মেধা ও বিকাশ

প্রকাশিত: মার্চ ০৯, ২০২১
মেধা ও বিকাশ

মেধা ও বিকাশ

মেধা ও বিকাশ

ফটোগুলো দেখে অনেকে ভাবতে পারেন, ক্লাসে পড়ানো বাদ দিয়ে ফটো তোলা হচ্ছে। কিন্তু না। 

ফটোগুলো তোলার পেছনে একটা কারণ রয়েছে। 

এটা ২য় শ্রেণীর একটা ক্লাস। দেখা যাচ্ছে কিছু ছাত্র দাঁড়িয়ে আবার কিছু ছাত্র বসে।স্বাভাবিক দৃষ্টিতে এটা শিক্ষকহীন ক্লাস মনে হলেও বাস্তবিক দৃষ্টিতে তা নয়।

আমরা জানি যে সবার মেধা এক নয়।

একটি ক্লাসে কিছু ছাত্র তো থাকেই যারা ব্যাতিক্রম। তাদের মেধাকে যদি যথাযথ মূল্যায়ন করা হয় তাহলে একজন শিক্ষকের জন্য  ৪০ মিনিট সময়কে পুরো ক্লাসের জন্য  যথাযথভাবে ব্যবহার করা সম্ভব।

আমরা যদি ইতিহাস দেখি তাহলে দেখতে পাই দিগ্বিজয়ী সেনাপতি খালেদ, মুহাম্মদ বিন কাসিমের মতো রণকৌশলী সেনাপতিদের মেধার বহিঃপ্রকাশ যুদ্ধের মাঠে হয়েছে।তারা যুদ্ধ করতে করতে যুদ্ধ সংক্রান্ত জ্ঞানকে আরো শাণিত করেছেন।তাহলে একজন ছাত্র কিভাবে তার মেধাকে শাণিত করবে?

এটা সম্পূর্ণই তার প্রশিক্ষকের উপর বর্তায়।

শিক্ষক যদি চায় ক্লাসের পিনপতন নীরবতা থাকবে তাহলে সেটাই হবে আবার শিক্ষক না চাইলেও বিশৃঙ্খলা হবে।সম্পূর্ণটাই নির্ভর করে একজন শিক্ষকের পরিচালনার,ব্যক্তিত্বের উপর।একজন শিক্ষক কতোটা কঠোর এবং কতোটা কোমল সেটা প্রকাশ করতে না পারলে উভয়পক্ষই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

একজন লোক কখন আপনাকে ভালোবাসবে?

যখন আপনি তার খোঁজ-খবর নিবেন, তার ব্যথা নিজের করে বুঝবেন তখনই সে আপনাকে তার বন্ধু ভাববে।

তদ্রূপ একজন শিক্ষার্থীও আপনাকে তখনই যথার্থ মূল্যায়ন করবে যখন তার সাথে আপনি একইসাথে কোমল এবং কঠোর। 

আমরা কী করি? 

আমরা ক্লাসে যাওয়ার সময় গাম্ভীর্যের বস্তা নিয়ে যাই।তারপর সেই বস্তার মুখ খুলে দিই।মনে হয় তাদের সাথে কুশল বিনিময় করলে সম্মান কমে যাবে।ক্লাসে ঢুকার সময় ক'জন শিক্ষক সালাম দেন তা আমার জানা নাই।তবে সেটা যে নগন্য সেটা আন্দাজ করা যাচ্ছে। 

ফলে কী হয়?

তারা শুধু বড়দেরই সালাম দেয় এবং বিশেষ করে যখন কোন শিক্ষক বা হুজুর দেখে।বাবা-মাকেও দেয় না।এটা তাদের কাছে লজ্জার বিশেষ একটা কারণ।

যখন তারা বড়দের থেকে সালাম পায় না তখন ছোটদেরকে সালাম দেয় না।

আমরাই বা ক'জন দেই?

যেসব ছাত্র মেধাবী তাদেরকে শিক্ষকতার সুযোগ দিয়ে আপনি পর্যবেক্ষণ করুন। সে যে অংকটি সবার আগে করলো সেই অংকটা যে পারছে না তাকে বুঝাতে পারছে কিনা।এটা যদিও ধীর গতির একটা বিষয় তবুও গুরুত্বপূর্ণ। 

আপনি যখন তাকে মূল্যায়ন করবেন তখন সে আপনাকে,তাকে এবং তার হোম ওয়ার্ক সবকিছুর ব্যাপারে মূল্যায়ন করবে।

যখন একজন শিক্ষক হাতের লেখা দেখে  তখন তাঁর দায়িত্ব শুধু কি গতকালের লেখাটায় ✔ দেয়া নাকি ভুলগুলোতেও ✘ দেয়া?

উভয়টাই।

হয়তো আমরা একটা দায়িত্ব পালন করছি বিধায় এসএসসি পরীক্ষার্থীর খাতায় অতি পরিচিত বানানেও ভুল পাই।

কিন্তু আমাদের একটা চাপে থাকতে হয় যে এতোজনের খাতা আমাকে দেখতে হবে।শুধু তাই নয় আগামীকালের হোমওয়ার্কও দিতে হবে।এই সবকিছুই যখন একজন কাঁধে তুলে নেয় তখন ভারী হওয়াটা প্রাকৃতিক। কিন্তু এমনটা কি করা যায় না যে, যারা ব্যাতিক্রম তাদের কাধে কিছু দায়িত্ব দেয়া?

হ্যাঁ।দেয়া যায়। এতে হয় কি সে নিজের খাতা-কলম খরচ না করেও পুনরায় লেখার সুযোগ পায়,অনুশীলনের সুযোগ পায় এবং সেটা তখন তার মাথায় গেড়ে যায়।সেইসাথে পরিচালনার একটা ক্ষুদ্র অভিজ্ঞতা লাভ করে সর্বোপরি একটি মজবুত ভবিষ্যতের ভিত্তি  রচনা হয়।

আমি শুনতে পাই,পাশের ক্লাসের স্যার কড়া শাসনের ফলেও বিশৃঙ্খলা হচ্ছে। সেই একই ক্লাস যখন  সালাম, আউজুবিল্লাহ ও বিসমিল্লাহ'র অর্থ বুঝালো তখন তারা পরিবর্তন হতে শুরু করলো।