তর্ক, জ্ঞান ও শাস্ত্রের তিনকাহন

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ১৮, ২০২০

১. প্রচুর বাগ্মী, তর্কবাজ লোকেরা ধ্রুব সত্যের বিরুদ্ধেও তর্ক করে জিততে পারে। সত্যের পক্ষাবলম্বীকে তর্কে হারিয়ে হতবুদ্ধি করে ফেলতে পারে। আমার জানামতে একজন তার্কিক যৌতুকের পক্ষেও তর্ক করে বিজয়ী হয়েছিলেন। সুতরাং সব বিষয়েই তর্ক কোনো সমাধান নয়। তর্ক-বাহাসে বিজয়ী হয় চাপাবাজরা। সব তর্কে সত্য পাওয়া যায় না। সত্য থাকে আন্তরিক আলোচনায়। 

তর্ক, জ্ঞান ও শাস্ত্রের তিনকাহন
২. মানুষের জ্ঞান কখনো তার ঠোঁটে থাকে, কখনো তার কণ্ঠে থাকে। জ্ঞান যখন হৃদয়ে প্রবেশ করে তখনই সেটা প্রকৃত জ্ঞানে পরিণত হয়। আপনি বই পড়ছেন, যুক্তি মেলাচ্ছেন- ওকে, সব ঠিক আছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে আসলে আপনি বুঝছেন কতটুকু? যেটুকু বুঝেছেন সেটুকুই আপনার সত্যিকার জ্ঞানে পরিণত হয়েছে। 


৩. শাস্ত্র অন্ধ বা শাস্ত্রান্ধ। আমাদের সমাজে একটা কথা চালু আছে, মোল্লার গাই- কিতাবে আছে গোহালে নাই। অর্থাৎ আপনি কিতাবে আছে বলে অনেক কিছুই দেখাতে পারবেন, অনেক কিছু হারাম করতে পারবেন, হালালও করতে পারবেন। আপনি কোনটা চান সেইটাকে মাথায় রেখে আগান, আশা করি পেয়ে যাবেন। কিন্তু বাস্তবতা কি? কিতাবে অনেক বিষয় আছে যেসব নিয়ে বহুমত পাওয়া যায়। বহু রকম -ফের পাওয়া যায়। এখন আপনি আপনার মানসিকতা ও পছন্দ অনুসারে আপনার ফতোয়া সাজাতে পারেন। এটা খুব কঠিন কোনো কাজ নয়। কিন্তু সেগুলোর বাস্তবতা কতটুকু? এই সমাজ, এই সময়, এই কালে সেটার আবেদন ঐভাবে কতটা আছে এটা যদি আপনি না বুঝেন, কথায় কথায় কিতাবের আয়াত টেনে আনেন, তবে বুঝতে হবে আপনি শাস্ত্রকানা বা শাস্ত্রান্ধ। জ্ঞান আপনার ঠোটেঁ, জ্ঞান আপনার কণ্ঠে। জ্ঞান আপনার হৃদয়ে প্রবেশ করেনি।