মুবাহেলা কি অপরাধ শনাক্তের পদ্ধতি হতে পারে?

প্রকাশিত: এপ্রিল ০৭, ২০২১

মুবাহেলা কি অপরাধ শনাক্তের পদ্ধতি হতে পারে
মুবাহেলা হলো একটি চ্যালেঞ্জ। বিশ্বনবী খ্রিস্টানদের প্রতিনিধিদলকে এই চ্যালেঞ্জ দিয়েছিলেন। বলেছিলেন তোমরা তোমাদের পরিবার নিয়ে নির্দিষ্ট একটি স্থানে আসো, আমি আমার পরিবার নিয়ে আসব। তারপর আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করব- আমাদের মধ্যে যে পক্ষ মিথ্যা বলছে তাদের উপর তুমি লানত বর্ষণ কর! খ্রিস্টান প্রতিনিধিদল রসুলাল্লাহর এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণের সাহস করেনি। তাদের মধ্যে দুর্বলতা ছিল এবং তারা বিশ্বনবীর আত্মবিশ্বাস দেখে ভয় পেয়েছিল। বস্তুত মুবাহেলার চ্যালেঞ্জ কাকে দেওয়া যায় ও কেন দেওয়া যায়- সেটা এই ঘটনা থেকেই কিন্তু স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়। এই চ্যালেঞ্জ শুধুমাত্র ইসলামের অবিসংবাদিত নেতাই দিতে পারেন এবং দিতে পারেন এমন একজন ব্যক্তিকে যিনি অপর কোনো সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব করেন। যিনি চ্যালেঞ্জে হারলে প্রতীয়মান হবে যে, ওই সম্প্রদায়ের দাবি মিথ্যা, আর ইসলাম সত্য।

কিন্তু ইদানীং দেখা যাচ্ছে মুবাহেলা বিষয়টাকে খেলো জিনিস বানিয়ে ফেলা হচ্ছে। ইসলামী শরিয়তের দৃষ্টিতে শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে বিবেচিত হয় এমন কাজের অভিযোগ ওঠার পর নিজেকে নির্দোষ প্রমাণের জন্য মুবাহেলার চ্যালেঞ্জ দেওয়া হচ্ছে! তার মানে মুবাহেলাকে বিচারিক পদ্ধতির অংশ বানিয়ে দেওয়া হচ্ছে, যা স্পষ্টত হাস্যকর বিষয়। 

দীনের সত্য-মিথ্যা নির্ণয়ের পদ্ধতিকে অপরাধের সত্য-মিথ্যা নির্ণয়ের পদ্ধতি বানিয়ে দিলে তো বিচারব্যবস্থার কোনো প্রয়োজনই থাকবে না। চোর-ডাকাতও মোবাহেলার চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলবে- যদি আমি চুরি/ডাকাতি করে থাকি তাহলে আমার উপর আগামী এক মাসের মধ্যে গজব পড়বে! গজব পড়লে প্রমাণিত হবে আমি চোর/ডাকাত, আর গজব না পড়লে প্রমাণিত হবে আমি নির্দোষ! 

একইভাবে ধর্ষক বা খুনীও নিজেকে নির্দোষ প্রমাণের প্রয়াস পাবে মুবাহেলার চ্যালেঞ্জ জানিয়ে! সেক্ষেত্রে বিচারব্যবস্থার কোনো প্রয়োজন থাকবে না; অথচ বিশ্বনবীর যুগে আলাদা বিচারব্যবস্থা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত ছিল। সে যুগের কোনো অপরাধের বিচারপ্রক্রিয়ায় মুবাহেলা পদ্ধতি অনুসরণের ঘটনা খুঁজে পাওয়া যায় না। 

কাজেই যারা মুবাহেলার চ্যালেঞ্জ দিয়ে কোনো অপরাধ থেকে দায়মুক্তির চেষ্টা করছেন তারা যে শাস্তি থেকে বাঁচতে চাচ্ছেন তাতে সন্দেহ নেই। অথচ বিশ্বনবীর সাহাবীরা কোনোদিন শাস্তি থেকে বাঁচতে চাইতেন না, বরং শাস্তি গ্রহণ করে দুনিয়াতেই পবিত্র হতে চাইতেন, যাতে পরকালে আল্লাহর কাছে শাস্তি পেতে না হয়। ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা তাদেরকে সেভাবে গড়ে তুলেছিল। তারা নিজেরা এসে রসুলাল্লাহর কাছে নিজেদের অপরাধ বর্ণনা করে শাস্তি দাবি করতেন। শাস্তি না দেওয়া পর্যন্ত মসজিদের খুঁটিতে নিজেকে বেঁধে রাখার ঘটনাও ঘটেছে।