প্রচলিত ইসলাম বনাম প্রকৃত ইসলাম

প্রকাশিত: জানুয়ারী ১১, ২০২১

প্রচলিত ইসলাম বনাম প্রকৃত ইসলাম
যদি বলা হয় এটা ইসলাম নয়, তাহলে প্রশ্ন আসবে ইসলাম কোনটা?

এটা প্রাসঙ্গিক এবং যৌক্তিক প্রশ্ন। কেউ যদি এই প্রশ্ন না করে তাহলে বলবো ধর্ম সম্পর্কে ইসলাম সম্পর্কে তার কোন মাথাব্যথা নাই। কিন্তু কথা হলো আমি কেন এটাকে ইসলাম বলছি না?

আমরা যখন ফেসবুক সার্চ বক্সে কোন একজন ব্যক্তির নামে সার্চ করি তখন তার ফটো বাদে তাকে খুঁজে পাওয়া মুশকিল। কারণ হাজারো নাম চলে আসে ঐ নামে। পূর্বপরিচিত না থাকলে খুঁজে পাওয়া দায়।

হয়তো আমার মতো হাজারো লোক আছে যাদের মনে আমার মতোই জিজ্ঞাসা ঘুরপাক খাচ্ছে,তাই মনের কথাগুলো খোলাসা করছি। 

যাইহোক, মূল কথায় আসি।কী কারণে এটাকে ইসলাম  মনে করছি না তার কারণগুলো ক্রমানুসারে তুলে ধরলাম।

১। সত্যের রূপ একটা মিথ্যার রূপ হাজারটা।

২। ইসলাম নিয়ে ইসলামপন্থীদের হাজারো পার্থক্য, মতানৈক্য, অযৌক্তিক, রাসূলালাহর সুন্নাহ বহির্ভূত কর্মকান্ড প্রমাণ করে তাদের পালন করা ইসলাম ইসলাম নয়।

৩। সর্বোপরি ইসলাম একটা জীবনব্যবস্থা(Complete code of life)

কিন্তু বিশ্বমুসলিম সমাজ সেটাকে সামষ্টিক জীবন থেকে প্রত্যাখ্যান করে ব্যক্তিগত জীবনে আবদ্ধ করে স্রষ্টার সম্মানকেই খাটো করেছে।ব্যক্তিগত জীবন বললেও সেই ভাগটা পার্সেন্টেরও কম।

কিছু বিষয় আছে যেগুলো এতোটাই  প্রমাণিত যে সূত্র, দলিল দেয়ার প্রয়োজন হয় না। যেমন- সূর্য। সূর্য যে আছে এটা লেখার পর দলিলের প্রয়োজন হয় না। তেমনি ইসলাম যে একটা পূর্ণাঙ্গ, সর্বশেষ চিরস্থায়ী ও নিখুঁত জীবনব্যবস্থা এবং সেটাও প্রমাণিত এটা লেখার পর দলিল দেওয়ার প্রয়োজন হয় না। কিন্তু আফসোস এই পথের দাবিদার অনেকেই তাদের নিজস্বতা সম্পর্কে অজ্ঞ। জন্ম, বেড়ে উঠা, মৃত্যু এতোটাই অজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যে স্রষ্টার আমানত সাথে নিয়েও স্রষ্টাকেই জানলো না। নামাজ পড়তে পড়তে কপালে কড়া পড়ে গেছে কিন্তু কেন নামাজ পড়ছে সেটা জানে না। একটা কলম উঁচিয়ে যদি কোটি মানুষের জিজ্ঞেস করা হয় উঁচিয়ে ধরা জিনিসটি কী? তাহলে সবাই কলমই বলবে, কেউ বলবে না সেটা কাঁচি। কারণ ঐ বিষয়ের পরিচয়, আকিদা সবার কাছে পরিষ্কার। 

সত্যের রূপ যেহেতু একটা, সেহেতু ইসলাম সম্পর্কে বিশ্ব মুসলিমদের কাছে প্রশ্ন করলে এক ও অভিন্ন উত্তরই আসবে, না আসাটা ব্যর্থতার পরিচায়ক । কিন্তু বিশ্ব মুসলিমদের কাছে যদি শুধু এই প্রশ্ন রাখা হয়, ইসলাম কী? তাহলে ১০ জনের থেকে অন্তত ৭ রকমের উত্তর পাওয়া যাবে।

আফসোস যে ইসলামের ক্ষেত্রে এমনটা হয়েছে। একটা বিষয় যতোটা সহজ সেই সহজ বিষয়কে সহজভাবে গ্রহণ করা ততোটা সহজ নয়।একটা সহজ বিষয়কে আমরা উম্মুক্ত মন নিয়ে গ্রহণ করাতো দূরে থাক শুনতে পর্যন্ত পারি না,শুনিনা। আবার না নাস্তিক হয়ে যাই।কী ঈমানের জোররে বাবা! 

এটা যে ইসলাম নয় তার প্রমাণ - 

আল্লাহর রসুল আখেরি যামানা সম্পর্কে বলেছেন, এমন সময় আসবে যখন-

(১) ইসলাম শুধু নাম থাকবে, 
(২) কোর’আন শুধু অক্ষর থাকবে,
(৩) মসজিদসমূহ জাঁকজমকপূর্ণ ও লোকে লোকারণ্য হবে কিন্তু সেখানে হেদায়াহ থাকবে না,
(৪) আমার উম্মাহর আলেমরা হবে আসমানের নিচে সবচেয়ে নিকৃষ্ট জীব,
(৫) তাদের তৈরি ফেতনা তাদের ওপর পতিত হবে।
 [হযরত আলী (রা.) থেকে বায়হাকী, মেশকাত]

চলুন দেখা যাক রাসূলাল্লাহর বর্ণিত সেই সময় এসেছে কিনা বা কতদূর।

ইসলাম শুধু নামে থাকবে

ইসলাম অর্থ শান্তি। যাদের সেই পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান সারা পৃথিবীতে কায়েম করে দুনিয়াবাসীকে শান্তি,ন্যায়-সুবিচার ও নিরাপত্তা দেয়ার কথা ছিল, রাসূলাল্লাহর উপাধী "বিশ্ববাসীর জন্য রহমতস্বরূপ" প্রমাণ করা কথা ছিল তারা নিজেরাই ইহুদি খৃষ্টানের পাতানো ফাঁদে পা দিয়ে বসে আছে।তাদের অকার্যকর ভাইকে শত্রু বানানোর সিস্টেমে শুধু পা-ই দৈই নি বরং সেটার জন্য রীতিমতো জান কোরবান করে চলছে।

তাদের নিজেদের দেশ,নারী,শিশু সবাইকে কচু কাটা করে ক্রমান্বয়ে দেশছাড়া করলেও বিবেকে এতোটুকুও বাধে না যে তারাও মুসলিম। সময়ের ধাপে আমরা কি নিরাপদ থাকতে পারবো?

অথচ ইসলাম সম্পর্কে  আল্লাহ বলেন,

নিশ্চয় আল্লাহর কাছে একমাত্র মনোনীত জীবনব্যবস্থা হলো ইসলাম।" [আল ইমরান, ৩ : ১৯]

‘কেউ যদি ইসলাম ছাড়া অন্য কোন জীবনব্যবস্থা চায় তা কখনো গ্রহণযোগ্য হবে না।’ [আল ইমরান, ৩ : ৮৫]

"তিনিই প্রেরণ করেছেন আপন রসূলকে হেদায়েত ও সত্য জীবনব্যবস্থা সহকারে, যেন এ জীবনব্যবস্থাকে অপরাপর জীবনব্যবস্থার উপর জয়যুক্ত করেন, যদিও মুশরিকরা তা অপ্রীতিকর মনে করে।"  [সূরা আত তাওবাহ্ - ৩৩, সূরা সফ-০৯,সূরা ফাতাহ-২৮]

"আজ আমি তোমাদের জন্যে তোমাদের জীবনব্যবস্থাকে পূর্নাঙ্গ করে দিলাম, তোমাদের প্রতি আমার অবদান সম্পূর্ণ করে দিলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্যে জীবনব্যবস্থা হিসেবে পছন্দ করলাম।" [সূরা মায়েদা-৩]

সুতরাং আজকের এই ইসলাম কালি শেষ হয়ে যাওয়া কলমের ন্যায় খোলস,ব্যক্তিগত বিশ্বাস,গাজাখুরি মিথ্যা কাহিনী আর বিভেদে ভরা আমল।ফল দুনিয়া ভরা অশান্তি।ইবলিশের চ্যালেঞ্জে  ইবলিশ জয়ী। ফেরেশতাদের আপত্তি বাস্তবে পরিনত হয়েছে।  [সূরা বাকারা-৩০]

এটাকে নাম সর্বস্ব ইসলাম না বলে উপায় আছে?

কোরআন শুধু অক্ষর থাকবে

আমরা জানি কোরআনের সংরক্ষক স্বয়ং আল্লাহ। [সূরা হিজর-০৯]

কোরআন অবিকৃত থাকলেও এর বিশেষ কিছু  অর্থ, প্রয়োগ কিন্তু অবিকৃত নেই। লক্ষ লক্ষ হাফেজ,মোফাসসের। যে আইন তারা কন্ঠস্থ করছে,কঠোর পরিশ্রম করে ইসলামী আইনজীবী হচ্ছেন (মুফতি) বিষ্ময়ের বিষয় হলো সেই আইনের কার্যকারিতা কোত্থাও নেই!!!

এই লেখাটা যখন লিখছি তখন আমার কাছে একজন একটা ফজিলতের  বই নিয়ে আসলেন যেটা তার বোন ছিড়ে উল্টাপাল্টা করে দিয়েছে। সে যারপরনাই বিরক্ত এবং গ্রাম্য ভাষায় গালাগালি করছে। আমি তাকে সামনে থাকা সুন্দর কোরআনটা দিতে চাইলে সে নিলো না। কারণ আমার কোরআনে উনার পরিচিত অনেক সুরাই নাই।

সে প্রতিদিন ঐ অযিফা পড়ে কিন্তু তার শিক্ষা তার ভেতরে ঢুকে নি।কারণ তার দরকার সওয়াব।সেই অক্ষরের কার্যকারিতা রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে তো নাই-ই চারিত্রিক পর্যায়েও নাই।

তাহলে কোরআন যে শুধু অক্ষরেই সীমাবদ্ধ আশা করি এব্যাপারে কারো কোন সন্দেহ থাকার কথা নয়।

মসজিদসমূহ জাঁকজমকপূর্ণ হবে

সময়ের চাহিদায় শুধু মসজিদ নয় সকল কিছুই জাঁকজমক হচ্ছে,জীবনযাত্রার মান উন্নত হচ্ছে। গ্রামগুলোতে ঘরের পিড়া ভাঙ্গা, শ্যাওলা গজালেও ঘরের ভেতরে ঢুকলে মনে হবে ঢাকায় আছি।এই পরিবর্তনটা সময়ের দাবি।এতেকিছু উন্নত হতে পারলে ইসলামী সভ্যতার প্রশাসনিক কেন্দ্রস্থল মসজিদ উন্নত হলে সমস্যা কোথায়? 

আসলে সমস্যা হলো বাক্যের শেষ অংশে। 

"লোকে লোকারন্য হলেও হেদায়াহ (সেরাতাল মুস্তাকিম /সঠিক পথ/Right direction) থাকবে না!”


কি সাংঘাতিক কথা যারা কিনা আল্লাহর জন্য মসজিদ জাঁকজমকপূর্ণ করলো, মসজিদে জায়গা পাওয়া যায় না সেখানে নাকি ইসলামের মূল যে জিনিস সেটাই থাকবে না!

হেদায়াহ যে নেই এটা তারা না জানলেও হেদায়াতের মূল অর্থকে পাল্টিয়ে মনে মন কলা খাওয়া কিন্তু থেমে নেই।একজন খারাপ নামাজ পড়া শুরু করলে তাকে বলে মুত্তাকী। কিন্তু সেই মুত্তাকীকে হেদায়েতে বদলানো হয়েছে সুকৌশলে।আর এটাই হেদায়াহ সুতরাং  জান্নাত এবার ঠেকায় কে!

আমার উম্মাহর আলেমরা হবে আসমানের নিচে সবচেয়ে নিকৃষ্ট জীব

এখানে আরেকটা হাদীস উল্লেখ করা যেতে পারে যেটা বহুল প্রচলিত এবং মনে হয় না এমন কোন লোক আছে যে শুনে নাই।

"আলেমগন নবীদের ওয়ারিশ।" [সুনানে ইবনে মাজাহ]

অর্থাৎ আলেমও ২ প্রকার। কারণ রাসূলাল্লাহ তো একমুখে ২ কথা বলতে পারে না।

বর্তমানে  কর্মক্ষেত্রের (মসজিদ,মাদ্রাসা) সল্পতা ও কর্মী (মাদ্রাসা ফারাগ) বাহুল্যতার কারণে মসজিদের পুরাতন ইমামের পেছনে নতুন, সুন্দর চেহারার,সুন্দর সুরের,উচ্চতর ডিগ্রীর  ইমাম লেগে যায়।

পাড়ায় পাড়ায় হাফেজ, মুফতি হওয়াতে যুগ যুগ ধরে যে লোকটি নামাজ পড়িয়ে আসলো,এলাকার সকলের প্রিয় মানুষ,যার আজানে মন বিগলিত হয়ে যায় তার পেছনে আ'ম লোকের নামাজ শুদ্ধ হলেও যারা আলেমে দ্বীন, কেরাতে সহীহ তাদের নামাজ শুদ্ধ হবে না। কারণ ইমামের কেরাতে টানের মাত্রা ঠিক নাই। তাই তারা নিজের পিতার পেছনে এক্তেদা না করে দুকদম হেটে পাশের পাড়ার মসজিদে যান।

এই বিষয়টুকুকে কিন্তু অবজ্ঞা করার সুযোগ নেই।কারণ তাদের ইসলামের নামে যা শেখানো হয়েছে তারা একান্তভাবে চাচ্ছে সেটাকে পালন করতে। কিন্তু আফসোস যে সেই শিক্ষাটা ছিল ভুল।কখনো যদি কেউ এদের ঈমানের, এদের ইসলামের প্রতি এই একাত্মতাটা প্রকৃত ইসলামের দিকে ঘুরিয়ে দিতে পারেন তাহলে বাকিটা ইতিহাস। ইসলামের স্বর্গযুগের সৃষ্টি এই ঘুরিয়ে দেয়ার মাধ্যমেই হয়েছিল।

আমরাতো আজ আরব কাফেরদের খারাপ দিকগুলো জানি। কিন্তু তাদের ভালেদিকগুলো নিয়ে আলোচনা হয় না।

জান কোরবান হয়ে যাবে তবু আমানতের  খেয়ানত হবে না, অতিথিয়তা, সত্যবাদিতা, প্রখর স্মৃতিশক্তি, কাব্যিক প্রতিভার অধিকারী আরবদের খারাপ আত্মাকে রাসূলাল্লাহ তওহীদের পরশে ঘুরিয়ে দিয়েছেন। বাদবাকিটা ইতিহাস।

দরকার শুধু সেই প্রকৃত জিনিসটা তাদের বুঝিয়ে দেয়া। যারা মাদ্রাসা পড়ুয়া তাদের মেধা, জ্ঞানের প্রতি আগ্রহ, স্মৃতিশক্তির প্রখরতা,বাগ্মীতায় অন্য সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষিতদের থেকে বেশী এটা উম্মুক্ত হৃদয়ের কেউ অস্বীকার করবে না।কিন্তু তারা তাদের মেধাকে আল্লাহর  দ্বীন প্রতিষ্ঠার কাজ বাদ দিয়ে সেই দ্বীনকে ভাগ করার (কুফরী) কাজে লাগিয়েছে।

বর্তমান সকল অশান্তির মূলে তাদের সেই কর্ম।যদি প্রখর মেধাকে দ্বীন প্রতিষ্ঠার কাজে লাগাতেন তাহলে রাসূলাল্লাহর উপাধির পূর্ণতা পেত।

এখানে আমি ফিকাহের সূক্ষ্ম বিশ্লেষণকে দায়ী করছি না,বন্ধও করতে বলছি না।কারণ কোন দেশের আইনের যদি সুক্ষ্ম বিশ্লেষণ না হয় তাহলে তা ন্যায় বিচারে কার্যকরী নয়। কিন্তু এই বিশ্লেষনের পূর্বে দরকার আকিদার। যে আকিদা তাদের হারিয়ে গিয়েছে।

আজ ইসলাম নিয়ে যা হয়েছে তা তথাকথিত আলেমদের কাজের ফল। রাসূলাল্লাহ এতো নাপাক জীব থাকতে এমনিতেইতে তো আর সর্বনিকৃষ্ট বলেন নি।

তাদের তৈরি ফেতনা তাদের ওপর পতিত হবে

অর্থাৎ ঐ আলেমরা যে ফেতনা তৈরি করবে তা তাদের উপরই পতিত হবে।এ বিষয়টা লেখার প্রয়োজনবোধ করছি না।তারপরও তারুণ্যের দৃষ্টিতে দেখা কিছু ঘটনা তুলে ধরছি।

পিতা দীর্ঘদিনের আমীর ও মসজিদের ইমাম। পিতার পেছনে পুত্র এক্তেদা করতে চায় না কারণ পিতার থেকে পুত্রে তেলাওয়াত সহীহ। কিছুদিন পর হাফেজ নিয়োগ দেয়া হলো এবং সেটাও একপ্রকার রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায়, কিছুদিন পর সেই ইমামও নাই। পিতা টুপি পাঞ্জাবি পরে ইজতেমায় যাবে পুত্র বাঁধ সাধলো।সা'দ সাবের দলে যাওয়া যাবে না।পিতার যুক্তি দোয়া করতে যাবো, এখানে কারা সা'দ কারা কী এইগুলার কি দরকার?

মাদ্রাসা দিনে-রাতে কী হচ্ছে, ওয়াজ মাহফিলগুলোতে কী হচ্ছে, রাজপথে কী হচ্ছে এটা জনগণের দেখা।আমার থেকেও বেশী দেখা।তাই এই বিষয়টা আর বাড়াচ্ছি না।

যারা কিনা শাইখুল হাদীস হয়ে, যে কিনা রাসূলাল্লাহর ঠোট নাড়ানোকে(!) জানে বাংলার তওহীদি জনতার হৃদয়ের স্পন্দন সে কিভাবে একবিংশ শতাব্দীতে এসে  তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে সত্যকে অস্বীকার করেন।

তাদের এক ডাকে লক্ষ ইসলামপ্রিয় তরুণ রাজপথে নামতে একমুহূর্ত ভাবে না তারা কিভাবে দুদিন আগের বলা সত্যকে দুদিন বাদেই মুখ পুছে না করেন।এই কী তাদের ঈমানী চেতনা!তারাই আমীরে তওহীদি জনতা। আমি শুধু এটুকু বলতে চাচ্ছি যে আপনাদের ইসলাম যদি প্রকৃতই হয়ে থাকে আর আপনারা যদি সেই ইসলামের ধ্বজাধারী হয়ে থাকেন তাহলে এমন দ্বিচারিতা কেন?

রাসূলুল্লাহ (সা) বলেন, “সবকিছুর মূল হল ইসলাম, আর ইসলামের খুঁটি সালাত, আর ইসলামের শীর্ষ পীঠ (চূড়া/ছাদ) হল জিহাদ।” [তিরমিযি:৩৫৪১]

তিনি আরো বলেছেন- ইসলাম একটি ঘর। এই ঘরের থাম, খুঁটি, স্তম্ভ হোচ্ছে সালাহ্; আর ছাদ হোচ্ছে জেহাদ [হাদীস- মুয়ায (রাঃ) থেকে আহমদ, তিরমিযি, ইবনে মাজাহ, মেশকাত] 

নিশ্চয়ই সেই ঘরের ভিত্তি তওহীদ তথা সার্বভৌমত্ব, কলেমা -আল্লাহ ছাড়া কোন হুকুমদ্বাতা নাই।

মোহাম্মদ (সা) আল্লাহর রাসূল।আজ সেই ঘরের ভিত্তিও নাই, ছাঁদও নাই।ঘরের উদ্দেশ্যই হলো রোদ-বৃষ্টি থেকে রক্ষা করা। যেটা করবে ছাঁদ, ছাঁদকে ধরে রাখতে খুঁটি, খুঁটির জন্য ভিত্তি।পরষ্পর পরষ্পরের সাথে অঙ্গাঙ্গী ভাবে জড়িত।আজ এই ঘরের  (ইসলাম) ভিত্তি, ছাঁদ কোনটাই নাই।আছে শুধু খুঁটি।

এখন কথা হলো এই যে যুক্তির পিঠে যুক্তি দিয়ে প্রমাণ করার চেষ্টা করছি রাসূলাল্লাহর বর্ণিত সেই সময় এখনই রাসূলাল্লাহর ইসলাম আর এই ইসলাম এক নয়, বিশাল লেখা লিখে ফেলছি, লেখক হয়ে গেছি।

কিন্তু এর সমাধানের পথই যদি অজানা থাকে তাহলে আমার এই ধারণা  মিথ্যা অহংকার ছাড়া কিছুই না।গ্রন্থের সাগরে আমি এক বিন্দু জল থেকেও নগন্য। তাহলে উপায়?

উপায়তো আছে কিন্তু সেই উপায় গ্রহণ করার মতো, সেই সহজ জিনিসকে সহজভাবে গ্রহণ করার মতো মানুষিকতা কি আমাদের আছে?প্রশ্ন রেখে গেলাম।

যাইহোক উপায়টা বলা যাক।

রাসূলাল্লাহ আরবেই সেই আল্লাহ বিশ্বাসী,কাফের, মোশরেকদের কলেমার উপর ঐক্যবদ্ধ করলেন এবং আসহাবদের (রা) বলে গেলেন, আল্লাহ আমাকে পাঁচটি কাজের নির্দেশ দিয়েছেন , আমি সেগুলাে তােমাদেরকে দিয়ে যাচ্ছি , যথা : 

১. সর্বদা ঐক্যবদ্ধ থাকো, 
২. নেতার আদেশ শােনাে, 
৩. নেতার আদেশ পালন করাে , 
৪. হিজরত করাে , 
৫. আল্লাহর রাস্তায় সংগ্রাম করাে ।

যে ব্যক্তি এই ঐক্যবন্ধনী থেকে একবিঘতও দূরে সরে গেল , সে যেন তার গর্দান থেকে ইসলামের রশি খুলে ফেলল , যদি না সে আবার ফিরে আসে ( তওবা করে ) । আর যে ব্যক্তি অজ্ঞানতার যুগের দিকে আহ্বান করল , সে নিজেকে মুসলিম বলে দাবি করলেও , নামাজ পড়লেও , রােজা রাখলেও জাহান্নামের জ্বালানি পাথর হবে । [হারিস আল আশআরী ( রা .) থেকে আহমাদ , তিরমিযী , মেশকাত , সহিহ আল জামি , সহিহ আত তারগীব ]

আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলাল্লাহ (সা) বলেন,"আমি তোমাদের মাঝে দুটি জিনিস রেখে যাচ্ছি যা অবলম্বন করলে তোমরা কখনোই পথভ্রষ্ট হবে না।তা হলো আল্লাহর কিতাব এবং আমার নীতি(و سنتي)।

ব্যাস্। হেযবুত তওহীদ এই আহ্বানটাই করছে। হেযবুত তওহীদ এই কথাটাই বলছে যে বর্তমানের প্রচলিত ইসলাম প্রকৃত ইসলাম নয়।এই কথা শুনে কেউ একবার ভাবে না যে  এরা আমাদেরই পাড়া-পড়শী,ভোর হলেই মুখ দেখাদেখি হয়, এরা হটাৎ করে এমন সর্বনাশা(!) কথা বলে কী করে। একবার শুনেই দেখি এরা আসলে কী চায়।

তাই পাঠকদের কাছে অনুরোধ আপনার হিসাব এমনিতেই হবে না। আপনাকে দেয়া আল্লাহর  আমানতের জন্যই হিসাব হবে। সেই আমানতের, আক্বলের ব্যবহার করবেন কি করবেন না সেই স্বাধীনতা আপনার। এই স্বাধীন ইচ্ছাশক্তির জন্যই আপনি মালায়েক না হয়ে আল্লাহর প্রতিনিধি (خليفۃ)  [সূরা বাকারা-৩০]। একাধারে সৃষ্টির সেরা জীব আবার নিকৃষ্ট। 

তাই অনুরোধ করবো ঈমান, আমলের তো অনেক খেদমত করলেন এখন একটু আকিদার জন্য আক্বলের খেদমত করেন।

শেষ করছি আল্লাহর বাণী দিয়ে, "যারা মনোনিবেশ সহকারে কথা শুনে, অতঃপর যা উত্তম, তার অনুসরণ করে। তাদেরকেই আল্লাহ সৎপথ প্রদর্শন করেন এবং তারাই বুদ্ধিমান।" [সূরা যুমার-১৮]