সিদ্ধান্তের বন্ধন ও রক্তের বন্ধন

প্রকাশিত: জানুয়ারী ১৩, ২০২১

সিদ্ধান্তের বন্ধন ও রক্তের বন্ধন
দুটি হাত যখন একে অপরকে আঁকড়ে ধরে তখন তাদের মধ্যে একটা বন্ধন সৃষ্টি হয়। এই বন্ধনটি কতক্ষণ টিকে থাকবে তা নির্ভর করে বন্ধন টিকিয়ে রাখার ব্যাপারে তাদের সিদ্ধান্তের উপর। বন্ধনটি কতটা দৃঢ় হবে তা নির্ভর করে তাদের উভয়ের প্রতি উভয়ের টান, বন্ধন দৃঢ় রাখার ব্যাপারে উভয়ের সচেতনতা ইত্যাদির উপরে। যদি তাদের একজনও উদাসীন হয়, বন্ধন রাখতে না চায় তাহলে সে বন্ধন আর বেশিক্ষণ টিকে থাকা সম্ভব নয়।

কিন্তু একটা হাতের সাথে তার পাঁচটা আঙ্গুলের যে বন্ধন, শরীরের সাথে হাতের যে বন্ধন তা কখনোই ছিন্ন করা সম্ভব নয়। হাতকে শরীর থেকে ছিন্ন করলে রক্তক্ষরণ হবে, হাত জীবনী শক্তি হারিয়ে পচে যাবে। 

কারণ শরীরের সাথে হাতের সম্পর্ক, হাতের সাথে আঙ্গুলের সম্পর্ক রক্তের। শরীর থেকে হাত রক্ত গ্রহণ করে আর হাত থেকে আঙ্গুল রক্ত গ্রহণ করে। কিন্তু একটা হাতের সাথে আরেকটা হাত যে বন্ধন সৃষ্টি করে তা কেবল সিদ্ধান্তের বন্ধন, রক্তের বন্ধন নয়।

প্রেমের বন্ধন, বিয়ের বন্ধন তথা স্বামী-স্ত্রীর বন্ধন হলো দুই হাতের মতো একটা সিদ্ধান্তের বন্ধন। এটা অটুট রাখতে হলে উভয়কে খুব সচেতন, যত্নবান থাকতে হয়, একে অপরকে বিশ্বাস করতে হয়, অকৃত্রিমভাবে ভালোবাসতে হয়। একে অপরের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্যগুলো পালন করে যেতে হয়। বন্ধনটি টিকিয়ে রাখাও সিদ্ধান্তের ব্যাপার আর বন্ধনকে দৃঢ় রাখাও উভয়ের সিদ্ধান্তের ব্যাপার।

কিন্তু মা-বাবা, ভাই-বোন বা রক্তের সম্পর্কের নিকট আত্মীয় যারা আছেন তাদের সাথে আমাদের বন্ধনটা এমনই নিগুঢ় যে, আমরা চাইলেও তা ছিন্ন করতে পারব না। কোনো কারণে যদি সাময়িক ঝগড়া বা মন কষাকষি হয়, দূরত্ব তৈরি হয় তাহলে হৃদয়ে রক্তক্ষরণ শুরু হয়ে যায়। মা-বাবার অন্তরে সন্তানদের প্রতি এমনই ভালোবাসা, এমনই টান আল্লাহ সৃষ্টি করে দিয়েছেন যে, কোনোভাবেই এ সম্পর্ক ছিন্ন করা সম্ভব নয়।