নির্বাচিত লেখা

দক্ষিণ এশিয়ায় ধর্মান্ধতার উত্থান: বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আমাদের করণীয়

জাতীয় প্রেসক্লাবের সন্নিকটে বাগিচা চাইনিজ রেস্টুরেন্টে হেযবুত তওহীদ ঢাকা মহানগর গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদেরকে নিয়ে একটি গোলটেবিল বৈ......

আমার পড়াশোনা, আমার গল্প

প্রকাশিত: অক্টোবর ১৯, ২০২১

পড়াশোনার প্রতি আমার বিশেষ একটা আগ্রহ ছিল শৈশবে। কারণ আমি জেনেছিলাম পড়াশোনা করলে জ্ঞান বাড়ে, যেকোনো বস্তু সম্পর্কে সঠিক নির্ণয় করার যোগ্যতা অর্জন হয় তাই। আমি কখনোই স্কুল ফাঁকি দিয়ে বেড়াতাম না। এজন্য স্যার প্রায় সময় আমাকে আদর করতেন, তাঁর বাড়ি ডেকে আপ্যায়ণ করাতেন। 

আমার পড়াশোনা, আমার গল্প
আমার স্কুল ও আমি!

ছবি আঁকার প্রতি ও বইয়ের পড়া লেখার প্রতিও আমার ঝোঁক ছিল খুব। আমার দাদি যে টাকা আমায় খেতে দিতেন সে টাকা দিয়ে আমি খাতা কিনে ছবি আঁকতাম, বইয়ের পড়া লিখতাম। মাঝে মধ্যে বিভিন্ন গাছ কিনে বাড়ির চতুর্পাশে লাগাতাম। সে গাছগুলোর মধ্যে এখনো কাঁঠাল গাছ, আম গাছ, বড়ই গাছ শির উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে বাড়ির চতুর্পাশে। 


তৃতীয় শ্রেণী পর্যন্ত অনেক কষ্ট করে আমার দাদি আমায় পড়ালেখা করান। তারপর অর্থনৈতিক সংকটের কারণে ধীরে ধীরে পড়াশোনা থেকে আমার দূরত্ব সৃষ্টি হয়। অনেক চেষ্টা করি পড়াশোনা চালিয়ে যেতে কিন্তু পারিবারিক অর্থনৈতিক অসচ্ছলতা এমনভাবে আমাকে বেঁধে ফেলে যে পড়াশোনা বাঁধ দিয়ে নিরুপায় হয়ে কর্মস্থলে সম্পৃক্ত হতে হয়।

তারপর এক বছর পড়াশোনা বন্ধ থাকে। দ্বিতীয় বছর অনেক কষ্ট করে স্কুলে ভর্তি হই। তবে আগের মতো শুধু পড়াশোনা করে জীবন নির্বাহ করার সুযোগ থাকে না। একটা কর্মস্থলে কাজ করতে হতো পাশাপাশি পড়াশোনা করতাম। তবুও আমি খুশি ছিলাম। কারণ পড়াশোনা করতে পারছিলাম এটাই আমার জন্য অনেক বড় পাওয়া ছিল। 

পঞ্চম শ্রেণীর ঠিক ফাইনাল পরীক্ষার আগ মূহুর্তে এক সড়ক দুর্ঘটনায় আমার বাবার এক পা ভেঙে গেলে, বাবা একদম ঘরে বসে পড়েন। পরিবারের কর্তা উপার্জন করতে না পারলে সেই পরিবারের অবস্থা কতোটা শোচনীয় হয় তা আর নাই বললাম। তারপর পড়াশোনা করার সুযোগ একদমই হারিয়ে ফেললাম। 

সেই ১০ বছর বয়সে পরিবারের দায়িত্ব এসে পড়লো আমার আর বড় আপুর কাঁধে। তারপর জীবনযুদ্ধ শুরু। পড়াশোনা করার সুযোগ আর হলো না। কিন্তু আল্লাহর অশেষ কৃপায় ২০১২ সালের দিকে হঠাৎ কিছু ধর্মীয় বই পড়ার প্রয়োজনে আবার পড়াশোনা শুরু করলাম। সারাদিন কাজ করতাম। কাজের ফাঁকে ফাঁকে বই পড়তাম। পড়াশোনা বলতে শিশুশ্রেণীর বই কিনে পড়া শুরু করেছিলাম অক্ষরের সাথে পরিচিতি লাভ করতে। কারণ দীর্ঘদিন বইপুস্তক থেকে দূরে থাকার কারণে বই পড়ার যোগ্যতাটুকুও হারিয়ে ফেলেছিলাম। 

জীবনের এই পর্যায়ে এসে অনেক কিছু শিখেছি পৃথিবীর কাছ থেকে। পড়াশোনা করতে পারিনি এ নিয়ে এখন আর আমার মধ্যে কোনো আফসোস নেই। আমি যেটুকু শিক্ষা অর্জন করেছি তা নিয়ে আমি তুষ্ট। একটা সময় দুঃখ হতো পড়াশোনা সম্পূর্ণ করতে পারিনি বলে, কিন্তু এখন আর হয় না। কারণ আমার সামনে উচ্চতর শিক্ষিত লোকগুলো যখন সমাজটাকে অন্ধকারে তলিয়ে দিচ্ছে তখন এই প্রচলিত শিক্ষার প্রতি ভালোবাসার বদলে অনাগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। তবু স্বপ্ন দেখি, আগামীর দিনগুলোতে মানুষ প্রকৃত শিক্ষা নিয়ে শান্তির পথ নিশ্চিত করবে। সেদিন আমার পরবর্তী প্রজন্ম প্রকৃত শিক্ষার সান্নিধ্য লাভ করে আমার অপূরণীয় স্বপ্নগুলো পূরণ করবে।