থাৎ কী পড়ানে হবে এবং তাদের তৈরি কারিকুলাম (কিভাবে পড়ানো হবে) ছিল তাদের তৈরি। যেখানে জাগতিক জ্ঞান শিক্ষা দেয়া হয়নি । 

এইবার জাগতিক জ্ঞান শিক্ষা দেয়ার লক্ষ্যে  ডেভিড হেয়ার  ১৮১৭ সালে কলকাতায় প্রেসিডেন্সি কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন।  জাগতিক জ্ঞান বলতে  ইংরেজি ভাষা শিক্ষা, তাদের ফায়ফরমাস খাটার জন্য যেটুকু না জানলেই নয় সেটুকু শেখানো হলো ।  এখানে ধর্মকে আলগোছে দূরে সরিয়ে রাখা হলো এবং সুকৌশলে ধর্ম সম্পর্কে Hostile attitude বা বিদ্বেষ ভাব ঢুকিয়ে দেয়া হলো । 

এটুকু করার কারণ ছিল বিশাল ভারতবর্ষকে শাষন করতে ফায়ফরমেশ খাটানোর  জন্য সুদূর ছোট্ট  ইংল্যান্ড থেকে নিজ জনগোষ্ঠী নিয়ে আসাটা সহজসাধ্য  ছিল না  এবং তাদের আগ্রহও ছিল না । এজন্যই দেখা যায় কর্মকর্তা সব ছিল বৃটিশ আর কর্মচারী সব ছিল ভারতীয় । 

দারুল উলুম দেওবন্দ, প্রতিষ্ঠাতাঃ ৬ জন
দারুল উলুম দেওবন্দ

দারুল উলুম দেওবন্দের ৬ জন প্রতিষ্ঠাতা:

১. মুহাম্মদ কাসেম নানুতুবি

২. মুহাম্মদ ইয়াকুব নানুতুবি

৩. রফি উদ্দিন উসমানী

৪. যুলফিকার আলী দেওবন্দি

৫. ফজলুর রহমান উসমানি

৬. হাজী আবেদ হোসেন


এই দ্বিমুখী শিক্ষাব্যবস্থার বাইরেও  আরেকটা ব্যবস্থা গড়ে উঠেছিল সেটা হলো ভারতের উত্তর প্রদেশ  দেওবন্দে "দারুল উলুম দেওবন্দ মাদ্রাসা। "

১৮৬৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এই শিক্ষাব্যবস্থা ছিল পূর্বের থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন ধারার । কিন্তু  তা সত্বেও এখানে  ঐ সমস্ত বিষয় পড়ানো হতো যেগুলো সম্পর্কে পূর্ব থেকেই মতবিরোধ ছিল।

এখান থেকে বের হয়ে তর্ক, বাহাছ , ইংরেজি শেখা হালাল না হারাম, মাইকে আজান দেয়া কি বেদাত, টিভি দেখা জায়েজ না নাজায়েজ , ফটো তোলা কি শেরক্ ইত্যাদি   পশ্চাদপদ চিন্তাধারা নিয়ে বাকি দুনিয়া থেকে একরকম আলাদা হয়ে এগোতে  থাকে। 

অর্থাৎ মুসলমানদের নিজস্ব তাহজীব-তামাদ্দুন রক্ষার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠা করলেও  শিক্ষাব্যবস্থার কারণে তা সম্ভবপর হয়ে উঠেনি । 

এই ভিন্ন তিন ধারার শিক্ষাব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে একই পিতার তিন পুত্র যে ভিন্ন হবে এটা সকলের কাছেই অনুমেয় । 

আমি স্কুল,কওমী মাদ্রাসা,আলিয়া মাদ্রাসা এবং কলেজের ছাত্র হিসেবে আমার এই ছোট্ট জীবনে আমি প্রত্যেকের Attitude বা মনোভাব কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে।

পরষ্পর পরষ্পর সম্পর্কে একটা তুচ্ছতাচ্ছিল্য  মনোভাব নিয়ে বেড়ে উঠে । পরশ্রীকাতরতা, হিংসা কমবেশি সবার ভেতরেই আছে ।  অথচ তিনটি বিষয় না জানলে তাকে শিক্ষিত বলা যায় না।

১। স্রস্টার সাথে তার কী সম্পর্ক। 

২। তার সাথে মানবজাতির কী  সম্পর্ক।

৩। সৃষ্টির অন্যান্য বস্তুর সঙ্গে তার কী সম্পর্ক।

আজ এই মৌলিক তিনটি কথা কয়জন শিক্ষিত লোক জানে আমার কৌতূহল। 

একটা জাতির ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এরকম ধর্ম, নীতিনৈতিকতা , দেশপ্রেম বিবর্জিত ভিন্ন ধারার শিক্ষাব্যবস্থায়  শিক্ষিত করে আর যাইহোক দেশ ও জাতির কল্যান সাধন সম্ভব নয়। 

তাই আমাদের চিন্তাশীলদের এখন ভাবতেই হবে আমরা  বৃটিশ বেনিয়াদের রেখে যাওয়া চর্বিত চর্বণ করে যাবো নাকি দেশ,জাতির জন্য  কল্যানকর কোনো উপযুক্ত ব্যবস্থা তৈরি করবো । 

কী সেই উপযুক্ত ব্যবস্থা তা আমাদের নতুন করে খোঁজার দরকার নাই। সেই চিরন্তন, শাশ্বত,  কায়্যেমাহ বা প্রতিষ্ঠিত ব্যবস্থা নিয়ে কিছু মানুষ দ্বারে দ্বারে ঘুরছে। প্রয়োজন শুধু উম্মুক্ত মন নিয়ে সেইসব মানুষের কথাগুলো শোনা। 

শেষ করবো ঔপনিবেশিক শিক্ষা সম্পর্কে লর্ড মেকলে ১৮৩৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারী বৃটিশ পার্লামেন্টে যে বক্তব্য দেন তার অংশবিশেষ দিয়েঃ

"I have travelled across the length and breadth of India and I have not seen one person who is a beggar , who is a thief . Such wealth I have seen in this country , such high moral values , people of such caliber , that I do not think we would ever conquer this country , unless we break the very backbone of this nation , which is her spiritual and cultural heritage , and , therefore , I propose that we replace her old and ancient education system , her culture , for if the Indians think that all that is foreign and English is good and greater than their own , they will lose their self - esteem , their native culture and they will become what we want them , a truly dominated nation . "

 “আমি ভারতের এ মাথা থেকে ও মাথা ঘুরে বেড়িয়েছি কিন্তু একটি ভিক্ষুকও আমার চোখে পড়ে নি , একটি চোরও আমি দেখতে পাই নি । এ দেশে সম্পদের এত প্রাচুর্য এবং এদেশের মানুষগুলি এতটাই যােগ্যতাসম্পন্ন ও উন্নত নৈতিক চরিত্রের অধিকারী যে এদেশকে আমরা কখনােই পদানত করতে পারবাে না যদি না তাদের মেরুদণ্ডটি ভেঙ্গে ফেলতে পারি । এদেশের আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যই হচ্ছে সেই মেরুদণ্ড । এ কারণে আমার প্রস্তাব হচ্ছে , আমরা এখানকার প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থা , সংস্কৃতিকে এমন একটি শিক্ষা ও সংস্কৃতি দিয়ে  প্রতিস্থাপন করা যাতে প্রতিটি ভারতীয় নাগরিক ভাবতে শেখে যে , যা কিছু বিদেশি এবং ইংরেজদের তৈরি তা - ই ভাল এবং নিজেদের দেশের থেকে উৎকৃষ্টতর । এভাবে নিজেদের উপরে শ্রদ্ধা হারাবে , তাদের দেশজু সংস্কৃতি হারাবে এবং এমন একটি দাসজাতিতে পরিণত হবে ঠিক যেমনটি আমরা চাই। "