অহংকারীদের পরিণতি

প্রকাশিত: জানুয়ারী ১৬, ২০২১

বেশী দূরে না গিয়ে যদি সমসাময়িক বিষয়কেই উদাহরণ হিসেবে নেয়া যায়, তাহলে আমরা দেখতে পাই, অহংকারীদের পতন অবশ্যম্ভাবী এবং অতিদ্রুত।এই অহংকার হতে পারে ক্ষমতার, অর্থের, ইলমের, সংখ্যার, লেবাসের, আমলের।

ক্ষমতা, অর্থের অহংকারে ইতিহাসে ফেরাউন, নমরুদ, সাদ্দাদ, নবী পুত্র কেনান, হিটলারসহ নাম না জানা অনেকেই আছে; যাদের পতনের একমাত্র কারণ অহংকার। 

আমল, ইলম, সংখ্যা ও লেবাসের অহংকারে ইতিহাসে পাওয়া যায় ইবলিশ, আবু জেহেল, উৎবা, শাইবা ও সমসাময়িক নামধারী আলেমদের ইতিহাস। 

অহংকারীদের পরিণতি

ইতিহাসের সমুদ্র থেকে অহংকারীদের পরিণতি সম্পর্কে কয়েক ফোঁটা জল নিয়েও আলোচনা করা হয় তাহলে তা  উন্মুক্ত মনের মানুষের জন্য যথেষ্ট। 

আবু জেহেল, প্রকৃত নাম আমর ইবনে হিশাম। মক্কায় হজ্জে খুৎবা দিতেন। দ্বীনে হানিফা, ঈসায়ী ধর্মের আন্তর্জাতিক পর্যায়ের ধর্মীয় পন্ডিত ছিলেন। যিনি আল্লাহ, রাসূল, মূসা, ঈসায় বিশ্বাসী ছিলেন।পালন করতেন আহকামে দ্বীনে হানিফা। তাওরাত, যাবুর,ইঞ্জিল কোন বিষয়ে সে নাই! শুধু দ্বীনে হানিফা নয় অন্যান্য ধর্মেও সমান পারদর্শী। ছিলেন সমাজপতি। প্রয়োজনে যোগ বিয়োগ করতেন ধর্মের বিধি বিধানে। আমর ইবনে হিশাম থেকে হয়ে গেলেন আবুল হাকাম বা জ্ঞানীদের পিতা।

দার-আন-নাদ্বায় নামক পরিষদে নাম লেখাতেই ৪০ বছর বয়স হওয়া লাগতো সেখানে আবু জেহেলের সেটা করলেন ৩০ বছর বয়সেই। ধর্মের ব্যাপারে কে লাগতে যায় তার সাথে! সত্য প্রকাশে ফাঁস হয়ে যাচ্ছে দ্বীনে হানিফার চোর আলেমের আলেম আবুল হাকাম সহ সমাজপতিদের গোমর। ছিলেন আবুল হাকাম হয়ে গেলেন আবু জাহেল।

রাসূলাল্লাহর বলেন,"আবু জেহেলকে যে আবুল হাকাম বলবে সে মারাত্মক ভুল করবে।"

অবশেষে মক্কার সবচেয়ে জ্ঞানী বলে বিবেচিত আবু জেহেল প্রথম যুদ্ধেই সংখ্যায়, শক্তিতে বেশী হয়েও মাত্র দুজন বালকের হাতে তার পুত্রের সামনেই মারাত্মকভাবে ধরাশায়ী হোন এবং মৃত্যুকালীনও সে তার অহংকার ত্যাগ করতে পারে নি।

আবু জেহেলের সাথে আজকের নামধারী কিছু আলেমদের মিল সবচেয়ে বেশী।

২০১৩ সালে আমরা দেখেছি তাদের সংখ্যার, ঈমানের জোরের আস্ফালন এবং পরিণতি।

সম্প্রতি ৭১ টিভি, ফ্রান্স, ভাস্কর্য ইস্যুতে আমরা দেখেছি তাদের মিথ্যা হুংকার এবং কার্যক্রমের সফলতা, তাদের সত্যবাদিতা, ঈমানের উপর অটলতা, বাদুরের মতো মুখ দিয়ে খেয়ে মুখ দিয়েই পায়খানা করা।এজন্যই গ্রাম্য একটা প্রবাদ আছে,"মোল্লার দৌড় মসজিদ পর্যন্ত।"

ইদানীং তারা যে আওয়াজটা বেশী দিচ্ছে সেটা হলো 'আলেমদের বিরুদ্ধে লাগতে যেও না।পরিণতি ভাল হবে না।' ইতিহাসকে নিজেদের মতো বর্ণনা করছে।

কিন্তু তারা যে নামধারী আলেম, কালি ছাড়া কলমের ন্যায় এটা তারা নিজেরাও জানে না। বুঝতে পারে না,বুঝার চেষ্টাও করে না।

আল্লাহ বলেন, "তাদের অধিকাংশই অজ্ঞ।"  (সূরা আনআম-৩৭)

আজ হেযবুত তওহীদ যখন মানবজাতিকে নির্ভেজাল তওহীদের দিকে ডাকছে, আল্লাহর বিধান প্রতিষ্ঠা করতে আল্লাহর দেয়া কর্মসূচির দিকে ডাকছে তখন তারা অহংকারে স্ফীত হয়ে বলে, কী এত্তো বড় কথা আমরা সঠিক পথে নাই! এতো আলেম-ওলামা তারা সবাই কি ভুল?

অথচ আল্লাহ বলেন, "অনেক মানুষ আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে, কিন্তু সাথে সাথে শিরকও করে।" (ইউসুফ - ১০৬)

"আর যদি আপনি পৃথিবীর অধিকাংশ লোকের কথা মেনে নেন, তবে তারা আপনাকে আল্লাহর পথ থেকে বিপথগামী করে দেবে। তারা শুধু অলীক কল্পনার অনুসরণ করে এবং সম্পূর্ণ অনুমান ভিত্তিক কথাবার্তা বলে থাকে।" (সুরা আনআম - ১১৬)

তারা হাজার হাজার জনতার সামনে অন্য মতের মানুষদেরকে ৯২ ভাগ মুসলমানের দেশ বলে হুংকার দেয়।

অথচ কয়েক শতাব্দী যাবৎ তারা নিজেরাই যে দেশ ছাড়া হচ্ছে, নিজের দেশেই নির্যাতিত হচ্ছে  এটা তারা জানে না বা জানলেও এতোটুকু চিন্তা করে না যে তারাও তাদেরই ধর্মের মানুষ।পরিণতি ঐরকম হতে শুধু সময়ের বাকি।

কথায় আছে, "নগরে আগুন লাগলে দেবালয় এড়ায় না।"

এই অহংকার শব্দের  আরবী হচ্ছে কিব্‌র (كبر)। বড়ত্ব, ঔদ্ধত্য, অহমিকা, আত্মশ্লাঘা, নিজেকে অন্যদের তুলনায় উত্তম ও উৎকৃষ্ট ধারণা করা। 

হাজার হাজার জনতার সামনে একজন আলেম আরেকজন আলেমকে বাহাসের চ্যালেঞ্জ করে এবং এই ঘোষণাও দেয় ৫ মিনিটও টিকতে পারবে না এবং সম্বোধন করার মধ্যে ন্যূনতম ভদ্রতাবোধ নেই।

প্রশ্ন করা যেতে পারে - মানুষ কেন অহংকার করতে পারে না?

মানুষ স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়।তাকে অন্যের মুখাপেক্ষী হতেই হয়। একমাত্র স্রষ্টাই স্বয়ংসম্পূর্ণ, অমুখাপেক্ষী। (সূরা ইখলাস-২)

হযরত আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত,তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘ইজ্জত-সম্মান হচ্ছে আমারই পোশাক এবং গর্ব-অহঙ্কার হচ্ছে আমারই চাদর। তাই যে ব্যক্তি এ দুয়ের কোনোটি নিয়ে টানাটানি করবে, তাকে আমি কঠোর শাস্তি দেবো।’ (সহিহ মুসলিম)

বন্ধুবান্ধবরা অনেক সময় ঠাট্টা মশকরা করে যেটা বিরক্তিকর হওয়া সত্বেও আমরা সহ্য করি।কিন্তু ঠাট্টার ছলে যদি লুঙ্গি ধরে টান দেয় তবে সেটা অবশ্য কেউ সহ্য করবে না।

তাই যারা নামধারী আলেমদের থেকে হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে শুনে প্রভাবিত হয়ে হেযবুত তওহীদের কাছ থেকে না শুনে ,যোগাযোগ না করেই সংখ্যা, ইলম, আমল আর লেবাসের অহংকারে স্ফীত হয়ে বিরোধিতা করছেন তাদের প্রতি আহ্বান থাকবে  - অহংকারীদের পরিণতি স্মরণ রাখার এবং একপাক্ষিকভাবে প্রভাবিত না হয়ে বক্তব্য শুনুন, জানুন, কোরআন, রাসূল সা. এর জীবনীর সাথে মিলিয়ে দেখুন।

এই জন্য রাসূলকে (সা) প্রথমেই বলা হলো "আপনি পড়ুন।" (সূরা আলাক্ব-০১)

আর সত্য বুঝার সুযোগ তারাই পায়, যারা মনোনিবেশ সহকারে কথা শুনে, অতঃপর যা উত্তম, তার অনুসরণ করে। তাদেরকেই আল্লাহ সৎপথ প্রদর্শন করেন এবং তারাই বুদ্ধিমান।"  (সূরা যুমার-১৮)

"পৃথিবীতে যারা অন্যায়ভাবে অহংকার প্রকাশ করে তাদেরকে অবশ্যই আমি আমার নিদর্শনাবলি থেকে বিমুখ করে রাখবো। (সূরা আ‘রাফ-৭)